বরিশালে হানি ট্র্যাপের এক নারী সদস্য আটক : তদন্তে সাংবাদিকতার ছদ্মবেশের ছায়া

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
বিস্তারিত জানতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ক্লিক করুন
Advertisement

মোঃ রবিউল ইসলাম রাব্বি (বরিশাল) :
বরিশাল নগরীর ভাটিখানা এলাকায় দীর্ঘদিনের হানি ট্র্যাপ চক্রের এক নারী সদস্যকে পুলিশের হাতে আসার পর এই অঞ্চলে অপরাধের নতুন মাত্রা উন্মোচিত হয়েছে। শনিবার (৬ ডিসেম্বর) বিকেলের দিকে স্টিমারঘাট পুলিশ ফাঁড়ির অভিযানে পাখি আক্তার নিশি (২৬) নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের জানামতে, ঘটনাস্থল থেকে চক্রের অন্যান্য পাঁচ সদস্য পালিয়ে যায়, যা তাদের সুসংগঠিত কার্যপ্রণালীর ইঙ্গিত দেয়। এই চক্রটি ফোন এবং সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে যুবকদের ফাঁদে ফেলে যৌন শোষণ ও বø্যাকমেলের মাধ্যমে অর্থনৈতিক লুটপাট চালিয়ে আসছিল, বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
ভুক্তভোগীর ভয়াবহ অভিজ্ঞতা: জোরপূর্বক শোষণের ফাঁদ
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগী যুবক, যিনি স্থানীয় একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত, তার বর্ণনায় ঘটনাটি আরও ভয়ংকর মনে হয়। ফোনে পরিচয়ের সূত্র ধরে তিনি দেখা করার প্রস্তাব দেন। আমি সন্দেহ না করে গেলাম, কিন্তু বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে হাতেম আলী কলেজ চৌমাথা থেকে নবগ্রাম রোড, নাজিরের পোল হয়ে জোরপূর্বক নতুন ভাটিখানার একটি টিনের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়,” ভুক্তভোগী বলেন। সেখানে চারজন নারী লাইট নিভিয়ে বিভিন্নভাবে জোড়-জবরদস্তি করে শোষণ চালানো হয়। একপর্যায়ে তারা আমাকে রেখে চলে যায়। আমি কোনোভাবেই পালাতে পারিনি, তিনি যোগ করেন। এই ঘটনা তার মানসিক স্বাস্থ্যের উপর গভীর প্রভাব ফেলেছে, এবং তিনি এখন পুলিশের সাথে সহযোগিতা করে তদন্তে সহায়তা করছেন। ভুক্তভোগীর সহকর্মীরা ঘটনার খবর পেয়ে দ্রæত স্থানে পৌঁছে নারী সদস্যকে আটক করেন এবং স্টিমারঘাট পুলিশ ফাঁড়ির কাছে হস্তান্তর করেন। এই সাহসী পদক্ষেপটি অনেক ভুক্তভোগীর জন্য আশার আলো জ্বালিয়েছে, কারণ এমন চক্রগুলো প্রায়শই নীরবে কাজ করে।
সাংবাদিকতার ছদ্মবেশে সন্দেহ: আরও একজন আটক
ঘটনাস্থলে গণমাধ্যমের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে গিয়ে আরও একটি উত্তেজনাপূর্ণ ঘটনা ঘটে। চরমোনাই ইউনিয়নের কবির হাওলাদারের ছেলে রিমন হাওলাদার (২২) নিজেকে ‘বরিশাল সংবাদ’ নামক অনলাইন পোর্টালের সাংবাদিক বলে পরিচয় দেন। তার সন্দেহজনক আচরণ দেখে স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। স্থানীয় সূত্র জানায়, এই যুবকের সাথে চক্রের যোগসূত্র থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, যা বরিশালে সা¤প্রতিককালে সাংবাদিকতার ছদ্মবেশে অপরাধের অভিযোগকে নতুন মাত্রা দিচ্ছে। স্টিমারঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ গোলাম মো. নাসিম বলেন, আটক নারী পাখি আক্তার নিশি সহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে চিহ্নিত করার কাজ চলছে। চক্রের অন্য সদস্যরা পালিয়ে গেলেও আমরা তাদের ধরতে সক্রিয়। এএসআই কাইয়ুম, এসআই মাহাবুব, আমিনুল, জামালসহ ফোর্স ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।” আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, অপহরণ এবং বø্যাকমেল-সংক্রান্ত ধারায় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
চক্রের দীর্ঘমেয়াদী ছায়া: তদন্তে নতুন অধ্যায়
পুলিশ সূত্র জানায়, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে ভাটিখানা এবং আশেপাশের এলাকায় সক্রিয় ছিল। তারা ফোন বা সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিচয় গড়ে তোলার পর ভুক্তভোগীদের নির্জন স্থানে নিয়ে যৌন শোষণ করে ভিডিও রেকর্ড করে ব্ল্যাকমেল করে। বরিশাল পুলিশের মতে, এমন চক্রগুলো শুধুমাত্র যুবকদের নয়, সমাজের সামগ্রিক নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে। স্থানীয় গোয়েন্দা শাখার সহায়তায় তদন্ত চলছে, এবং চক্রের অন্যান্য সদস্যদের ধরতে বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। সা¤প্রতিককালে বরিশালে এমন ঘটনা বেড়েছে। মাত্র কয়েক দিন আগে সাংবাদিক পরিচয়ে হানি ট্র্যাপ চক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে এক যুবকের পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ উঠেছে, যা এই ঘটনার সাথে যুক্ত বলে মনে করা হচ্ছে। স্থানীয় সামাজিক সংস্থাগুলো এখন যুবকদের মধ্যে সচেতনতা অভিযান চালিয়ে অনলাইন পরিচয়ের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন চক্রগুলোকে রোধ করতে সাইবার নিরাপত্তা আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং মানসিক সহায়তা কেন্দ্র স্থাপন জরুরি। পুলিশের এই দ্রæত ব্যবস্থা প্রশংসনীয় হলেও, দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের জন্য স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ এবং এনজিওগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ দরকার। ভুক্তভোগীরা যাতে আরও সাহস করে এগিয়ে আসে, তার জন্য নিরাপদ রিপোর্টিং সিস্টেম গড়ে তোলা উচিত। তদন্তের ফলাফল এই চক্রকে পুরোপুরি ভেঙে দেওয়ার আশা জাগাচ্ছে।

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
বিস্তারিত জানতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ক্লিক করুন
Advertisement

দৈনিক আমাদের কণ্ঠ