গাজীপুরে মধ্যরাতে রেস্তোরাঁয় বিস্ফোরণ: ভবন ধ্বসে আহত-১৮ তদন্ত কমিটি গঠন

মো: জহিরুল ইসলাম,গাজীপুর
গাজীপুর মহানগরীর ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বোর্ডবাজার এলাকার মধ্যরাতে বিকট বিস্ফোরণে দুটি রেস্তোরাঁ লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। শনিবার দিনগত রাত ২টার দিকে মহাসড়কের পাশে চারতলা ভবনের নিচ তলায় ‘বাংলার রাঁধুনী’ ও তিনতলা ভবনের নিচ তলায় ‘তৃপ্তি’ হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহত হয়েছেন অন্তত ১৮ জন।

‘বাংলার রাঁধুনী’ হোটেলের ম্যানেজার সুমন (২৬) নিজেও এ ঘটনায় আহত হয়েছেন। তিনি বলেছেন, রাতে কাজ শেষে তারা যখন হোটেল বন্ধ করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখনই ওই বিস্ফোরণ ঘটে। সুমন ছাড়াও আল আমীন (৩২), আরিফুল (১৮), জুবায়ের (১৬), নাজমুল (২২), জাহিদ (২৫), আলমগীর (২৭), মারুফ (১৩), মাসুদ (১৮), সুফিয়ান (২২), জাহাঙ্গীর (২০), শুকুর (১৯), রাশেদ (২২), তুহিন (২২)। আহতরা সবাই ওই দুই খাবার হোটেলের কর্মী। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক।

স্থানীয়রা জানান, গভীর রাতে হঠাৎ প্রন্ড বিস্ফোরণে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে। মনে হয়েছে বিস্ফোরণের উৎপত্তিস্থল ছিল বাংলার রাঁধুনী হোটেল। তাতে পাশের তৃপ্তি হোটেলের একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিকট ওই বিস্ফোরণের পর খাবার হোটেল থেকে ছিটকে যাওয়া ইটের টুকরোর আঘাতে মহাসড়কের উল্টো পাশের বোর্ডবাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পাঁচতলার কাচ ভেঙ্গে যায়।

আহত রাধুনী হোটেলের রুটির কারিগর মো: জমির উদ্দিন জানান, রাত পৌণে ২টার দিকে তাদের হোটেলের মেঝের নিচ দিয়ে যাওয়া জ্যাম হয়ে থাকা পিভিসির পাইপ পরিস্কার করা হয়।পরে ওই পাইপের মুখটির ঢাকনা লাগানোর সময় হঠাত করে প্রচন্ডবেগে গরম বাতাস বইতে থাকে। এক পযায়ে ওই বাতাস তাকে ঠেলে নিয়ে হোটেলের ভেতর থেকে বাইরের দিকে ফেলে দেয় এবং বিকট শব্দ হয়। কিছুক্ষণ পর তার উপর ইট-সুরকি ও মিস্টির শোকেজের কাচ গিয়ে তার উপর পড়ে।

এতে তিনি আহত হন। খবর পেয়ে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। তবে তার আগেই স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে তায়রুন্নেসা মেমোরিয়াল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নিয়ে যায়। সেখান থেকে ১৮ জনকে পাঠানো হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপালে। গাজীপুর ফায়ার স্টেশনের সিনিয়ার স্টেশন অফিসার মো. জাকারিয়া খান বলেন, হোটেলে বিস্ফোরণ আর আগুনের খবর পেয়ে আমরা গিয়েছিলাম। বিস্ফোরণে হোটেলের দেয়াল ধসে পড়েছে, পলেস্তরা খসে পড়েছে।

তবে আগুন ছড়ায়নি। মেট্রোপলিটন গাছা থানার ওসি ইসমাইল হোসেন বলেন, পাশাপাশি তিন ও চার তলা দুটি ভবনের নিচতলায় ওই দুই খাবার হোটেল। দুই হোটেলের মাঝ বরাবার স্যুয়ারেজ লাইন গেছে। ওই লাইন ছিল ঢাকনা দেওয়া। হতে পারে ময়লা আটকে গিয়ে সেখানে গ্যাস জমে গিয়েছিল।

বিস্ফোরণে ওই হোটেলের দক্ষিণ পাশে থাকা ভাই ভাই সুপার মার্কেটের কয়েকটি দোকান, পেছনে থাকা নুরুল ইসলামের বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া বিস্ফোরণের সময় হোটেলের ইট, সাটার ও পিলারসহ ভেঙ্গে গিয়ে স্পিন্টারের মত ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পশ্চিম পাশে থাকা মসজিদে আঘাত হানে। এতে পাঁচ তলা বিশ্ষ্টি মসজিদের জানালার কিছু গ্লাস ভেঙ্গে যায় এবং মিম্বরে থাকা মাইকও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে মেডিকেল ফাঁড়ি পুলিশের পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া বলেন, মোট ১৮ জনকে আনা হয়েছিল।

তাদের মধ্যে তিনজনকে বার্ন ইউনিটে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এস.এম তরিকুল ইসলাম। অতিরিক্ত জেলা মেজিস্ট্রেট মো: শাহিনুর ইসলামকে প্রধান করে গঠিত এই কমিটিতে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।জেলা প্রশাসকের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান শাহিনুর শনিবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে দুই হোটেলের মাঝখান দিয়ে (মেঝের নিচ দিয়ে যাওয়া) সুয়ারেজ লাইনে এবং হোটেল দুইটির সামনে থাকা ড্রেনে জমাকৃত গ্যাসের বিস্ফোরন থেকেই ওই দুর্ঘটনা ঘটেছে। শনিবার সকালে গাজীপুর মহানগরের পুলিশ কমিশনার মো. আনোয়ার হোসেন এবং বিকেলে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এসএম তরিকুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

এদিকে র‌্যাব-১-এর কোম্পানী কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, দুপুরে বোম্ব ডিস্পোজাল ও বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ দলের ছয় সদস্য ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং বিস্ফোরণ স্থলের নমুনা নিয়ে গেছেন। ওই নমুনা পরীক্ষার পর বিস্ফোরণের প্রকৃতি সম্বন্ধে বলা যাবে।

আপনার মতামত লিখুন :