রংপুর সদর কোতয়ালী থানার কর্মরত এলাকায় জমি কিনেন থানার ওসি

খায়রুল আলম রফিক
কর্মরত এলাকায় কোন জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলছে প্রথমে খোঁজ খবর নেন । এরপর বিতর্কিত ঐ জমি এক পক্ষের নিকট থেকে নিজেই বায়না সূত্রে ক্রয় করেন, রংপুর সদর কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ.বি.এম সাজেদুল ইসলাম। কখনও নিজের নামে আবার কখনও নিজের লোক (আজ্ঞা বাহক) দিয়ে প্রথমে বায়না করেন জমি ।

পরে বিক্রি করে অর্থ আতœসাত এমনকি নিজেই বেদখল করেন জমি। এভাবে অনেকের জমি হাতিয়ে নিয়েছেন এই ওসি। প্রায় প্রতিদিনই থানায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের শালিস বসান। এসব করে তিনি এখন ১০ কোটি টাকারও অধিক সম্পদের মালিক! প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে মনগড়া মিথ্যা ঘটনা সাজিয়ে মামলা দিয়ে রিমান্ডে নিয়ে পানির দামে জমিটি বিক্রির জন্য চাপ দেওয়া হয়।

তাতে কাজ না হলে তাদেরকে জেলে ঢুকিয়ে বাড়িঘরের বাসিন্দাদের উচ্ছেদ করে জমিটি দখল করা হয়। দখলের পর জমি বিক্রি করেন । কখনও নিজেই বেদখলে রাখেন । রক্ষক এখানে ভক্ষক ।

ভুক্তভোগীরা এই ওসির বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের দাবির পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন । থানা এলাকার অনেক বাসিন্দার অভিযোগ, রংপুর সদর উপজেলার ভুক্তভোগীরা জমি সংক্রান্ত বিষয়ে বিচার চাইতে গেলে থানার ওসি’র হাতে লাঞ্ছিত হন। নিজেই অথবা নিজস্ব লোক দিয়ে অর্থের বিনিময়ে প্রতিপক্ষকে জমি দখল করে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে এই ওসির বিরুদ্ধে।

এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে ভুক্তভোগীরা রংপুর পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগও দাখিল করেছেন। ওসির জমি বেদখলের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলে ওসি উত্তেজিত হয়ে উঠেন । বিচারপ্রার্থীরা হতভম্ব হয়ে পড়েন। এছাড়াও ওসি তাদেরকে বিভিন্ন থানায় মামলা দিয়ে জেলহাজত খাটাবে বলেও হুমকি প্রদান করেন।
ইতিপূর্বে আমাদের কন্ঠে প্রকাশিত হয়েছে, রংপুর সদর উপজেলায় এক ভিক্ষুকের জমি বেদখলের পায়তারার অভিযোগ উঠেছে ।

বেদখলদারের ভূমিকায় রয়েছেন রংপুর কোতয়ালী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ও স্থানীয় হরিদেবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ।
অভিযোগ, রংপুরের মমিনপুর গ্রামের বাসিন্দা নি:সন্তান আশিতোপর বৃদ্ধা নুরজাহান । আর্থিক দৈন্যতার কারনে বর্তমানে তিনি ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন । ভিক্ষাবৃত্তি পেশা হলেও তার রয়েছে পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া অগাধ জমা- জমি ।

এই অঘাত জমি- ই কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে নুরজাহানের ।
ভিক্ষুকের আবার জমি থাকবে কেন ? যেকোন মূল্যে হাতিয়ে নিতে হবে এই জমি । অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে শ্যেন দৃষ্টি থানার ওসি এবিএম সাজেদুল ইসলাম এবং ইউপি চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেনের । তারা উঠে পড়ে লেগেছেন যেনতেন প্রকারেই হোক বৃদ্ধা ভিখারীনির জমি হাতিয়ে নিতে হবে ।

তাদের এই অবৈধ কার্যক্রমকে বাস্তবায়িত করতে দোসর হিসাবে রেখেছেন আরো কিছু জনপ্রতিনিধি ও খল নায়ক । যারা সমাজে প্রভাব বিস্তার করে সাদাকে কালো ও কালোকে সাদা হিসাবে উপস্থাপন করে থাকেন ।

অভিযোগে প্রকাশ, ভিক্ষুক বৃদ্ধা ও তার উত্তরাধীকারদের ওয়ারিশমূলে ১ একর ৯৬ শতক জমি রয়েছে । এই জমি আত্মসাতের পায়তারায় মরিয়া হয়ে উঠেছেন, রংপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ.বি.এম সাজেদুল ইসলাম ও ২নং হরিদেবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন। অভিযোগ রয়েছে, এই জমি নিয়ে দেওয়ানি আদালতে কমপক্ষে ৩টি মামলা পরিচালিত হচ্ছে ।

তারপরও এই জমি নিয়ে ওসির হস্তক্ষেপ করছেন । ওসি নিজে ভুয়া মালিক তৈরির মাধ্যমে ইউপি চেয়ারম্যানকে ক্রেতা হিসাবে উপস্থাপন করে বায়না সূত্রে ক্রয় বিক্রিয়ের চক্রান্ত করে আতœসাতের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন ।

অপরদিকে ওসি তার এই নীতি বিবর্জিত কাজ এবং অবৈধ কার্যক্রমকে বাস্তবায়ন করতে বৃদ্ধাসহ দেওয়ানী আদালতের মামলার সাক্ষীদের আসামি করে থানায় একাধিক ফৌজদারি মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়ার হুমকি ধমকি দিয়ে যাচ্ছেন ।

ভুক্তভোগী ভিক্ষুক নারী ও তার ওয়ারিশগণ এতদ্সংক্রান্ত অভিযোগ এনে গত ২৩ জুলাই ২০১৯ইং রংপুরের পুলিশ সুপার, জেলা প্রশাসক, রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন । তৎপ্রেক্ষিতে বিষয়টি নিয়ে রংপুর পুলিশের সি সার্কেলের এএসপি আরমান আলী পিপিএম তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছেন ।

্ওসি এ বি এম সাজেদুল ইসলাম আমাদের কন্ঠকে জানান, আমি এই জমিতে একটি এতিমখানা বানাবো,চিন্তা করছি । সকল অভিযোগের বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে শয়তান লেগেছে এসব মিথ্যা । আমাদের কণ্ঠের কাছে এই ওসির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ এসেছে ।

তন্মধ্যে তার বিরুদ্ধে রংপর শহরে , শ্বশুর বাড়ি এবং নিজ গ্রামে কোটি টাকার জমি – জমা, বাড়ি ও অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে । দীর্ঘদিন রংপুরে কর্মরত থাকা এই পুলিশ কর্মকর্তার কাছে এব্যাপারে জানতে চাইলে বলেন, সব সত্য নয় । রংপুর শহরে ৫ শতাংশ জমি কিনেছি ।

এই জমি কিনতে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েছেন কিনা প্রশ্ন করা হলে বলেন, না কোন অনুমতি নেইনি । চাকুরির অবসরে এখানে এতিমখানা বানানোর চিন্তা ভাবনা আছে ।

রংপুর সি- সার্কেল এএসপি আকরাম আলী পিপিএম জানান, ভিক্ষুকের জমি সংক্রান্ত ও অন্যান্য বিষয়ে আমি সঠিক ভাবে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেব । আমি ওসির সকল ফোন রের্কড শুনেছি । একজন ওসি হয়ে তিনি এসব করতে পারেন না ,এতে করে পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয় ।

এ বিষয়ে রংপুর পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার সরকার (বিপিএম বার পিপিএম) আমাদের কন্ঠকে জানান, আমি
অভিযোগের বিষয়টি এখনও দেখিনি শুনেছি, তবে ওসি নির্দোশ। তার পরেও বিষয়টি জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো ।

রংপুর রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি দেবদাস ভট্রাচার্য্য জানান, ঘটনা শুনেছি । প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে ।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নিজের জমি অন্যের নিকট থেকে ওসি আবার কখনও তার লোকজন কিনে নেওয়ায় প্রকৃত মালিক হওয়ার পরও খুবই অসহায় বোধ করছি।

ওসির এহেন কর্মকান্ডে পরিবার পরিজন নিয়ে আমরা নানা দুর্ভোগের মধ্যে দিনাতিপাত করছি । আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, তিনি যেন ভূমি দস্যু এই ওসির কবল থেকে আমাদের রক্ষা করেন।

আপনার মতামত লিখুন :