লাশের ময়না তদন্তে হাতুড়ি-বাটালি-আর সার্জারি ব্লেডই ভরসা

ফেনী জেনারেল হাসপাতাল মর্গ
লাশের ময়না তদন্তে হাতুড়ি-বাটালি-আর সার্জারি ব্লেডই ভরসা
সোহেল রানা শুভ
হাতুড়ি, বাটালি আর সার্জারি ব্লেড দিয়েই চলছে লাশের পোষ্ট মর্টেম। উপযুক্ত পরিবেশ না থাকায় লাশ মেঝেতে রেখেই চলে ময়না তদন্তের কাজ। নেই আলামত রক্ষনাবেক্ষনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা। বিদ্যুৎ চলে গেলে বন্ধ হয়ে যায় সকল কার্যক্রম। নেই জেনারেটরের ব্যবস্থা। এ চিত্র ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গের। নানাবিধ সমস্যার মধ্যেই ৭ হাজারের অধিক লাশের ময়না তদন্ত সম্পন্ন করেছেন সেখানের একমাত্র ডোম রহিম বাদশা। জানতে চাইলে ফেনীর সিভিল সার্জন মো. নিয়াতুজ্জামান জানান, হাসপাতালে জন¯^ার্থে ব্যাপক উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান। ইতিমধ্যে হাসপাতালের ড্রেন ও ডাস্টবিন নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। এরপর মর্গ আধুনিকায়ন করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। সূত্র জানায়, বিগত ১৯৮২ সালে ফেনী সদর হাসপাতালের যাত্রা শুরু। এরপর ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলে এর নামকরণ হয় ফেনী জেনারেল হাসপাতাল। হাসপাতালের এমন উন্নয়নের পরও মর্গের কোনো ধরনের পরিবর্তন হয়নি। আলো, পানি ও বিদ্যুৎ সব সুবিধাই এখানে অপ্রতুল। লিঙ্গভেদে ময়নাতদন্তের জন্য পুরুষ ও নারী ডোম রাখার নিয়ম থাকলেও এ মর্গে শুধু আবদুর রহিম বাদশা নামের একজন পুরুষ ডোমই কর্মরত। গত ২০ বছর ধরে তিনি অস্থায়ী ভিত্তিতে চাকরি করছেন সেখানে। ডোম বাদশা জানান, দেশের বিভিন্ন স্থানে নানা সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আধুনিক মর্গ স্থাপন করা হয়েছে। আধুনিকায়ন না হওয়া পর্যন্ত মর্গে নিয়ম অনুযায়ী লাশ ময়নাতদন্ত করা সম্ভব হবে না। এতে বিভিন্ন মামলার আলামত নষ্ট হয়। নিজের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বহু চেষ্টা-তদবির করেও তাঁর চাকরি স্থায়ী করতে ব্যর্থ হয়েছেন। এ কাজে তার নিজের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা অথবা প্রশিক্ষণ নেই। অন্য কেউ দায়িত্ব পালনে এগিয়ে আসছে না বিধায় তিনি এ পেশা ছাড়তেও পারছেন না। এ পর্যন্ত তিনি সাত হাজার লাশের ময়নাতদন্ত করেছেন। এখানে নেই কোনো জেনারেটর। ময়নাতদন্তের সময় বিদ্যুৎ চলে গেলে বিড়ম্বনার শেষ থাকে না। এখন পর্যন্ত কোনো এক্স-রে মেশিন স্থাপন করা হয়নি। এতে গুলিবিদ্ধ লাশ ময়নাতদন্তের সময় গুলি চিহ্নিত করতে নানা স্থানে কাটাকাটি করতে হয়। এতে করে লাশের রক্তক্ষরণ বেড়ে যায়। মর্গে আলামত রক্ষাকারী বক্স না থাকায় তা যত্রতত্র রেখে সংরক্ষণ করেন সংশ্লিষ্টরা। বৈদ্যুতিক করাতের ব্যবহার না করতে পারায় লাশ ব্যবচ্ছেদ করা হয় হাতুড়ি, বাটালি ও সার্জারি ব্লেড দিয়ে। উপযুক্ত ব্যবস্থা না থাকায় মেঝেতে রেখে লাশ ময়নাতদন্ত করতে হয়। ময়নাতদন্তের পর পর্যাপ্ত পানির অভাবে চারপাশে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এতে আশপাশের লোকজনকে ভোগান্তি পোহাতে হয়।

আপনার মতামত লিখুন :