নিজস্ব প্রতিবেদক-
হিজড়াদেরকে ‘বিরক্তি’ বা ‘আতঙ্ক’ হিসেবে দেখেন না এমন মানুষ হয়তো খুঁজে পাওযা মুস্কিল। বিশেষত, ঢাকায তো কথাই নেই। সাধারণ মানুষের চলাচলের জাযগা যেমন – পার্ক, রাস্তা ও গণপরিবহণে রয়েছে হিজডাদের সরব উপস্থিতি। মুখের সামনে অতর্কিতে হাত বাড়িয়ে অথবা গায়ের উপরে প্রায় পড়তি পড়তি হয়ে তারা টাকার আবদার ধরেন। নারী-পুরুষ বা তরুণ-তরুণীকে একত্রে পেলেই তাদেরকে হিজড়ারা স্বামী-স্ত্রী বা প্রেমিক-প্রেমিকা ঠাওরে রসালো মন্তব্য ছোঁড়েন এবং জবরদস্তিমূলক টাকা আদায় করেন। আর টাকা না দিলে অশ¬ীল-অশ্রাব্য ভাষায় চেঁচামেচির ঘটনাও নিত্য ঘটছে। টাকা না দিলে, এমনকি কখনো-কখনো পুরুষের স্পর্শকাতর অঙ্গের দিকে হাত বাড়িয়ে দেযার ঘটনাও ঘটে। কাজেই হিজড়ারা যে, আমাদের এই সমাজে একটা বিড়ম্বনার নাম তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
রাজধানী শহরসহ বিভিন্ন নগর-মহানগর কিংবা জেলা শহর এলাকায়ও হিজড়াদের চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ। ব্যবসা বানিজ্যের প্রতিষ্ঠান থেকে শুরুকরে বাসা বাড়িতে গিয়েও নিয়মিত চলছে হিজড়া কানেকশন। এমনকি অফিস আদালতেও রয়েছে তাদের সরব উপস্থিতি । ফলে তাদের কাছে একরম জিম্মি হয়ে পড়েছে সাধারন মানুষ।
রাজধানীর শহরতলী দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জের আগানগর ইস্পাহানী এলাকার নববধু মিতু আক্তার বলেন, সম্প্রতি তার ৭ দিনের বাচ্চাকে একটি হিজড়া দল জিম্মি করে ৫ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। পরে স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে ৩ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়। হাজারীবাগ এলাকার মাজহারুল ইসলাম জানান, কিছু দিন আগে ৪-৫ জন হিজড়া হঠাৎ তাদের বাসায় এসে হামলে পড়ে। তারা পাশের ফ্ল্যাট থেকে জমজ বাচ্চার জন্য ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। পরে কাকুতি-মিনতি করে ৫ হাজার টাকা পরিশোধ করে রক্ষা পায়। রাজধানীর ফকিরাপুল এলাকার অধিবাসী আবু হানিফ জানান, হিজড়াদের অত্যাচারের ভয়ে তার ছোট শিশুর কাপড় বারান্দায় শুকানোর জন্য দিতে সাহস পাই না। এমন অভিযোগ আরো অনেক এলাকার সাধারণ মানুষের।
এব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তা বলেন,এটা এক ধরনের চাঁদাবাজী। কর্মকর্তারা আরো বলেন, ২০১৪ সালে ভারতের সুপ্রিমকোর্ট তাদের তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। সে সুবাদে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানেও হিজড়ারা তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত। তাদেরকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করলে হিজড়াদের অপরাধের মাত্রা কমে যাবে। তাছাড়া রাষ্টীয় ভাবেই এদেরকে সমাজের মূল¯্রােতে নিয়ে আসা উচিত বলেও মনে করেন ওইসব কর্মকর্তাগণ।
- দৈনিক আমাদের কণ্ঠ: জাতীয় সংবাদ, দেশজুড়ে, প্রকাশিত সংবাদ, শীর্ষ সংবাদ, সংবাদ শিরোনাম