মোঃ মহি উদ্দীন, ঝিনাইদহ
ঝিনাইদহে চাকরিতে ১৪তম গ্রেড ও টেকনিক্যাল পদমর্যাদা দেওয়াসহ ছয় দফা দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন স্বাস্থ্য সহকারীরা। দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাসোসিয়েশনের ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এ উপলক্ষে মঙ্গলবার সকালে ঝিনাইদহ সিভিল সার্জন অফিসের সামনে অবস্থান নেন ঝিনাইদহ জেলার ৬টি উপজেলা থেকে আসা স্বাস্থ্য সহকারীরা। এসময় স্বাস্থ্য সহকারীরা দীর্ঘদিন বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা। স্বাস্থ্য কর্মীদের অন্য দাবির মধ্যে রয়েছে- স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক প্রস্তাবিত মাঠ পর্যায়ে কর্মরত স্বাস্থ্য সহকর্মীদের নিয়োগ বিধি সংশোধন পূর্বক স্নাতক/সম্মান সংযুক্ত করে ১৪তম গ্রেড প্রদান, ইন-সার্ভিস ডিপ্লোমা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ১১তম গ্রেডে উন্নীতকরণ, টেকনিক্যাল পদমর্যাদা প্রদান এবং পদোন্নতির ক্ষেত্রে ধারাবাহিকভাবে পরবর্তী উচ্চতর গ্রেড প্রদানসহ ৬ দফা।
সংগঠনের প্রধান সমন্বয়ক মোঃ আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন, স্বাস্থ্য সহকারী ফাতেমা বানু, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক রেহেনা পারভীন, মোঃ ওলিউর রহমান, মোঃ ফারুক হোসেন ও তাজ হোসেন প্রমুখ। বক্তারা বলেন, দেশের বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৬ হাজারের বেশি স্বাস্থ্য সহকারী, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও স্বাস্থ্য পরিদর্শক কাজ করছেন। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর রোগ প্রতিরোধে কাজ করেন তারা। এছাড়াও তারা রোগ থেকে মুক্তির উপায়, নতুন রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ানো এবং পরামর্শ দিয়ে থাকেন। সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) বাস্তবায়ন, ১৫-৪৯ বছর বয়সি নারীদের টিটি/টিডি টিকা দেওয়া, গর্ভবতী মা ও শিশুদের সেবা দেওয়া, প্রসব পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সেবা দিয়ে থাকেন।
বক্তারা আরও বলেন, স্বাস্থ্য সহকারীরা অপ্রতুল সুযোগ-সুবিধা ও সীমিত জনবল নিয়েও দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। একজন কর্মী তিন তিনটি ওয়ার্ডের দায়িত্ব নিয়ে কঠিন পরিশ্রমের মধ্যে সেবা দিয়ে আসছেন। তারা বলেন, স্বাস্থ্য কর্মীদের এই কঠিন পরিশ্রমের অর্জন হিসেবে বাংলাদেশ সরকার কমপক্ষে ১০ টি পুরস্কার পেয়েছেন, এসব সম্মান স্বাস্থ্য কর্মীদের অবদান হলেও একটা ধন্যবাদ পর্যন্ত তারা পায়না। চার দশকের বেশি সময় তারা প্রথম সারির যোদ্ধা হিসাবে জনগণের স্বাস্থ্যসেবায় রয়েছেন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, আজ পর্যন্ত তাদের পদে কোনো পরিবর্তন হয়নি। বর্তমান উর্ধ্বগতির বাজারে পারিবারিক খরচ, ছেলে-মেয়েদের লেখা-পড়ার খরচ চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এছাড়াও বেতন কাঠামোয় রয়েছে চরম বৈষম্য। তাই স্বাস্থ্য সহকারীদের এই দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত এই কর্মসূচি অব্যাহত রাখবেন তারা। দাবি মেনে না নিলে আগামী ১ আগষ্ট থেকে তাদের সমস্ত কার্যক্রম সাটডাউন দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেন তারা।