লাখ লাখ টাকা আতসাৎ ও স্থাপনার ভাড়া নিজ পকেটে ঋণ নিয়ে চলছে মৌলভীবাজার সমবায় ব্যাংক

মশাহিদ আহমদ,মৌলভীবাজার
মৌলভীবাজার কেন্দ্রিয় সমবায় ব্যাংকের সমূহ সম্পত্তি ঋণের দায়ে নিলামে উঠতে পারে । মাত্র ৫৪ লাখ টাকার ঋণ নেিয় এখন শোধে আসলে দাড়য়িেেছ পাহাড় পরমিান টাকা। এতো টাকা ঋণ নিয়ে চলছে মৌলভীবাজার সমবায় ব্যাংক। ওই ব্যাংকটির কাছে বাংলাদশে সমবায় ব্যাংক পাবে প্রায় ১ কোটি ৯৫ লাখ ৬৯ হাজার ৭৭ টাকা। এ কারণে নিলামে যেতে পারে মৌলভীবাজার সমবায় ব্যাংকের সমূহ সম্পত্তি। এত কিছুর পরও দীর্ঘ ২৪ বছর যাবৎ সভাপতির পদে বসে আছেন এক ব্যক্তি।

১৯৯৫ সাল থাকে ওই পদ ব্যবহার করে তিনি সমবায়ের লাখ লাখ টাকা নিজ পকেটে ঢোকানোর পাশাপাশি সমতিরি স্থাপনা ভাড়া দিয়েও আতœসাৎ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। স্ব-পদে বহাল থাকতে গিয়ে বার বার আদালতে মামলা দিচ্ছেন। এদিকে সমবায়ের নিজস্ব ভবন বিদ্যমান থাকার পরও ঋণের বোঝা নিয়ে ভাড়াটিয়া হয়ে প্রতি মাসে ১১ হাজার টাকা ভাড়া দিয়ে চলছে জেলা সমবায় অফিস।

এসকল ঋণ অব্যাহত বৃদ্ধি পাওয়া ও শেষ না করার মূলে রয়েছে সমিতির পুরোনো কমিটি। দীর্ঘদিন যাবৎ মৌলভীবাজার সমবায় ব্যাংকের সভাপতির দ্বায়িত্ব পালন করে আসছেন আব্দুল হান্নান তরফদার নামে এক ব্যক্তি। অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৯৫ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ২০ বছর যাবৎ মৌলভীবাজার সমবায় ব্যাংকের সভাপতির পদ নিয়ে বসে আছেন আব্দুল হান্নান তরফদার।

ওই পদ ব্যবহার করে ২০ বছর ধরে তিনি সমবায়ের লাখ লাখ টাকা নিজে আতসাৎ ও স্থাপনার ভাড়া নিজ পকেটে ঢোকাচ্ছেন বলে প্রকাশ্য অভিযোগ রয়েছে। সমবায় ভূমি উন্নয়ন ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, সমবায়ের সম্পত্তি বাসা ও দোকান-পাট ভাড়া দিয়ে হাজার হাজার টাকা আতসাৎ করেছেন হান্নান তরফদার। বাসা ভাড়া যাবৎ অডিট প্রতিবেদনে সমবায়কে মাসে এক হাজার টাকা দেখানো হয়েছে।

যা ১২/১৩ হাজার টাকায় ভাড়া দেয়া হয়। এছাড়াও সমবায়ের প্রতি দোকান কোটা ১ হাজার টাকা ভাড়া দেখালেও তা ভাড়া পওয়া যাচ্ছে ৭ হাজার টাকা করে। এই আয়ের উৎস হাতছাড়া করতে চান না বলে স্ব-পদে বহাল থাকতে মামলার আশ্রয় নিচ্ছেন। ফলে তার কাছ থেকে দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করে সমবায়ের সম্পদ উদ্ধার করতে পারছেনা সংশি¬ষ্ট জেলা সমবায় অফিস। আইনি ভাবে জেলা সমবায় তাদের সম্পত্তি উদ্ধার ও পুরোনো কমিটিকে বাতিল করতে চাইলে তিনি পাল্টা মামলা দিয়ে বিষয়টি থামিয়ে দেন।

এব্যাপারে জেলা সমবায় অফিসার আদালতের সরকারি কৌশলীকে কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মামলাটির শুনানির পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য লিখিত ভাবে অবহিত করেছেন। জেলা সমবায় অফিসারের লিখিত আবেদন থেকে জানা যায়, মৌলভীবাজার কেন্দ্রিয় সমবায় ব্যাংক লিমিটেডের সভাপতি আব্দুল হান্নান তরফদার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচনসহ বিভিন্ন অনিয়মের ব্যাপারে বিভাগীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন কার্যক্রম চলাকালে মৌলভীবাজার সহকারী জজ আদালতে ৭৮/৯৮ নং মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে সিনিয়র সহকারি জজ আদালত কুলাউড়ায় মামলাটি স্থানান্তরের কারণে মামলার নতুন নাম্বার হয় ৭৮/৯৭।

ওই মামলার বাদী আব্দুল হান্নান তরফদার ও বিবাদী ছিলেন নিবন্ধক সমবায় অধিদপ্তর ঢাকা, যুগ্ন নিবন্ধক, জেলা প্রশাসক মৌলভীবাজার ও জেলা সমবায় অফিসার মৌলভীবাজার। ওই মামলায় ব্যবস্থাপনা কমিটি না ভাঙ্গার জন্য আদালত কর্তৃক একটি অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারী করা হয়।

বাদী কর্তৃক স্বীকৃত মতে ব্যবস্থাপনা কমিটির মেয়াদ ০৫/০৩/৯৮ ইং তারিখে উত্তীর্ণ হলে সরকার পক্ষ (বিবাদীপক্ষ) দেওয়ানী কার্যবিধির ১১ রোল মোতাবেক স্বত্ব মামলা নং-৮৪/৯৮ খারিজ করার জন্য আবেদন করলে আদালত ১৪/০৯/১৯৯৮ ইং শুনানীর দিন ধার্য্য করেন। এই অবস্থায় বাদী কর্তৃক মহামান্য সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে শুনানীর আদেশ বাতিল সংক্রান্ত সিভিল রিভিশন ৪৩৩৫/৯৮ দায়ে করেন যা শুনানীতে খারিজ হয়ে যায়। এর পর বাদী সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগে সিভিল রিভিশন লীভটু আপীল ৭৫২/০২ দায়ের করলে তাও শুনানীতে খারিজ হয়ে যায়।

পরবর্তীতে সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে ২৫৩৮/০৩ নং সিভিল রিভিশন মামলা দায়েরর পর মহামান্য আদালত ২১/০৬/২০০৩ তারিখে ৪ মাসের জন্য মামলার কর্যক্রম মুলতবি এবং ১০/০৪/২০০৪ ইং তারিখে ১ বছরের জন্য মুলতবি করেন। এর পর মহামান্য সুপ্রীম কোর্টেও হাইকোর্ট বিভাগ থেকে আর কোন আদেশ জারী হয়নি। যার ফলে স্বত্ব মামলা নং ৮৪/৯৮ শুনানীতে কোন বাধা ছাড়া সমবায় সমিতি আইন ২০০১ সংশোধিত ২০০২ ও ২০১৩ এর ১৮ (৪) ধারা অনুযায়ী নির্বাচিত ব্যবস্থাপনা কমিটি প্রথম তারিখ থেকে তিন বছর মেয়াদের জন্য দ্বায়িত্ব পালন করবে এবং মেয়াদ থাকাকালীন সময়ে ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচন শেষ করবে।

এই আলোকে নির্বাচন শেষ না হলে মেয়াদ পূর্তির সাথে সাথে কমিটি বিলুপ্ত হবে। এমতাবস্থায় সমবায় আইনের বিধান অনুযায়ী হান্নান তরফদার এর কমিটি ৩ বছর পূর্তির পর থেকে সম্পুর্ণ অবৈধ ও বিলুপ্ত হয়ে যায়। এই কারণে ব্যবস্থাপনা ও ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচনের জন্য সমবায় সমিতি আইন ২০০১ সংশোধিত ২০০২ ও ২০১৩ এর ১৮ (৫) ধারা অনুযায়ী অন্ত:বর্তী ব্যবস্থাপনা কমিটি নিয়োগ আইনানুগ কোন বাধা নেই। আবেদনেও মামলা শুনানী পদক্ষেপ গ্রহন করে খারিজ করার উদ্যোগ গ্রহনের জন্য জেলা সমবায় অফিস সংশি¬ষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানান।

আপনার মতামত লিখুন :