রংপুরে ভাতিজি প্রতিশোধের হাতিয়ার অবৈধ গর্ভপাতের সাজানো মামলা

খায়রুল আলম রফিক,রংপুর থেকে ফিরে
প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে বিভিন্ন পন্থা অবলম্বনের অসংখ্য ঘটনা জানা থাকলেও সম্প্রতি ভাতিজিকে দিয়ে মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপন করে অবৈধ গর্ভপাতের মত অভিযোগের সাজানো নাটক করে মামলা দায়ের করা হয়েছে । ভাতিজির কলঙ্ক হয়েছে প্রতিশোধের মুখ্য হাতিয়ার। দ্বন্দ্বে জড়ানো দুটি পক্ষের পরাজিত পক্ষ প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করতে মিথ্যা মামলা, ভাড়াটে খুনি, গুম কিংবা নিজেই উদ্ধত হয়ে পরিকল্পনা অনুযায়ী হত্যার মাধ্যমে প্রতিশোধ নেয়ার হাজারো ঘটনার নজির রয়েছে দেশব্যাপী।

কিন্তু সম্প্রতি রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় এঘটনা চাঞ্চল্যেও সৃষ্টি করেছে । জানা গেছে, তারাগঞ্জ উপজেলার ভীমপুর কাজীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মতিয়ার রহমানের পুত্র অনার্স পড়–য়া সোহেল রানা ঘটনার শিকার । মতিয়ার রহমানের সাথে দ্বন্দ্ব স্থানীয় শামসুল ইসলামের। এই শামসুল ইসলাম ভিলেজ পলিট্রিক্সে একজন পাঁকা খেলোয়ার হিসাবে বহুল আলোচিত । এই শামসুল ইসলাম তার ভাবী হাজেরা বেগমকে বাদী করে গত ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে তার গর্ভে সোহেলের সন্তান রয়েছে মর্মে প্রচার করে ।

এক পর্যায়ে সোহেলের সাথে মিষ্টির পরকীয়া প্রেম, অবৈধ সম্পর্ক ইত্যাদি অভিযোগ এনে রংপুরে নারী ও শিশু আদালতে একটি মামলা করে । মামলার বর্ণনায় বলা হয়, ৪মাসের গর্ভবতী মিষ্টি আক্তারকে সোহেল রানা জোরপূর্বক নিয়ে গিয়ে সৈয়দপুর উপজেলার একটি ক্লিনিকে গর্ভপাত করায় । আদালতের নির্দেশে মামলাটি তদন্তের দায়িত্বে রয়েছে পিবিআই কর্মকর্তা । এ মামলার পাশাপাশি ভিলেজ পলিটিকার শামসুল ইসলাম স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার জামায়াত সমর্থিত দেলোয়ারকে দিয়ে দরবার সালিশের আয়োজন করে ।

ঐ শালিসে একটি লিখাবিহীন স্ট্যাম্পে দেলোয়ার পূর্বপরিকল্পিতভাবে কৌশলে মতিয়ারের টিপসই আদায় করে । পরে এই চক্র ট্যাম্পে মামলায় বর্ণিত সকল ঘটনা সত্য এমর্মে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করে । এই করে সোহেলৈ রানাকে সামাজিকভাবে অপরাধী সাজানো হয় ।
ভিকটিম মিষ্টি আক্তার সম্প্রতি স্থানীয়দের সাথে মোবাইলে কথা বলে প্রকৃত রহস্য উন্মেচিত করেন ।

মোবাইল কথোপকথনে মিষ্টি আক্তার বলেন, আমার চাচা শামসুল ইসলাম পরিকল্পিতভাবে সোহেল রানাকে ফাঁসাতেই এই মিথ্যা মামলা করেছেন । প্রকৃতপক্ষে আমার সাথে এমন কোন ঘটনাই ঘটেনি সোহেল রানার সাথে । মিষ্টি আক্তারের মোবাইলের কথোপকথন ফাঁস হয়ে গেলে এলাকাবাসীর কাছে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায় । প্রতিকার এবং নিজেদের নিরাপত্তা চেয়ে রংপুর পুলিশের ডিআইজি, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার বরাবর মিথ্যা মামলার সঠিক ও সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করে আবেদন করেছেন সোয়েল রানা পিতা মতিয়ার রহমান । এ বিষয়ে শামসুল ইসলাম জানান, আমার ভাতিজিকে ধর্ষন করেছে । তাই মামলা করেছি ।

আপনার মতামত লিখুন :