শতভাগ সাক্ষরতা অর্জন বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ : প্রতিমন্ত্রী

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন বলেছেন, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) মর্যাদা অর্জনের জন্য নিরক্ষরতা দূরীকরণ জরুরি। তিনি বলেন, আমরা দেশে সাক্ষরতার হার বাড়াতে কাজ করে যাচ্ছি। এটি আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। আমাদের লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে এখনও অনেক কাজ বাকি রয়েছে, সেগুলো শুরু করা হয়েছে।

রোববার (৮ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির কনফারেন্স হলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ২০১৯’ উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আকরাম আল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান এবং উপ-আনুষ্ঠানিক ব্যুরোর মহাপরিচালক তপন কুমার ঘোষ।

দেশে এখন ৭৩ দশমিক ৯ শতাংশ লোক সাক্ষরতার আওতায় রয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এটি জোট সরকারের আমলে ৫০ শতাংশের ঘরে ছিল। শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতায় এসে এটি ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি করেছে। শতভাগ মানুষকে সাক্ষরতার আওতায় আনতে আমরা বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। শতভাগ মানুষকে সাক্ষরতার আওতায় আনা আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ। আগামী এক বছরের মধ্যে ২১ লাখ মানুষকে সাক্ষরতার আওতায় আনা হবে।’

তিনি বলেন, আমরা মৌলিক সাক্ষরতার প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের ৬৪ জেলায় নির্বাচিত ২৫০টি উপজেলার ১৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সী ৪৫ লাখ নিরক্ষরকে সাক্ষরতা জ্ঞান প্রদান করেছি। ইতোমধ্যে এ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রথম প্রর্যায়ে ১৩৪টি উপজেলায় শিখন কেন্দ্রের মাধ্যমে ২৩ লাখ ৫৯ হাজার ৪৪১ জন নিরক্ষরকে সাক্ষরতা প্রদান করা হয়েছে।

দেশে অনেক সুবিধাবঞ্চিত বয়স্ক মানুষ রয়েছে। তাদের তালিকা তৈরি করার কাজ শুরু হয়েছে। এসব মানুষদের সাক্ষরতার আওতায় আনা হবে বলেও জানান সচিব।

তিনি বলেন, আমরা পথশিশুদের মতো সুবিধাবঞ্চিত, পার্বত্য অঞ্চলের মানুষকে শিক্ষিত করার জন্য কাজ করছি। প্রকৃতপক্ষে বিপুলসংখ্যক মানুষকে নিরক্ষর করে রেখে জাতীয় উন্নয়ন অসম্ভব।

এর আগে দিবসটি উপলক্ষে মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে একটি বর্ণাট্য শোভাযাত্রা বের হয়।

জানা গেছে, জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা-৪ (এসডিজি) অর্জনে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার আওতায় ১৫ বছরের ঊর্ধ্বে ৫০ লাখ নিরক্ষরকে মৌলিক সাক্ষরতা প্রদান, ১৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সী ৫ লাখ যুব ও বয়স্কদের নতুন সাক্ষরতার আওতায় আনাসহ দক্ষতা অর্জনে তাদের উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। এজন্য ৫০০টি আইসিটি বেইসড স্থায়ী কমিউিনিটি লার্নিং সেন্টার স্থাপন করা হবে ও ৬৪ জেলায় ৬৪টি জীবিকায়ন দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র করা হবে। এ ছাড়াও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আগামী এক বছরে সারাদেশে ২১ লাখ মানুষকে সাক্ষরতার আওতায় আনা হবে। এ বিষয়ে একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরি করেছে মন্ত্রণালয়।

আপনার মতামত লিখুন :