শহিদুল ইসলাম খোকন(গাইবান্ধা):
গাইবান্ধা রেলস্টেশনের পশ্চিম পাশে সবুজ শ্যামল ঘেড়া চত্বরটি এক সময় যেটি ছিল ফাঁকা,ভুতুড়ে ও নির্জন প্রান্তর, ধীরে ধীরে আজ তা হয়ে উঠেছে শহরের আড্ডার কেন্দ্রবিন্দু।
চত্বরের গাছগুলোতে ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই কাকের কাকা ডাক সারাদিন আহার সেরে আবার সন্ধ্যায় গাছগুলোতে কাকের আনাগোনা শুরু। দাঁড়কাক ও পাতিকাক দু প্রজাতির কাক বেশি দেখা যায় গাছগুলোতে। মনোমুগ্ধকর পরিবেশে মুগ্ধ দর্শনার্থীরা।
স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ এই স্থানটিকে কাউয়া চত্বর নামে পরিচিতি করে তুলেছে। বর্তমানে এই স্থানটি শহরে মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। পূর্ব দিগন্তে সূর্যের আলো ফুটতে না ফুটতে নানা শ্রেণি পেশার মানুষ ভিড় জমাতে শুরু করে চলে গভীর রাত পর্যন্ত। কেউ চা পান করতে আসেন, কেউবা আসে রাজনৈতিক গল্পগুজব করতে, আবার কেউ আসে নিজেদের ভাবনা ও গল্প শেয়ার করতে।
এখানে প্রতিদিন শহরের নানা পেশার মানুষ-সাংবাদিক, শিক্ষক, সাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ কিংবা সাধারণ নাগরিক-সবাই একে অপরের সঙ্গে মত বিনিময় করে। এটি যেন এক মুক্ত মঞ্চ, যেখানে রাজনীতি, সমাজ, সংস্কৃতি এবং কবিতা নিয়ে চলে প্রাণবন্ত আলোচনা। কখনো কেউ গেয়ে ওঠেন পুরনো দিনের গান, আবার কেউ জীবনের আনন্দ- বেদনা শেয়ার করেন। এমন এক বৈচিত্রময় আড্ডায় মিশে থাকে গাইবান্ধার সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না ও স্মৃতি।
কাউয়া চত্বরে চায়ের দোকানগুলো যেন এই আড্ডার প্রাণ। গরম চায়ের মিষ্টি ঘ্রাণে মিশে থাকে বন্ধুত্ব, ভালোবাসা, চিন্তা ও ভাবনার উষ্ণতা। এটি অনেকের কাছে শুধু একটি চা-পানের স্থান নয়, বরং গাইবান্ধার বিনোদনের একটি ক্ষুদ্র সামাজিক প্ল্যাটফর্ম।
আড্ডা দিতে আসা মেধাকুঞ্জ কোচিং এর শিক্ষক আব্দুল মুহিত বলেন, এখানে আসলে মনে হয় সময় থেমে গেছে—সবাই নিজের মতো করে হাসে, ভাবে আর গল্প করে। সাপ্তাহিক অবিরাম পত্রিকার সম্পাদক মো. বাদল বলেন,সারাদিন নিউজ নিয়ে ব্যস্ত থাকি। সন্ধ্যায় কাউয়া চত্বরে এসে লিটনের এক কাপ চা সারাদিনের ক্লান্তি দূর করে। আমি প্রায় প্রতিদিন কিছু সময় এখানে কাটাই। মানুষের কথা, হাসি আর চিন্তার মধ্যে লুকিয়ে থাকে জীবনের গল্প। এটি এক জীবন্ত নিউজরুমের মতো।
স্থানীয়দের মতে, একটু যতœ ও উদ্যোগের মাধ্যমে কাউয়া চত্বর গাইবান্ধার অন্যতম সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। এটি শুধু শহরের একটি চত্বর নয়, বরং শহরের সংস্কৃতি ও সৃজনশীলতার এক উজ্জ্বল প্রতীক হতে পারে।
গাইবান্ধা রেলওয়ের স্টেশন মাস্টার সুমিত সরকার বলেন, “কাউয়া চত্বরে আড্ডা দিতে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ আসে। দিনে দু থেকে তিনবার পরিস্কার করা হয়। সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য লাইটিং এর ব্যবস্থা করা হয়েছে। গাড়ি পার্কিং এর জন্য আলাদা ব্যবস্থা আছে। চত্বরের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য আরও কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
- দৈনিক আমাদের কণ্ঠ: দেশজুড়ে, প্রকাশিত সংবাদ, শীর্ষ সংবাদ, সংবাদ শিরোনাম, সারাদেশ