মোঃ জুয়েল (নীলফামারী):
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার বাহাগিলি ইউনিয়নের দুরাকুটি এলাকার মোস্তাকিম ও ছকিনা দম্পতি। তাদের জীবন চলে ঘানি টানার মতোই, ধীরে, কষ্টে, কিন্তু থেমে নেই। তবুও ঘানি ঘোরে ধীরে, ক্লান্তিকর দেহ, কিন্তু জীবনের মতোই দৃঢ়। ঘানি ভাঙার শব্দ যেন সাক্ষী এই দম্পতির বেঁচে থাকার সংগ্রামের, আর হারিয়ে যাওয়া এক ঐতিহ্যের নিঃশব্দ বিলাপের। তিন যুগ ধরে ঘানি টেনে চলা এই দম্পতির জীবন শুধু দারিদ্র্যের গল্প নয়, এটি আমাদের সমাজের হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যের শেষ স্পন্দন।
গ্রামীণ জীবনের ঐতিহ্যবাহী ঘানি ভাঙা তেল উৎপাদন এখন বিলুপ্তপ্রায়। কিন্তু এই হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে এখনও লড়ে যাচ্ছেন নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার দুরাকুটি এলাকার এক দম্পতি। তিন যুগ ধরে অভাব-অনটনের সংসারে ঘানি টেনে বাঁচিয়ে রেখেছেন জীবিকা, আর বেঁচে থাকা।তিন যুগ ধরে এই ঘানি টেনেই সংসার চালান নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার বাহাগিলি ইউনিয়নের দুরাকুটি এলাকার মোস্তাকিম ও ছকিনা দম্পতি। তাদের জীবন চলে ঘানি টানার মতোই, ধীরে, কষ্টে, কিন্তু থেমে নেই। একসময় গ্রামবাংলার প্রতিটি ঘরে ঘানি ভাঙা সরিষার তেল ছিল অপরিহার্য। এখন বাজার দখল করেছে মেশিনে তৈরি বোতলজাত তেল। ফলে হারিয়ে গেছে তাদের আয়, হারিয়েছে সংসারের হাসি। প্রতিদিন কোনোরকমে বাজার থেকে পাঁচ কেজি সরিষা কিনে তেল উৎপাদন করেন তারা। তাতে দেড় কেজি তেল আর কিছু খৈল পাওয়া যায়। মোস্তাকিম আলী বলেন, দু-একটি বোতল বিক্রি করে হাতে আসে মাত্র দুই থেকে তিনশ টাকা।এই টাকাতেই চলে সাতজনের সংসার, খেয়ে না খেয়ে। মোস্তাকি মস্ত্রী ছকিনা বেগম বলেন,বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছেন, তবু থামেননি ছকিনা বেগম। ঘানি টানেন স্বামীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে।
এই দম্পতির চার মেয়ের বিয়ের দেনা পরিশোধ করতেই নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। যৌতুক দিতে না পারায় এক মেয়ে ফিরে এসেছে বাবার সংসারে। এখন দুই প্রতিবন্ধী সস্তান আর এক অসুস্থ ছেলে নিয়ে চলছে তাদের ঘানি-জীবন।দুরাকুটি এলাকার মানুষও জানেন, কতো কষ্টে চলছে মোস্তাকিম-ছকিনা দম্পতির জীবন। মানবিক সহায়তার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা,প্রীতম সাহা, জানিয়েছেন প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সহায়তার আশ্বাস এসেছে।, পরিবারটি সরকারি সহায়তার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। #