সমৃদ্ধ দেশ গড়তে ক্যাসিনো-জুয়ার বিরুদ্ধে অভিযান

সুখী, সমৃদ্ধ ও দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সে লক্ষ্য পূরণের জন্য দুর্নীতি, ক্যাসিনো ও জুয়ার বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান চালো হচ্ছে। সুখী, সমৃদ্ধ ও দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়তে এমন অভিযানের দরকার ছিল।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৩তম জন্মদিন উপলক্ষে শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) ‘বিশ্বনেতার অনন্য উচ্চতায় শেখ হাসিনা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন বক্তারা। আলোচনা সভার আয়োজন করে বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদ।

সংগঠনটির সভাপতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বেগম ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অ্যাডভোকেট আবদুল বাসেত মজুমদার, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ড. শাহীনুর রহমান এবং বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সাবেক মহাসচিব আব্দুল জলিল ভূঁইয়া। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক সিরাজুল হক আলো।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনেক কিছু করেছেন। বর্তমানে যে দুর্নীতি, এ সম্পর্কে বক্তারা অনেক কথা বলেছেন। এই দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে উনি (শেখ হাসিনা) যে ব্যবস্থা নিচ্ছেন, উনি যে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন, এ জন্য আমি দেশরত্ন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাই, অভিনন্দন জানাই। আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করে, দুর্নীতিবাজদের এ দেশ থেকে চিরতরে বিদায় করে দেই।

তিনি বলেন, বিএনপির আমলে উত্তরবঙ্গে এক সঙ্গে দুই’শ নারী ক্ষুধার জ্বালা সইতে না পেরে, তারা পতিতালয়ে নাম লিখিয়েছিলেন। কিন্তু এখন উত্তরবঙ্গে আর মঙ্গা নেই। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশের অর্থনীতি এগিয়ে যাচ্ছে। গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙা হচ্ছে। এখন আর কেউ খালি গায়ে, খালি পায়ে থাকে না।

এ সময় বিএনপির চেয়ারপসন খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সততার শীর্ষে। আমাদের দেশে তো আরেকজন নেত্রী (খালেদা জিয়া) আছে। উনি কী? উনি দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন।

ক্যাসিনো ও জুয়াড়িদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, আজকে সমাজে যে দুর্নীতি, এ দুর্নীতি রোধ করার জন্য এ ধরনের একটি কঠিন সিদ্ধান্তের প্রয়োজন ছিল এবং আজকে সেই অভিযান চলছে। এ অভিযান যেন সফল হয়, সে জন্য আমাদের সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু বলতেন আমাদের আত্মশুদ্ধির প্রয়োজন আছে। নিজেকে নিজে বিশুদ্ধ করতে হবে। আমরা যদি আত্মশুদ্ধিতে থাকতাম তাহলে আজকে শুদ্ধি অভিযানের প্রয়োজন হতো না। যারা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বসে একেবারে নিজেদের পারিবারিক ও ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন, তাদের নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। এ জন্য আজকের এই শুদ্ধি অভিযান।

অ্যাডভোকেট আবদুল বাসেত মজুমদার বলেন, ক্যাসিনো, জুয়া ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে অভিযান চলছে। এ অভিযানের কারণে অনেকে এখন প্রকাশ্যে আসছেন না। কারণ, তাদের মধ্যে ভয় ঢুকে গেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন- ক্যাসিনো, জুয়ার ফাদার, গ্র্যান্ডফাদার, গডফাদার কেউ বাঁচবে না। সাধারণ মানুষ মন্ত্রীর সেই কথার প্রতিফল দেখতে চায়।

আব্দুল জলিল ভূঁইয়া বলেন, ‘আমরা যখন দেখি বিএনপির লোক আমাদের দলে (আওয়ামী লীগ), তখন শঙ্কিত হতেই হয়। একটি লোকের ফার্ম কীভাবে ২২ হাজার কোটি টাকার কাজ পায়? আজকে আওয়ামী লীগে জামায়াত, বিএনপি ঢুকে গেছে। যে আওয়ামী লীগ সাধারণ মানুষের দল, সেই আওয়ামী লীগকে সাধারণ মানুষ ভয় পায়। ক্যাসিনোর সঙ্গে অনেক সাংবাদিক নেতার নাম শুনছি। এতে আমি লজ্জ্বায় বাঁচি না।’

আপনার মতামত লিখুন :