অর্থনৈতিক উন্নয়নে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, গত এক দশকে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে। শক্তিশালী নেতৃত্ব, সুশাসন, সঠিক উন্নয়ন পরিকল্পনা, স্থিতিশীল সরকার এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বাংলাদেশের অর্থনীতিকে মজবুত করে তুলেছে। বাংলাদেশকে উন্নয়নের মডেল বানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত ডুইং বিজনেস অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ইন বাংলাদেশ শীর্ষক এক কর্মশালায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন। আন্তর্জাতিক ফিন্যান্স কর্পোরেশন, এন্টারপ্রাইজ সিঙ্গাপুর এবং ইনফ্রাস্টাকচার এশিয়া এ কর্মশালার আয়োজন করে। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ড. মো. রেজাউল করিম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সবাইকে অবাক করে দিয়েছে। বাংলাদেশ বৈদেশিক সহায়তা গ্রহণকারী দেশ থেকে এখন বিনিয়োগের অনুকূল ভূমিতে পরিণত হয়েছে। দেশে বিনিয়োগের পরিমাণ ক্রমান্বয়ে বেড়ে জিডিপির ৩১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। বেসরকারি বিনিয়োগ আগের দশকের তুলনায় পাঁচগুণ বৃদ্ধি পেয়ে ৭০.০৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে।

আইনমন্ত্রী বলেন, পিপিপির ভিত্তিতে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের ৩০তম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ এবং উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি অর্জন করছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক আউটলুক ২০১৯ উল্লেখ করেছে যে, বাংলাদেশ এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ। এইচএসবিসি তাদের ২০১৮ সালের প্রতিবেদনে ভবিষ্যদ্বাণী করেছে যে, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে ২৬তম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ এবং বিশ্বের তিনটি দ্রুততম অর্থনীতির একটি হবে বাংলাদেশ।

মন্ত্রী বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় মধ্যে বাংলাদেশেই সবচেয়ে উদার বিনিয়োগ নীতি রয়েছে। এখানে বিদেশি বিনিয়োগ সুরক্ষার জন্য আইনি ব্যবস্থা রয়েছে; উদার কর অবকাশ নীতি রয়েছে; যন্ত্রপাতি আমদানিতে শুল্ক ছাড়ের ব্যবস্থা রয়েছে; বিদেশিদের বিনিয়োগের পর লভ্যাংশ এবং মূলধনের সম্পূর্ণ নিয়ে যাওয়ার সুবিধা রয়েছে। বৈদেশিক বিনিয়োগ জাতীয় সংসদে পাস করা আইন এবং দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ চুক্তি দ্বারা সুরক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে।

আনিসুল হক বলেন, গত দশ বছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে গড়ে ৭ শতাংশ, যা গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৮ দশমিক ১৩ শতাংশে পৌঁছেছিল এবং চলতি অর্থবছরে এটি ৮ দশমিক ২ হওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। মূল্যস্ফীতি হ্রাস পেয়ে ৫ দশমিক ৪ শতাংশ হয়েছে; মাথাপিছু আয় বেড়ে ১৯০৯ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে; বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তোলার রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ইতোমধ্যে তার সরকার ‘ভিশন ২০২১’ অর্জনের কাছাকাছি। তার সরকারের মূল লক্ষ্য ‘ভিশন ২০৪১’ বাস্তবায়ন করে উন্নত দেশে পরিণত হওয়া। এ দর্শনের ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশে ব্যাপক আর্থ-সামাজিক রূপান্তর শুরু হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন ছিল সোনার বাংলা বিনির্মাণ করা। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতার নৃসংস হত্যাকাণ্ডের পর তার স্বপ্ন অপূর্ণ থেকে যায়। দেশের অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ দীর্ঘ দুই দশক ধরে তীব্র ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছিল। একুশ বছরের সামরিক ও আধা-সামরিক শাসনের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণতান্ত্রিক সরকার গঠন করেছিলেন এবং জাতির পিতার অসম্পূর্ণ কাজটি আবার শুরু করেছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন :