নিসা আক্তার দিনাঃ
ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে ভারতে পালিয়ে যাওয়া বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মামাতো ভাই ও আওয়ামী লীগ নেতা শেখ অলিদুর রহমান হীরাকে গ্রেপ্তার হয়েছে।
বুধবার (২৩ জুলাই) দিবাগত রাতে রাজধানীর ভাটারা থানার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব ১ এর সদস্যরা। পরে তাকে উত্তরা পশ্চিম থানায় হস্তান্তর করা হয়।
গ্রেপ্তার শেখ অলিদুর রহমান হীরা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচাতো মামা শেখ আকরাম হোসেনের ছেলে। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য এবং টুঙ্গিপাড়া পৌর আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ছিলেন।
এতথ্য মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আমাদের কন্ঠকে নিশ্চিত করেছেন র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র্যাব-১) এর কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট মোহাম্মদ জাকিউল করিম।
তিনি বলেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র জনতার উপর হামলায় প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন শেখ হীরা।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র জনতার উপর রাজধানী ডিএমপির কোতয়ালী, রামপুরা, উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকাসহ গোপালগঞ্জ, খুলনা জেলার দিঘলিয়া ও ফুলতলা এলাকায় তার নির্দেশে মারাত্মক অস্ত্র নিয়ে ছাত্র জনতার মিছিলে হামলা করে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। পরে শেখ হীরার বিরুদ্ধে ঢাকার ডিএমপির একাধিক থানা সহ খুলনা ও গোপালগঞ্জ থানায় মামলা হয়।
জাকিউল করিম আরও বলেন, মামলা হওয়ার পর থেকে র্যাব তার প্রতি গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। কিন্তু গ্রেপ্তার এড়াতে বিভিন্ন জায়গায় পালিয়ে ছিলেন তিনি। পরে বুধবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভাটারা থানার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে শেখ হীরাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে তাকে উত্তরা পশ্চিম থানায় হস্তান্তর করে র্যাব। বৃহস্পতিবার তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠায় পুলিশ।
অপরদিকে গ্রেফতারকৃত শেখ অলিদুর রহমান হীরার বিষয়ে জানতে তার নিজ উপজেলা টুঙ্গিপাড়া সরজমিন পরিদর্শনে গেলে বেরিয়ে আসে টেন্ডারবাজি ও ভূমিদস্যু তার নানান অনিয়ম। ভুক্তভোগীরা আমাদের কন্ঠকে জানান, শেখ হিরা গত ১৬ বছর ধরে শেখ হাসিনা ও তার চাচা টুঙ্গিপাড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র শেখ মির্জার ক্ষমতার অপব্যবহার করে এলাকার নিরিহ মানুষের বসতভিটা ও কৃষি জমি জবরদখল করেছে। ঠিকাদার হান্নান শেখ বিভিন্ন ঠিকাদারদের পাওয়া কাজ ছিনিয়ে নিয়েছেন। প্রতিবেশীরা জানান, আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার আগে তাঁদের বাড়িতে ভাঙ্গা একটা একতলা বিল্ডিং ছিল। পরে আওয়ামী লীগ সরকারে এলে শেখ হিরা বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও দালালিয়করে কোটিপতি বনে যান। পুরাতন বিল্ডিং এর পাশে গড়ে তুলতে আলিশান ডুপ্লেক্স বাড়ি। যা তৈরির জন্য উন্নত টাইলসও পাথর আনেন বিদেশ থেকে। এভাবেই তিনি ধিরে মেতে ওঠেন ভূমি দখলের নেশায়। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন তার ভয়ে কেউই মুখ খুলতে সাহস পায়নি।
জানা গেছে টুঙ্গিপাড়ার সোনাখালী বিলে কৃষি জমি নামমাত্র মূল্যে ক্রয় করার পাশাপাশি নিরিহ মানুষের জমি জবর দখল করে তৈরি করেছেন কৃষি প্রকল্প।
প্রতিবেশী সোহরাব হোসেনদের পৈতৃক ভিটেবাড়ি জাল দলিল করে জবর দখল করেছে। পাশাপাশি ইটের দেয়াল দিয়ে তাদের যাতায়াত পথও বন্ধ করে রেখেছে এই আওয়ামী লীগ নেতা। এবিষয়ে সোহরাব হোসেন আইনের দারস্ত হলেও এখন পর্যন্ত ন্যায় বিচার পাইনি।
এছাড়াও শেখ হিরার বাড়ির অপজিটে ঝর্না বেগম, শিউলি বেগম, নিরু বেগমদের পৈত্রিক ভিটা দখল করার চেষ্টা চালিয়ে ছিল। এলাবাসী জানান, শেখ পরিবারের বাইরের কেউকে নামের শুরুতে শেখ পদবি লিখতে বাধা সৃষ্টি করতেন গ্রেফতারকৃত এই আওয়ামী লীগ নেতা শেখ হিরা।
এ সকল অভিযোগের বিষয়ে জানতে শেখ অলিদুর রহমান হীরার বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে তার তৈরি করা আলিশান ডুপ্লেক্স বাড়ি থাকার সত্যতা পাওয়া গেছে।