সাভার এসিল্যান্ড অফিস ঘুষ বানিজ্যে অতিষ্ট সেবা প্রত্যাশীরা

স্টাফ রিপোর্টার
শুধু টাকা পেলেই হলো, ১ নং খাস খতিয়ান ও ‘ক’ তফসিলভুক্ত সম্পতি নামজারি করিয়ে দেন মনির হোসেন। তাই নিজ নামের সাথে খাস যুক্ত হয়ে সকলের কাছে তার পরিচিতি এখন খাস মনির। যিনি সাভার এসি ল্যান্ড অফিসের সার্ভেয়ার (ভারপ্রাপ্ত কানুনগো) হিসেবে কর্মরত।

শুধু এ কর্মকর্তা একাই নন। তার সহযোগী আরো দুই কর্মকর্তার একজন নাজির মোঃ ফজলুল হকের ঘুষ বানিজ্যের কারনে দিশেহারা সেখানে জমি সংক্রান্ত কাজে আসা গ্রাহকরা। আজাদ মিয়া নামে এক ভ’ক্তভোগীর অভিযোগ, সম্প্রতি তিনি জমির নামজারির ডিসিআর ও ভিপি/অর্পিত সম্পতি লীজের নাম পরিবর্তনের জন্য সাভার এসিল্যান্ড অফিসের নাজির প্রধান সহকারি ফজলুল হকের কাছে যান। এ সময় ফজলুল হক তার কাছে নামজারি ডিসিআর ফি বাবদ ১হাজার ৬শ’টাকা দাবি করেন।

অথচ এ কাজের জন্য সরকারি ফি মাত্র ১ হাজার ১শ’৫০ টাকা। বিষয়টি ফজলুল হককে অবহিত করা মাত্র তিনি ক্ষেপে যান। এক সময় উত্তেজিত হয়ে বলেন, সকলের কাছ থেকে যা নিচ্ছি, আপনার কাছ থেকেও তাই নিবো। ইচ্ছে হলে পর্চা জমা দিন। অন্যথায় চলে যান। এ ভূক্তভোগী আরো বলেন, হারুরিয়া মৌজার ১৭২/৬৮ নং অর্পিত সম্পতির নাম পরিবর্তনের জন্য তিনি আবেদন করেন। এজন্য ফজলুল হক বিভিন্ন বাহানায় সময় ক্ষেপন করতে থাকেন। অবশেষে দালালের সহায়তায় ৫ লাখ টাকা ঘুষের বিনিময়ে তিনি নাম পরিবর্তন করতে বাধ্য হন। ফজলুল হকের দাবি, ভূমি মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী ও সচিব মাকছুদুর রহমান তার কাছের লোক। তাদের কাছে বিচার দিয়ে কোনো লাভ নেই। এক সময় তিনি সচিবের পিএ ছিলেন।

এখনো নাকি ফললুল হক সচিবের বাসায় নিয়মিত যাতায়াত করেন। এ ভূক্তভোগী আরো বলেন, ওই অফিসের জনৈক সেলিমের মাধ্যমে সার্ভেয়ার মনির হোসেনের কাছে ৬টি নামজারির জন্য আবেদন করেন। এজন্য মনির তার কাছে চল্লিশ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। দীর্ঘদিন কালক্ষেপনের পর মনির বলেন, চাহিদার ৪০ লাখ টাকা ঘুষ না দিলে নামজারীগুলো বাতিল হয়ে যাবে।

আর ঘুষ দিলে দ্রুত কাজ হয়ে যাবে। আজাদ মিয়ার মতো সেখানের অনেকেই এদের বিরুদ্ধে ঘুষ বানিজ্যের অভিযোগ তোলেন। ভ’ক্তভোগী আজাদ মিয়া এ ব্যাপারে ভূমি মন্ত্রী, সচিবসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন। বিষয়টি তদন্তাধীন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
###

আপনার মতামত লিখুন :