গাইবান্ধায় বিটিপিএস ভূয়া এনজিও খপ্পরে অনেকেই নিঃস্ব মা ও শিশু প্রকল্পে স্বাস্থ্য কর্মী পদে নিয়োগে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ

শহিদুল ইসলাম খোকন,গাইবান্ধা
গাইবান্ধার সদর উপজেলার বাদিয়াখালিতে ওমর ফারুক নামে এক প্রতারক বিটিপিএস নামে ভূয়া রেজিষ্ট্রেশন দেখিয়ে মা ও শিশু প্রকল্পে ‘স্বাস্থ্য কর্মী’ পদে নিয়োগের নামে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মাসাতের গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভূক্তভোগীরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। তথ্য অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ওমর ফারুক বাদিয়াখালির আব্দুল লতিফ মাষ্টারের ছেলে।

সে কিছু দিন এস,ডি,আর,এস নামের একটি এনজিওতে কাজ করত। এনজিওর টাকা লুটপাট করে সে নিজস্ব বাড়ীতে বাদিয়াখালী ত্রাণ ও পূর্ণবাসন সংস্থা নামে একটি এনজিও চালু করে। সুযোগ সন্ধানী ওমর ফারুক তার প্রতারণার কাজ চালানোর জন্য কৌশলে মনিরুজ্জামান সবুজ ও আবুল বাশার কে নিয়োগ দেয়। প্রকল্পের মাধ্যমে ‘স্বাস্থ্য কর্মী’ পদে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা জামানত নিয়ে গত ১৫/০১/১৯ইং তারিখে আবুল বাসার ও ওমর ফারুক স্বাক্ষরিত নিয়োগ পত্রে মোছাঃ সুমনা খাতুন ও মোছাঃ শাপলা খাতুন কে নিয়োগ দেন।

এ ব্যাপারে সুমনা খাতুন ও শাপলা খাতুনের সাথে কথা বললে তারা ‘দৈনিক আমাদের কন্ঠে বলেন, প্রতারক সবুজের সাথে আমার বড় বোন জামাইয়ের মাধ্যমে পরিচয় হয়। সে বলে আমাদের এনজিও (বিটিপিএস) স্বাস্থ্য কর্মী পদে লোক নিয়োগ করা হবে। তোমরা দুই বোন যদি চাকুরী কর তাহলে আমি ওমর ফারুক স্যারের সাথে কথা বলতে পারি। তবে জামানত স্বরূপ দুই লক্ষ টাকা দিতে হবে।

বেকারত্ব ঘুচানোর জন্য আমি রাজি হয়ে যাই। উচ্চ সুদের উপর টাকা নিয়ে ওমর ফারুক ও মনিরুজ্জামান সবুজ কে দেই। তারা ১৫/০১/২০১৯ইং তারিখে আমাদের দু’বোন কে একই পদে দুটি ভূয়া নিয়োগ পত্র দেন। নিয়োগের তিন মাস পরে আমরা দু’বোন অফিসে গেলে বেতন তো দূরে থাক ফারুক ও সবুজ কে অফিসে খুঁজে পাওয়া যায়নি। মুঠো ফোনে তাদের সাথে যোগাযোগ করলে উল্টো তারা আমাকে ধমক দিয়ে বলে দের লক্ষ টাকায় দুই বোনের চাকরি পাওয়া যায় না কি ? তোমাদের কে আরও ২ লক্ষ টাকা দিতে হবে। আমরা দুই বোন অফিসে গেলে আরো অনেকের সাথে আমাদের দেখা হয়।

তারা বলেন আমাদের কাছ থেকেও টাকা নিয়েছে কিন্তু বেতন ভাতা নামের কিছু নাই। দীর্ঘদিন থেকে থেকে জামানতের টাকা ফেরত নেওয়ার জন্য ঘুরতেছি, কিন্তু ওমর ফারুক ও মনিরুজ্জামান সবুজের খুজে পাওয়া যায়নি। কয়েকজন ভূক্তভোগী বলেন, নিয়োগ দেওয়ার কথা বলে প্রত্যেক কর্মীরর কাছ থেকে ৫০ হাজার থেকে এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত জামানত নেওয়া হয়েছে। জামানতের বিপরীতে কোন রশিদ দেওয়া হয়নি। এই প্রকল্পের নিয়োগ পাওয়া এক স্বাস্থ্য কর্মীর সাথে কথা বললে, ‘সে বলে ঢাকায় ২০ হাজার টাকার বেতনের চাকরির করতাম। চাকরী ছেড়ে দিয়ে গত জানুয়ারী মাসে এই প্রকল্পে ঢুকেছি কিন্তু নয় মাসেও এ প্রকল্প চালু হয়নি’।

এখন শুনেছি এ প্রকল্প নাকি ভূয়া টাকাও দিলাম ঢাকার চাকুরীটাও হারালাম এখন আমি কি করব ? জামানতের টাকা উদ্ধারের চেষ্টা করতেছি কিন্তু প্রতারক ওমর ফারুক কে পাচ্ছি না। আমাদের কন্ঠের তথ্য অনুসন্ধানে উঠে এসে ওমর ফারুক তার প্রতারনা ফাঁদ হিসেবে বিভিন্ন এলাকায় গড়ে তুলেছে তার একেক জন প্রতিনিধি। যাদের মাধ্যমে কর্মী সংগ্রহ করে বিপুল অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। নিজের প্রচারের জন্য আওয়ামীলীগ নেতাদের সাথে ছবি তুলে পোস্টার লাগাতো।

প্রতারনা চক্রের ফাঁদ হিসাবে সে তার স্ত্রী, সবুজ, আবুল বাশার প্রমুখ কে ব্যবহার করত। জিহাদ নামের এক চাকুরি সন্ধানের সাথে কথা বললে আমাদের কে বলে, ‘আমি চাকুরির জন্য ফারুক ভাইয়ের স্ত্রীর কাছে গিয়েছিলাম সে বলে চাকুরী পাওয়া খুবই কঠিন। তবে টাকা হলে আমি ফারুকের সাথে কথা বলতে পারি। এ ব্যাপারে নির্বাহী পরিচালক ফারুকের সাথে কথা বললে, সে বলে আমি ঢাকা যাব সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাসিম (এমপি) ভাইয়ের ভাগনার সাথে দেখা করতে যাব।

আমার হাতে সময় খুবই কম। আপনারা পরে যোগাযোগ করেন’। পরে যোগাযোগ করলে তার মুঠো ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তার এক সহকর্মীর সাথে যোগাযোগ করলে সে বলে, ফারুক স্যার ৬টি মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে। জানা গেছে এটাও তার প্রতারনা, যাতে করে কেউ তার সাথে যোগাযোগ করতে না পারে। ভূক্তভোগিরা তার কাছে জামানতের টাকা ফেরত নিতে গেলে সে মোবাইল ফোনে বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। অফিসের সামনে চলমান প্রকল্পের তালিকা ‘মা ও শিশু স্বাস্থ্য শিক্ষা’ কার্যক্রম, দুর্যোগকালীন সময়ে ত্রান বিতরণ, সেলাই প্রশিক্ষণ স্যানিটেশন, বনায়ন, ল্যিাগল এইড, নারী প্রশিক্ষণ, ত্রান ও পূর্ণবাসন থাকলেও মাঠ পর্যায়ে তাদের কোন কার্যক্রম খুঁজে পাওয়া যায়নি।

আপনার মতামত লিখুন :