রবিউল ইসলামঃ
আওয়ামীলীগ সরকার থাকাকালীন সময় স্বৈরাচারী ক্ষমতার সুবিধা নেওয়া ছিল যেন একরকম আলাদিনের চেরাগ পাওয়ার মতো। আর এই স্বৈরাচারী ক্ষমতার সুবিধা নিতে বাদ যায়নি জাতির ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা শিক্ষক সমাজের ব্যক্তিবর্গরাও।
এমনই একজন ফ্যাসিস্ট শিক্ষক রাজধানীর স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হাবীবুল্লাহ বাহার কলেজের প্রশাসনিক কো-অর্ডিনেটর মোহাম্মদ মুক্তাদির। যিনি কলেজে কম্পিউটার শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্ত হওয়ার পরে নানা রকম কৌশল অবলম্বন করে নিজেকে প্রশাসনিক কো-অর্ডিনেটর হিসেবে দাবি করে একছত্র আধিপত্য বিস্তার করে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যাক্তিগত চিকিৎসক ডাক্তার এবিএম আবদুল্লাহর আপন ভাতিজা মুহাম্মদ মুক্তাদির। অভিযোগ আছে, রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারকারী মুক্তাদিরের বিরুদ্ধে কলেজের কোন অনিয়ম দুর্নীতির প্রতিবাদ করলে শিক্ষক, কর্মচারীদের, দলীয় প্রভাব খাটিয়ে মানসিক এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। এসব বিষয়ে আমাদের কন্ঠ প্রতিবেদক জানতে চাইলে তিনি রাজনৈতিকভাবে নিজের কোন সংশ্লিষ্টতা নাই বলে জানায়,
গত জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন সময়ও এই ফ্যাসিস্ট শিক্ষক মুক্তাদির ছিলেন আওয়ামী দোসরদের সাথে নিয়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। অভিযোগ আছে, তিনি জুলাই আন্দোলনের সাধারন ছাত্রদের উপর গুলি করার জন্য খুনি হাসিনার পেটোয়া পুলিশ বাহিনীকে কলেজের ছাদ খুলে দিয়েছিলো। এছাড়াও অত্র কলেজের প্রশাসনিক কো- অর্ডিনেটর মুক্তাদির ছাত্রলীগের নেতা কর্মীদের ব্যবহার করে সাধারণ শিক্ষার্থী, কলেজের কর্মচারী, এবং শিক্ষক-শিক্ষিকা বৃন্দরা যেনো আন্দোলনে সম্পৃক্ত হতে না পারে সেইজন্য নানারকম ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। এমনকি আন্দোলন চলাকালীন সময় পুলিশের গুলিতে শহীদ হওয়া হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজের শিক্ষার্থী শহীদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিকের জানাজা কলেজ মাঠে পড়তে বাধা দিয়েছিলেন এই মুক্তাদির। জুলাই আন্দোলনের বিরোধিতার বিষয়ে মুক্তাদিরকে আমাদের কন্ঠ প্রতিবেদক জিজ্ঞেস করলে তিনি এই বিষয়ে নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেন।
৫ই আগস্ট পরবর্তী সময়েও এই ফ্যাসিস্ট শিক্ষক মুক্তাদিরের দাপট ছিল আগের মতোই। এরই প্রতিবাদে মুহাম্মদ মুক্তাদিরের বিরুদ্ধে কলেজের শিক্ষার্থীরা তার অপকর্ম এবং জুলাই আন্দোলনে তার আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দেয়ালিকা প্রকাশ করেন। এছাড়াও হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজের শিক্ষার্থী ও গভর্নিং বডির শিক্ষকবৃন্দরা এই ফ্যাসিস্ট শিক্ষকের অনতিবিলম্বে অপসারণ দাবি করেন। যার ফলশ্রুতিতে গত ২৯ জুলাই হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজের জুলাই আন্দোলন সম্মিলিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই ফ্যাসিস্ট শিক্ষককে হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজ থেকে অবাঞ্ছিত ঘোষনা করা হয়। এবং যত দ্রুত সম্ভব উক্ত প্রতিষ্ঠান হতে অব্যাহতি নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।
এছাড়াও এই আওয়ামী দোসর শিক্ষকের বিরুদ্ধে সিইডিপির আওতায় ৪ কোটি টাকার প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগসহ শিক্ষা ব্যবস্থাকে রাজনৈতিক কেন্দ্রিকরনের মাধ্যমে নিজের জন্য অবৈধ উপায়ে অর্থ-সম্পদ তৈরি করার বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন দেখতে চোখ রাখুন আমাদের কন্ঠে।