শ্রীপুরের শিশু আনাছ হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
বিস্তারিত জানতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ক্লিক করুন
Advertisement

মোঃ সেলিম (শ্রীপুর) গাজীপুর:
গাজীপুরের শ্রীপুরে আলোচিত শিশু আনাছ (৪) হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে গাজীপুর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী এই শিশুর হত্যাকারী মোমেন খাঁ। সে শিশু আনাছদের বাড়ীর গৃহকর্মী শাহিনূর বেগম ওরফে হাসিনার (৩০) পরকিয়া প্রেমিক। মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৯টায় গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গোয়েন্দা) আমিনুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
শিশু আনাছ হত্যাকারী মোমেন খাঁ শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ী ইউনিয়নের চিনাশুকানিয়া মধ্যপাড়া (নতুন বাজার) গ্রামের মোতালেব খাঁর ছেলে। ঘটনার পর থেকে সে পলাতক রয়েছে। শাহিনূর বেগম ওরফে হাসিনা চিনাশুকানিয়া (মধ্যপাড়া) গ্রামের নজরুল মোল্লার স্ত্রী এবং লক্ষèীপুর জেলার কমলনগর উপজেলার চরজগবন্ধ গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে। রবিবার (৯ নভেম্বর) রাতে সন্দেহজনক হওয়ায় গৃহকর্মী ও তার স্বামী নজরুল মোল্লাকে আটক করে পুলিশ।
ভিকটিম শিশু আনাছ খান (৪) শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ি ইউনিয়নের চিনাশুকানিয়া মধ্যপাড়া (নতুন বাজার) গ্রামের সৌদি প্রবাসী আল-আমিন খান ও লিজা আক্তার দম্পতির দ্বিাতীয় ছেলে। সে স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেনে শিশু শ্রেণিতে লেখাপড়া করতো।
শাহিনুর বেগমের বরাতে হত্যাকান্ডের বর্ণনা দিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলাম বলেন, আনাসদের বাসায় গৃহপরিচারিকা হিসেবে শাহিনুর দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। এ সুবাদে শাহিনুরের শিশু সন্তানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে আনাসের। প্রায়ই দুই শিশু একসঙ্গে খেলাধুলা করতো। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৮টার দিকে বাইসাইকেল নিয়ে শাহিনুরের ছেলের (৫) সঙ্গে খেলার জন্য তাদের বাড়িতে যায় আনাস। কিছুক্ষণ পর দাদি উম্মে কুলসুম তাকে খুঁজতে ওই বাড়িতে যান। শাহিনুর জানান আনাস তাদের বাড়িতে সাইকেল রেখে চলে গেছে। এরপর বিভিন্ন স্থানে খুঁজেও সন্ধান পায়নি পরিবার। এ ঘটনায় শুক্রবার (৭ নভেম্বর) রাতে শ্রীপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন শিশুর দাদা হাসেন আলী খান।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও বলেন, জিডির পর শিশুটিকে উদ্ধারে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তদন্ত শুরু করে। সন্দেহভাজন হিসেবে শাহিনুর এবং তার স্বামী নজরুল ইসলামকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে শাহিনুর জানান পাশের বাড়ির মোমেনের সঙ্গে পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল তার। শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে স্বামী নজরুল কাজের জন্য বাড়ির বাইরে যান। এ সুযোগে মোমেন সকাল ৮টার দিকে শাহিনুরের ঘরে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে জড়ান। সকাল সোয়া ৮টার দিকে আনাস তাদের বাড়ির উঠানে সাইকেল রেখে শাহিনুরের ছেলেকে খুঁজতে ঘরে ঢুকলে মোমেন ও শাহিনুরকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলে। তখন মোমেন আনাসের গলা টিপে ধরে খাটের নিচ থেকে কাঁচি নিয়ে ডান চোখে ঢুকিয়ে দিলে সেখানেই মৃত্যু হয়। শেষে লাশ কোলে নিয়ে বাড়ির উত্তর পাশের বাঙ্গালপাড়া বিলে ফেলে দেন। এ সুযোগে আনাসের সাইকেল বাড়ির পাশের রাস্তায় রেখে হত্যায় ব্যবহৃত কাঁচি ধুয়ে রান্নাঘরের চালে রেখে দেন শাহিনুর। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার (১০ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিল থেকে লাশ উদ্ধার এবং রান্নাঘর থেকে হত্যায় ব্যবহৃত কাঁচিটি উদ্ধার করে ডিবি পুলিশ।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলাম আরও বলেন, মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) বিকেলে আদালতের মাধ্যমে শাহিনূর বেগমকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং পলাতক আসামী মোমেনকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশ অভিযান অব্যাহত আছে। গৃহকর্মীর স্বামী নজরুল মোল্রা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। শিশু আনাছ হত্যাকান্ডে এখনো পর্যন্ত নজরুল মোল্লার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি এবং তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। #

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
বিস্তারিত জানতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ক্লিক করুন
Advertisement

দৈনিক আমাদের কণ্ঠ