নিসা আক্তার দিনা :
গোপালগঞ্জে সরকারি নিয়ম নীতি উপেক্ষা ও অর্পিত দায়িত্ব পালন না করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে রমরমা ব্যবসা করার অভিযোগ উঠেছে সহকারী শিক্ষা অফিসার (এটিও) কে. এম. ইউসুফের রিুদ্ধে। কোটালীপাড়া উপজেলা ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, এই শিক্ষা কর্মকর্তা তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য সরকারি অর্পিত দায়িত্ব ও কর্তব্য যথাযথ ভাবে পালন করছেন না। তিনি অধিকাংশ সময়ই তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সময় দেন।
এটিও ইউসুফ বর্তমানে গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার পিঞ্জুরি ক্লাস্টারে কর্মরত আছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক আমাদের কন্ঠ কে জানিয়েছেন, এটিও কে. এম. ইউসুফ প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের সময় বিভিন্ন চাকরি প্রত্যাশীদের কাছ থেকে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে লক্ষ লক্ষ নগদ টাকা, ফাঁকা চেক ও স্ট্যাম্প নিয়ে প্রতারণা করেছে। এছাড়াও এই শিক্ষা অফিসার টুঙ্গিপাড়ায় কর্মরত থাকা অবস্থায় নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগে সাময়িক ভাবে বরখাস্ত হয়েছিল।
অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সরেজমিন পরিদর্শন করে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে দৈনিক আমাদের কন্ঠের জেলা প্রতিনিধি। সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে গোপালগঞ্জ শহরের চাঁদমারি রোডে ২৪২ নং হোল্ডিং এ রাইয়ান মডার্ন লন্ড্রি অ্যান্ড ড্রাই ক্লিন নামের প্রতিষ্ঠানটি সহকারী শিক্ষা অফিসার (এটিও) কে. এম. ইউসুফ পরিচালনা করছেন। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটির ভিজিটিং কার্ডেও পরিচালক হিসেবে কে. এম. ইউসুফের নাম রয়েছে। তবে উক্ত প্রতিষ্ঠানটির কোন ট্রেড লাইসেন্স নেই। কস্তুরী নামের এক ভুক্তভোগী গ্রাহক সাংবাদিকদের জানান প্রতিষ্ঠানটি আধুনিক ভাবে সাজানো গোছানো থাকলেও দক্ষ টেকনিশিয়ান না থাকায় অনেক গ্রাহকের দামি পোশাক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গত ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে আমার সাড়ে ৮ হাজার টাকা মূল্যের একটি জামদানি শাড়ি নষ্ট করেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা কে. এম. ইউসুফ দৈনিক ভোরের দর্পণ পত্রিকার সাংবাদিক সাইফুর রহমানকে মোবাইল ফোনে হুমকির সুরে বলেন, আপনারা যা পারেন লিখেন। আমি এগুলোকে তোয়াক্কা করি না।
গোপালগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা এম. রকিবুল ইসলাম আমাদের কন্ঠ কে বলেন, রাইয়ান মডার্ন লন্ড্রি অ্যান্ড ড্রাই ক্লিনের নামে আমাদের দপ্তর থেকে কোন ট্রেড লাইসেন্স নেয়নি। ট্রেড লাইসেন্স না নিয়ে পৌর এলাকায় কোন প্রকার ব্যবসা করার সুযোগ নেই। দ্রæততম সময়ের মধ্যে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কোটালীপাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (টিও) শেখর রঞ্জন ভক্ত বলেন, কোন সরকারি চাকুরিজীবীর ব্যবসা করার সুযোগ নেই। এটিও ইউসুফের ব্যবসা বিষয়ে আমার জানা নেই। যদি তিনি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান করে থাকেন তাহলে দাপ্তরিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ডিপিও) মোছাঃ জোৎস্না খাতুন বলেন, প্রজাতন্ত্রের কোন কর্মকর্তার ব্যবসা করার সুযোগ নেই। বিষয়টি আমরা তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।