সুমন ভট্টাচার্য :
চলতি বোরো সংগ্রহ ২০২৫-২৬ মৌসুমে ময়মনসিংহ বিভাগের ধান, চাল ও গম সংগ্রহ কার্যক্রমের লক্ষ্যমাত্রা ও অগ্রগতি পর্যালোচনায় বিভাগীয় খাদ্যশস্য সংগ্রহ ও মনিটরিং কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) কাজী জিয়াউল বাসেত। সভায় ময়মনসিংহ আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আশরাফুল আলম চলমান মৌসুমে ধান, চাল ও গম সংগ্রহের সর্বশেষ অগ্রগতি তুলে ধরেন। তিনি জানান, বৈরী আবহাওয়ার প্রভাব বিবেচনায় রেখে কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় নির্ধারিত সময়ের আগেই বোরো মৌসুমের ধান-চাল সংগ্রহ শুরু করেছে সরকার।
চলতি মৌসুমে ময়মনসিংহ বিভাগের চার জেলায় মোট ৭০ হাজার ৭৪৩ মেট্রিক টন ধান, ১ লাখ ৯৪ হাজার ১৬৫ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল এবং ৫৫৩ মেট্রিক টন গম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে হাওর অঞ্চলে চাল সংগ্রহ শুরু হয়েছে ০৩ মে থেকে এবং অন্যান্য এলাকায় ১৫ মে থেকে ৩১ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত চলবে। ধান ও গম সংগ্রহ কার্যক্রম ০৩ মে থেকেই শুরু হয়েছে। সরকার নির্ধারিত সংগ্রহম‚ল্য অনুযায়ী প্রতি কেজি ধানের দাম ৩৬ টাকা, সিদ্ধ চাল ৪৯ টাকা এবং গম ৩৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে বিভাগের ৩৩টি উপজেলায় ‘কৃষকের অ্যাপ’-এর মাধ্যমে ধান ক্রয় করা হবে। পাশাপাশি ‘ডিজিটাল চালকল ব্যবস্থাপনা’ সফটওয়্যারের মাধ্যমে ময়মনসিংহ সদর, মুক্তাগাছা, গৌরীপুর, ঈশ্বরগঞ্জ, ফুলপুর, নেত্রকোনা সদর, মোহনগঞ্জ, দুর্গাপুর, মদন, জামালপুর সদর, শেরপুর সদর ও ঝিনাইগাতী উপজেলায় চাল সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
সভাপতির বক্তব্যে কাজী জিয়াউল বাসেত বলেন, ধান উৎপাদনে ময়মনসিংহ সারাদেশে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। সরকারের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ অর্জনে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক ও দায়িত্বশীল ভ‚মিকা রাখতে হবে। উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে স্বচ্ছতার সঙ্গে সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনা এবং ‘কৃষকের অ্যাপ’ ও ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে কৃষকদের সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা হয়রানি থেকে কৃষকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। “কৃষক বাঁচলে বাঁচবে দেশ, সমৃদ্ধ হবে বাংলাদেশ”এই লক্ষ্য সামনে রেখে সবাইকে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
- দৈনিক আমাদের কণ্ঠ: জাতীয় সংবাদ, দেশজুড়ে, প্রকাশিত সংবাদ, শীর্ষ সংবাদ, সংবাদ শিরোনাম, সারাদেশ