মৌলভীবাজারে যত্রতত্র ইটভাটা পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র নেই “মেসার্স কালাম ব্রিকস” ফিল্ডের

মশাহিদ আহমদ, মৌলভীবাজার
মৌলভীবাজারে যত্রতত্র ইটভাটা। পরিবেশ অধিদফতরের নীতিমালা উপেক্ষা করে যত্রতত্র গড়ে উঠেছে এসব অবৈধ ইটভাটা। জেলা সদরের বড়মান, ইটা সিংকাপন এলাকার “ মেসার্স কালাম ব্রিকস” ফিল্ডসহ একাধিক ইটভাটায় পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রসহ বৈধ কাগজপত্র নেই।

জানা গেছে- ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ইং এর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পাহাড়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং লোকালয় থেকে তিন কি.মি. দূরত্বের মধ্যে কোনো ইটভাটা নির্মাণ করা যাবে না। কৃষি জমি, পাহাড়, টিলা থেকে মাটি কেটে ইটের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করতেও নিষেধ রয়েছে। এছাড়াও কৃষিজমিতে ইটভাটা তৈরির আইনগত নিষেধ থাকলেও কৃষিজমি, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বনাঞ্চলের পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন স্থান ও স্কুল ঘেঁষে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে এসব ইটভাটা। ইটভাটা নিয়ন্ত্রণে কঠিন আইন থাকা সত্ত্বেও কিছুই বাস্তবায়ন হচ্ছে না।

বিভিন্ন জায়গায় বাংলা ড্রাম চিমনির মাধ্যমে কাঠ দিয়ে ইট পোড়ানো হয়। আবার কোনো কোনো জায়গায় চিমনি ছাড়াও ইট পোড়ানো হয়। নেই একাধিক ইটভাটার পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র। ইটভাটা হতে বিষাক্ত গ্যাস নির্গমনের ফলে পরিবেশ দূষিত হয়। পরিবেশের ভারসাম্য বিনষ্ট হচ্ছে। জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে এবং খাদ্য-শৃঙ্খলে ব্যাঘাত ঘটছে। পরিবেশ দূষণের কারণে মানুষ ও জীবজন্তুর ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। মানুষ ক্যান্সার, চর্মরোগ, শ্বাসকষ্ট ও পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

স্থায়ীভাবে বাংলাদেশে পরিবেশ সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। মহাহুমকিতে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য। ভবিষ্যতে এমন সংকটের কারণে সমগ্র বাংলাদেশে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এমন অপকর্ম থামাতে তৎপর নয় সংশ্লিষ্টরা। দায়সার গুচরের দু’একটি অভিযানেই দ্বায়িত্ব পালন শেষ। এমন উদাসীনতায় ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে প্রকৃতি ও পরিবেশ। বেশিরভাগ জায়গায় কৃষি জমি নষ্ট করে গড়ে উঠছে ইটভাটা।

যার কারণে ইটভাটার পার্শ্ববর্তী জমির কৃষকরা বিপাকে পড়েছেন। হাজার হাজার লোক ইটভাটার ধোঁয়ার কারণে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে- স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে তাদের হেন ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাই অবৈধ ব্যবসায়ীদের সমস্যা হচ্ছে না। ভাটা মালিকরা এ আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একের পর এক ইটভাটা স্থাপন করে চলেছেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে – পরিবেশ অধিদপ্তর মৌলভীবাজার জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোঃ বদরুল হুদা বলেন- জেলায় যত্রতত্র ইটভাটা রয়েছে। এগুলোর মধ্যে “ মেসার্স কালাম ব্রিকস” ফিল্ডসহ একাধিক ইটভাটায় পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রসহ বৈধ কাগজপত্র নেই। এসব ইটভাটাকে দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর মৌলভীবাজার জেলা কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক মোঃ আল-আমিন বলেন- বিধিমালা অনুযায়ী পরিবেশ অধিদপ্তর বিষয়টি দেখবে। ভোক্তার অভিযোগের ভিত্তিতে একাধিকবার এসব প্রতিষ্ঠানে জরিমানা করা হয়েছে। ইটভাটায় ইটের সাইজ দেয়ার কথা সেঠাও উনারা দিচ্ছেনা। ভোক্তারা বেশি ইট কিনতে হচ্ছে। তাছাড়া স্কুল-কলেজের পাশেই এসব ইটভাটা গড়ে উঠার কারণে ছেলে মেয়েরা পরিবেশ দুষনের কারণে স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন :