রাতের আধারে ঘর নির্মাণ দখল-দূষণে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে চৌদ্দগ্রামের ২০ খাল

মোহাম্মদ শাহ্ আলম শফি,কুমিল্লা
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে দখলে-দূষণে অস্তিত্ব বিলীনের পথে অন্তত ২০টি খাল। ইতোমধ্যে বেশিরভাগ অংশে দখল হয়েছে কাঁকড়ি, ডাকাতিয়া নদী, ধোয়ার পোল সর্পলোলা খাল ও আটগ্রাম বৈদ্দের ছড়া। প্রকাশ্যে দখলদারের পরিধি বাড়লেও প্রশাসন সংশ্লিষ্টরা নিরব ভূমিকা পালন করে চলেছে। ঈদুল আযহার দীর্ঘ ৯ দিনের ছুটিতে প্রভাবশালী চক্র রাতের আধারে বাঁশ কাঠ দিয়ে খালের উপর ঘর নির্মাণ করে বিভিন্ন ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানের নিকট ভাড়া দেয়।

জানা গেছে, উপজেলার উত্তর-দক্ষিণে ৪৪ কিলোমিটার এলাকায় কাঁকড়ি ও ডাকাতিয়া নদীসহ প্রায় ৩০টি খাল রয়েছে। প্রভাবশালীরা বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করে অন্তত ২০টি খাল দখল করে রেখেছে। স্থানীয়দের ভাষ্যানুযায়ী সরকারি খাল দখল করেই একের পর এক স্থাপনা নির্মাণ হয়েছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে-খালগুলো দেখার যেন কেউ নেই। দখলকৃত খালগুলো হলো, চৌদ্দগ্রাম জনতা ব্যাংক সংলগ্ন ধোয়ার পোল সর্পলোলা খাল, আটগ্রাম বৈদ্দের ছড়া, কানাইল খাল, জন জইন্যা খাল, মইল্লা খাল, কুছড়া খাল, বালুজুড়ি খাল, আমজাদের বাজার খাল, কাদৈর বাজার খাল, চৌমুহনী বাজার খাল। সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখা যায়, চৌদ্দগ্রাম বাজারস্থ ধোয়ার পোল সর্পলোলা খালের দুই পাশে স্থাপনা তৈরি করে দখল করেছে প্রভাবশালীরা।

বিশেষ করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন পোলের পাশে খালের ভিতরে বালুর বস্তা ফেলে উপরে মাচা তৈরি করে ভাড়া দিয়েছে একটি চক্র। এতে করে একদিকে পানি নিষ্কাশনে বিঘœ সৃষ্টি হয়ে জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে ঘরবাড়ি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখিন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে আটগ্রাম বৈদ্দের ছড়া ও আমজাদের বাজার সংলগ্ন খালের পানি নিষ্কাশনের ব্যাঘাত ঘটিয়ে মাচা তৈরি করার কারণে খালের পাড় ভেঙে ফসলের ক্ষতি হচ্ছে।

আটগ্রামের ভুক্তভোগী কৃষক মোসলেহ উদ্দিন জানান, ‘পানির প্রবাহ প্রতিবন্ধকতার কারণে প্রতি বছর খালের পাড় ভেঙে পাহাড়ি ঢলের পানি প্রবেশ করায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। বর্ষা মৌসুমের আগে অবৈধ স্থাপনা ভেঙে দিয়ে খালের পানি নিঃষ্কাশন ব্যবস্থা ঠিক করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি’। এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল লতিফের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি দেখভালের দায়িত্ব জেলা প্রশাসনের। অবৈধ দখল হয়ে থাকলে সেটি উচ্ছেদের এখতিয়ারও তাদের।

অন্যদিকে কুমিল্লা সড়ক ও জনপথ (সওজ)-এর নির্বাহী প্রকৌশলী ড. আহাদ উল্লাহর কাছে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মহাসড়ক সংলগ্ন যে কোন স্থাপনা নির্মাণই অবৈধ। এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীকে বলা হবে। তবে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ রানাকে পাওয়া যায়নি।

আপনার মতামত লিখুন :