সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায় চলছে অভিনব কায়দায় মুক্তি ক্লিনিক ও ফার্মেসীর প্রতারণার ব্যবসা

রেজাউল করিম খান,সিরাজগঞ্জ
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার গেটের সামনে উপজেলা প্রশাসনের নাকের ডগায় অবসরপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মুক্তি ক্লিনিক ও ফার্মেসী করে নিজেকে অনেক বড় মাপের ডাক্তার সেজে, রোগী ও হত দরিদ্রদের সাথে প্রতারণার ব্যবসা করে আসছেন।

তিনি অস্পষ্ট প্রেসক্রিপশন ও নিজের দোকানের নি¤œমানের ওষুধ উচ্চ দরে বিক্রি করে গ্রামের সহজ সরল মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অংকের টাকা। ফলে ওই এলাকার সচেতন নাগরিকরা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায় যে, মুক্তি ক্লিনিক ফার্মেসীতে কে. এম . আব্দুল হামিদ একটি অন্ধকার শূন্য রুমে বসে রোগী দেখছেন এবং একের পর এক প্রেসক্রিপশন করে যাচ্ছেন।

সে এমন ভাবে অস্পষ্ট করে লেখে প্রেসক্রিপশন করছেন যে তার লেখা তিনি ছাড়া অন্য কেউ অর্থ্যাৎ অন্য কোন মেডিসিনের দোকানে গিয়ে রোগীরা ইচ্ছে করলেই ওষুধ কিনতে পারবে না । ফলে উপায় না পেয়ে রোগীরা উচ্চ দামে তার ফার্মেসী থেকে নি¤œমানের, নাম না জানা কোম্পানীর ওষুধ কিনতে বাধ্য হচ্ছে । আর এ সুযোগে কে.এম .আব্দুল হামিদ হাতিয়ে নিচ্ছেন মোটা অংকের টাকা ।

তাছাড়াও তিনি হাসপাতালের অনুমোদন না নিয়েও একটি টিনের ঘরে ৫/৭ টি বেড ফেলে রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন, সেখানে কয়েকজন রোগীেিক দেখতে পাওয়া যায় । আর এই রোগীদেরকে নার্স তো দুরের কথা সেবা দিচ্ছেন দোকানের কর্মচারীরা। অপর একটি ঘরের মধ্যে দেখা যায়, ছোট ছোট দুইটি শিশুকে ঠান্ডা কমানোর জন্য মেশিনে লাগানো পাইপ শিশু দুইটির নাকের কাছে ধরে রাখছেন ভুক্তভোগী দুই জন মা ।

সংবাদকর্মীরা যাওয়া মাত্র তার এক কাজের মেয়ে রহিমা এসে সেগুলো খুলে ফেললো। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিশু দুইটি মা বলেন তাদের শিশুর ঠান্ডা লাগছে তাই তারা এখানে এসেছে, ডাক্তার বলেছে মেশিনের সাহায্য তাপ দিলে ঠান্ডা ঠিক হয়ে যাবে তাই তারা শিশুটির নাকের কাছে পাইপ লাগিয়ে তাপ দিচ্ছেন । তার দুইটি টনের ঘরের প্রধান ফটকের উভয় পাশে ও ভিতরের দিকে ময়লার স্তুপ পড়ে থাকতে দেখা যায় । আরও সেখানে মশা-মাছির উৎপাত দেখা যায়।

চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের কয়েকজন স্বজন বলেন, কে.এম. আব্দুল হামিদ প্রেসক্রিপশন করতে বেশি পয়সা নেয় না , তবে তার দোকান থেকে ওষুধ কিনতে হয় বেশি দামে, তার এই প্রেসক্রিপশনের লেখা অন্য দোকানীরা বোঝে না ফলে বাধ্য হয়ে বেশি দামে এখান থেকে বেশি দামে ওষুধ কিনতে হয় । এ ব্যাপারে মুক্তি ক্লিনিক ও ফার্মেসী স্বতধিকারী কে.এম. আব্দুল হামিদ সব কিছু অস্বীকার করে বলেন অনেক দিন যাবত এভাবে আমি চিকিৎসা দিতেছি কই সমস্যা তো হয়নি । এ ব্যাপারে কামারখন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহাঙ্গীর আলমের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমার জানা নাই তবে অবৈধ কোন কাজ করলে তার বিরুদ্ধে আইনুনুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে ।

আপনার মতামত লিখুন :