শরীয়তপুর-ঢাকা সড়কের নির্মাণ কাজ চার বছরেও সম্ভব হয়নি

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
বিস্তারিত জানতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ক্লিক করুন
Advertisement

সুমন তালুকদার, (শরিয়তপুর):

শরীয়তপুর-ঢাকা সড়কের নির্মাণ কাজ দীর্ঘ চার বছরেও সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। মূলত ভ‚মি অধিগ্রহণ সংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলোই এখন সড়ক নির্মাণে মূখ্য প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। তিনটি প্যাকেজের মধ্যে একটি প্যাকেজের সন্তোষজনক কাজ সম্পন্ন হলেও বাকি দুটি প্যাকেজের ভূমি এখন অবধি সম্পূর্ণ বুঝে না পাওয়ায় কাজ শেষ হওয়ার সময়সীমা নিয়েও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। আর সড়কের কাজ শেষ না হওয়ায় বছরের পর বছর ধরে ভোগান্তি পোহাচ্ছে ঢাকামুখী সকল যাত্রীরা। অতি দ্রæত সমস্যা সমাধান করে সড়কের কাজ দ্রæত শেষ করার তাগিদ তাদের। আর সকল জটিলতা কাটিয়ে সড়কের সম্পূর্ণ কাজ শেষ করতে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস সংশ্লিষ্ট দপ্তরের।

জেলার সড়ক ও জনপদ বিভাগ সূত্র জানায়, ২০২১-২২ অর্থবছরে শরীয়তপুর জেলা শহর থেকে নাওডোবা পদ্মা সেতুর গোলচত্ত¡র পর্যন্ত ২৭ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ কাজের কার্যাদেশ দেয় সড়ক বিভাগ। যার ব্যায় ধরা হয় ১ হাজার ৬৮২ কোটি টাকা। তিনটি প্যাকেজে সড়কের কাজ বুঝে নেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো। পরবর্তীতে দুই দফা কাজের সময়সীমা বৃদ্ধি করে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়ছে ২০২৬ সালের জুন মাসে। এরমধ্যে শরীয়তপুর সদর থেকে জাজিরা টিএন্ডটি পর্যন্ত একটি অংশের সাড়ে ১৩ কিলোমিটার সড়কের কাজ এগিয়ে গেলেও ধীরগতি টি এন্ড টি মোড় থেকে পদ্মাসেতুর নাওডোবা গোলচত্বর পর্যন্ত বাকি সাড়ে ১৩ কিলোমিটার অংশের নির্মাণ কাজ। মূলত এই অংশটির ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতা এবং ভূমি বুঝে না পাওয়ায় কাজ এগোচ্ছে না। এই অংশের সার্ফেসিং কাজ হয়েছে চার কিলোমিটার অংশের। আরও তিন কিলোমিটার অংশের সার্ফেসিং কাজ প্রস্তুত করা হয়েছে। এছাড়াও বাকি আরেকটি অংশে দুটি সেতুর অপ্রোচওয়ের সড়ক নির্মাণের অংশে ভূমি দখলে বুঝে না পাওয়ায় কাজ থমকে আছে। এদিকে সড়কে বৃষ্টিপাত ও ভারী যানবাহনের চাপে সেই সার্ফেসিং অংশগুলোও নষ্ট হয়ে সৃষ্ট হয়েছে খানাখন্দে। এতে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে পন্য ও যাত্রীবাহী পরিবহন। এছাড়াও যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার পাশাপাশি প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। আর চালক কিংবা যাত্রীরা গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না যথাসময়ে। এমন চরম ভোগান্তি থেকে মুক্তি চান সড়ক চলাচলকারী যাত্রী, চালক ও স্থানীয়রা।

বড় কৃষ্ণনগর এলাকার রফিক মুন্সি নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, আমরা তিন বছর ধরে এই ভোগান্তির মধ্যে বসবাস করছি। আমাদের স্বজনরা কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত জাজিরা উপজেলা হাসপাতালে নিতে পারিনা। সড়কের অবস্থা এতোটাই বেহাল যে যানবাহন উল্টে যায়। আমরা পদ্মা সেতুর কাছের এলাকার লোকজন হলেও খুবই অবহেলিত রয়ে গেলাম। আমরা এই ভোগান্তির থেকে মুক্তি চাই। সড়কটির কাজ যেন সময়সীমা না বাড়িয়ে দ্রুত সম্পন্ন হয়।

একটি কুরিয়ার সার্ভিসের গাড়িচালক রিপন মিয়া বলেন। তিনি পিকআপ ভ্যানের সাহায্যে পণ্য গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দিয়ে থাকেন। তবে সড়কটির বেহাল দশার কারণে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পণ্য গ্রাহকের কাছে পৌঁছাতে পারেন না। এমনকি ভেঙে যায় মূল্যবান মালামালও। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির এমন দশায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এই গাড়িচালক। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই রাস্তার কাজ এভাবেই পড়ে আছে। খানাখন্দের কারণে যান্ত্রিক ত্রুটি ও আমাদের মালামালগুলো নষ্ট হয়ে যায়। রাস্তার খারাপ থাকার কারণে আমরা সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারি না। সরকার যদি এই সড়কে একটু নজর দিতো তাহলে আমরা জেলাবাসী ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতাম।

রিপন মিয়ার মতো একই অভিযোগ সবজি বহনকারী ট্রাকের চালক শামিম হাওলাদার বলেন। শরীয়তপুরের কাজিরহাট চাষিবাজার ও জয়নগর থেকে আমরা বিভিন্ন কাচামাল ও সবজি ঢাকা শহরে নিয়ে যাই। তবে যাওয়ার একটি মাত্রই সড়ক রয়েছে তা কাজিরহাট হয়ে নাওডোবা পদ্মাসেতু গোলচত্ত¡র। তবে এই সড়কটির কাজ পদ্মা সেতুর চালুর পর পর হওয়ার কথা থাকলেও কয়েকবছর ধরে তা শেষ করতে পারেনি। আমরা মনে করি এগুলো গাফিলতি। এভাবে চললে একযুগেও তারা কাজ শেষ করতে পারবে না।

এদিকে সড়কটি নিয়ে সবচাইতে বেশি অভিযোগ বাস চালকদের। কেননা সড়কের ভঙ্গুর দশায় সবচাইতে ক্ষতিগ্রস্ত এই খাদটি। তাদের প্রতিনিয়ত গাড়ির যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে লাখ লাখ টাকার লোকসান গুনতে হচ্ছে। তাছাড়া সঠিক সময়ে যাত্রীনিয়ে ঢাকায় পৌঁছাতেও বেগ পেতে হচ্ছে। বাসচালক আব্দুল রহমান বলেন, আমাদের নতুন গাড়ির যন্ত্রাংশ যেখানে পাঁচ বছর ভালো থাকার কথা, সেখানে দুই বছর হতে না হতেই সব নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। গাড়ি চাকা প্রতিনিয়ত লিকেজ হচ্ছে, বডির পাত ভেঙে যাচ্ছে। এই রুটে গাড়ি চালিয়ে আমাদের লাভের চাইতে ক্ষতির পরিমান অনেক বেশি হচ্ছে। আমাদের একটাই দাবী, দ্রুত সড়কটির কাজ শেষ করা হোক।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জেলার সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ নাবিল হোসেন বলেন, আমাদের তিনটি প্যাকেজের মধ্যে একটি প্যাকেজের কাজ নব্বই ভাগ শেষ হয়েছে। দ্বিতীয় প্যাকেজের দুটি সেতুর এপ্রোচ সড়ক ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় আটকে আছে। সবচাইতে কাজ কম হয়েছে তৃতীয় প্যাকেজ তথা টিএন্ডটি মোড় থেকে নাওডোবা পর্যন্ত। আমরা অধিকাংশ জায়গায় ভূমি বুঝে না পাওয়ায় কাজ এগোতে পারছি না। কিছু কিছু জায়গায় এলএ কেসের সমস্যা সমাধান হলেও দখলে যেতে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। আগামী বছরের জুন পর্যন্ত কাজের সময়সীমা রয়েছে। তবে আমাদের মনে হচ্ছে কাজের সময়সীমা আরও একবছর বাড়াতে হতে পারে। আমরা যেই অংশে ভূমি বুঝে পাবো সেই অংশে কাজ শুরু করবো।

ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতা নিরসনে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস জেলা প্রশাসনের। শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক তাহসিন বেগম বলেন, আমরা কেসগুলো মন্ত্রণালয়ের পাঠাচ্ছি, সেগুলো অনুমোদন হয়ে আসবে। অনেকের ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়ে গেছে। আমরা জটিলতা কাটিয়ে বাকি ভূমিগুলো অচিরেই সড়ক বিভাগকে বুঝিয়ে দিবো।

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
বিস্তারিত জানতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ক্লিক করুন
Advertisement

দৈনিক আমাদের কণ্ঠ