বিতর্কিত কর্মকান্ড- চাঁদাবাজি-শৃঙ্খলাভঙ্গ ছাত্রলীগের কমিটি ভাঙ্গছে শ্রীর্ঘই

স্টাফ রিপোর্টার
ঐহিত্যবাহী ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের বিভিন্ন বিতকিত কর্মকান্ড নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছে দলটির মূল সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ। ছাগল চুরি, চাঁদাবাজি, নমিনেশন বানিজ্যসহ সংগঠন বিরোধী কর্মকান্ডের জন্য ছাত্রলীগ নিয়ে সমালোচনার ঝড় বইছে। ছাত্রলীগ মূলতঃ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ভাতৃপ্রতীম সংগঠন। আওয়ামী লীগের পরামর্শ ও নির্দেশনায় চলে সংগঠনটি ।

কাজেই এ ছাত্রসংগঠনটির কারনে মূল দলের ভাব মর্যাদাও যেমন বৃদ্ধি পায়। তদ্রুপ সমালোচিত কর্মকান্ডে বিদ্রুপ মন্তব্যও হয়। ঢাকা বিশ্বদ্যিালয়ে পরীক্ষা না দিয়েও ডাকসু নেতা বনে যাওয়া, নিজেদের নেতিবাচক কর্মকান্ডে বিভিন্ন সময়েই ছাত্রলীগ সংবাদের শিরোনাম হওয়ায় খোদ প্রকাশ করেছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি এতটাই ক্ষুদ্ধ যে শেষ পর্যন্ত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি ভেঙ্গে দেয়ার কথা বলতে বাধ্য হন। যদিও আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এটি সত্যি নয়।

এগুলো হাওয়া থেকে পাওয়া। যতক্ষণ পর্যন্ত কিছু সিদ্ধান্ত আকারে না আসছে ততক্ষণ পর্যন্ত এর সত্যতা স্বীকার করা যাবে না।
এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত শনিবার রাতে গণভবনে দলের স্থানীয় সরকার ও সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের যৌথসভায় তিনি বর্তমান কমিটি ভেঙ্গে দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন।

সভায় উপস্থিত বেশ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সভায় অংশ নেওয়া আওয়ামী লীগের এক নেতা জানান, ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকান্ড ও অযোগ্যতার কারণেই এই কমিটি ভেঙ্গে দেওয়ার কথা বলেন দলের প্রধান। তিনি বলেন, উপজেলার প্রার্থী মনোনয়ন চূড়ান্ত করতে আয়োজিত সভায় ছাত্রলীগের প্রসঙ্গ তোলেন নেত্রী। তিনি বলেন, ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ।

বিশেষ করে তারা দুপুরের আগে ঘুম থেকে ওঠে না। সভায় উপস্থিত আরেক নেতা প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মেলনে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বেলা ১১টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেন, শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি ছাত্রলীগের অনুষ্ঠানে পৌঁছানোর পর সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকরা অনুষ্ঠানস্থলে যায়। সিনিয়র নেতা তোফায়েল আহমেদকেও তারা বসিয়ে রেখেছে।

এসময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও ইডেন কলেজের সম্মেলনের দুই মাস পেরিয়ে যাওয়ার পরও কমিটি দিতে না পারা, কুষ্টিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিটি করার বিষয়ে অনৈতিক অর্থনৈতিক লেনদেনের অভিযোগ ওঠা, কেন্দ্রীয় কমিটিতে অনেক বিতর্কিত, বিবাহিত ও জামায়াত-বিএনপি সংশ্লিষ্টদের পদায়ন করার বিষয় নিয়েও অনেক নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

যৌথসভার কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, প্রায় ১০ মিনিট ধরে ছাত্রলীগের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়। বিভিন্ন অভিযোগ ওঠার পর আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা কমিটি ভেঙ্গে দেওয়ার নির্দেশ দেন। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান বলেন, সভায় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী উদ্বেগ প্রুকাশ করেন।

সূত্র জানিয়েছে, শনিবার সভা চলাকালে ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক গণভবনে উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে তারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে চাইলেও আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাদের পরামর্শে তারা আর দেখা করেননি। আওয়ামী লীগের পরামর্শ ও নির্দেশনায় চলা এ ছাত্র সংগঠনটির গত বছরের ৩১ জুলাই রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনকে সভাপতি ও গোলাম রাব্বানীকে সাধারণ সম্পাদক করে দুই বছর মেয়াদী কমিটি ঘোষণা করা হয়।

কমিটি গঠনের পর থেকেই সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ উঠতে থাকে।
তবে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি ভেঙ্গে দেয়ার নির্দেশ সম্পর্কে জানতে চাইলে আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, কমিটি ভেঙে দেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। গতকাল সকালে সচিবালয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। তিনি বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত কিছু সিদ্ধান্ত আকারে না আসছে ততক্ষণ পর্যন্ত এর সত্যতা স্বীকার করা যাবে না।

মনোনয়ন বোর্ডের সভায় এসব সিদ্ধান্ত আসে না। ওখানে আমরা অনেক কথাই বলতে পারি। ক্ষোভের প্রকাশও হতে পারে। কিন্তু দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে এটা নিয়ে আমার মন্তব্য করা ঠিক হবে না। এসব খবর হাওয়া থেকে পাওয়া অভিযোগ করে তিনি বলেন, কথা হয় একরকম, আসে আরেকরকম। এরকম কিছু হলে সেটা ওপেন স্টেটমেন্টে হবে। পাবলিকলি হবে। সবাই জানবে।’ প্রধানমন্ত্রী কি ছাত্রলীগের ব্যাপারে ক্ষুব্ধ?’- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কিছু কিছু ব্যাপারে তো ক্ষোভ থাকতেই পারে।

যেমন নির্বাচনের সময় বিদ্রোহ প্রার্থীদের বিরুযদ্ধে আমরা ক্ষুব্ধ। সেরকম ভাবে ছাত্রলীগেরও কিছু কিছু ব্যাপারে ক্ষোভ থাকতেই পারে। আমি নিজেও তাদের কিছু কর্মকান্ডের ব্যাপারে ক্ষুব্ধ।
এদিকে চট্টগ্রামে এক ছাত্রলীগ নেতা ১ কোটি টাকা চাঁদার দাবিতে একটি কোচিং সেন্টারের মালিককে তার অফিস কক্ষে মারধর করেন। ওই মারধরের দৃশ্য ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে পড়ে। ওই ঘটনায় মামলা হলেও জামিন পান সেই নেতা।

রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানা ছাত্রলীগ সভাপতি তানহা ও তার কমিটির একাধিক সদস্যের বিরুদ্ধে ছাগল চুরিসহ বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা হয়। এ ঘটনায় দলের ভাব মর্যাদা ক্ষুন্ন হয়। সম্প্রতি বেরিয়ে এসেছে এক নতুন তথ্য তা হলো দেশের দ্বিতীয় পার্লমেন্ট বলে খ্যাত ডাকসুর ও হলের একাধিক নেতা যারা ছাত্রলীগ থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। কিন্তু পরীক্ষা না দিয়েই তারা ভর্তি হন।

ঢাকা মহানগর (দঃ) সহ সভাপতি নুরুন নবীর বিরুদ্ধে রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। তিনি একজন প্রবাসীকে জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামীলীগ থেকে দলীয় নমিনেশন পাইয়ে দেয়ার মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে হাতিয়ে নেন প্রায় দুই কোটি টাকা। প্রতারনার আশ্রয় নিয়ে দলটির দপ্তর সম্পাদকের জাল সাক্সর করেছেন। প্রধান মন্ত্রীর সাক্ষর জাল করতেও দ্বিধাবোধ করেনি। এছাড়াও কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা ও এমপির নাম ব্যবহার করেছেন। কতিপয় স্বার্থান্বেষী ছাত্রলীগ নেতার এহেন কর্মকান্ডের কারনে এর খেসারত দিতে হচ্ছে এখন পুরো কমিটিকে।

আপনার মতামত লিখুন :