দুর্ভোগের অপর নাম যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

মির্জা বদর”জ্জামান টুনু,যশোর
দুর্ভোগের অপর নাম যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ড। এই ওয়ার্ডের তিনটি সিলিং ফ্যান নষ্ট থাকলেও কর্তৃপক্ষের কোনো মাথা ব্যথা নেই। রোগীদের কেউ কেউ নিজেদের কেনা ফ্যান দিয়ে গরম নিবারণের চেষ্টা করছেন।

২০০৩ সালে থেকে বর্তমান করোনারি কেয়ার ইউনিটের পিছনে পুরাতন ভবনের দ্বিতীয় তলায় ১৪টি বেড নিয়ে মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডের কার্যক্রম পরিচালিত হতো। অতিরিক্ত রোগী হলে তাদের বেডের নিচে ফাঁকা স্থানে রেখে ব্যবস্থাপত্র দেওয়া হতো। কিন্তু গত ২০১৭ সালের আগস্টে ওই ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। তখন থেকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মেডিসিন মহিলা রোগীদের চিকিৎসার জন্যে আবাসিক মেডিকেল অফিসারের বাসভবন খুলে দেন। সেখানে ছোট ছোট সাতটি কক্ষে ঠাসাঠাসি করে চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা।

হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডের রোগীরা গরমে হাঁসফাঁস করছেন। এখানে একটি রুমে ডেঙ্গু কর্ণার করা হয়েছে। কিন্তু আটটি ফ্যানের তিনটিই নষ্ট। রোববার সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত এই ওষার্ডে চিকিৎসাধীন ছিলেন ৪১ জন। গরম থেকে রেহাই পেতে নিজেদের ছোট ছোট ফ্যান দিয়ে অনেকে স্বজনের রোগীকে বাতাস দিতে দেখা গেছে।

ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন হামেলা বেগম জানিয়েছেন, তাদের বাড়ি চৌগাছার কাদবিলা গ্রামে। বুকে ও পেটে ব্যাথা নিয়ে শনিবার চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। কিন্তু তার অবস্থা খারাপ হওয়ায় রাতেই যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন চিকিৎসক। জরুরি বিভাগ থেকে তাকে ভর্তি করা হয় মেডিসিন ওয়ার্ডে। তাকে ট্রলিতে করে নিয়ে যান হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবনের মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে। সেখানে নিয়ে কোন রুমে জয়গা না থাকায় তার স্থান হয় ভবনের পিছন দিকে বাথরুমের সামনে।

একদিকে মাথার উপর ফ্যান নষ্ট অপরদিকে বাথরুমের উৎকট গন্ধ। রায়হান শেখ নামে এক রোগীর স্বজন জানিয়েছেন, তার স্ত্রী মর্জিনা বেগম্হনংঢ়; অসুস্থ। ওয়ার্ডে দু’দিন রয়েছেন। মাথার উপর ফ্যানটি নষ্ট । প্রচ- গরমে থাকা কঠিন। ওয়ার্ডের ভেতরে দিনরাত গরম থাকে। সহ্য করতে না পেরে স্ত্রীকে নিয়ে আম গাছের নিচে অবস্থান নিয়েছেন। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার আবুল কালাম আজাদ লিটু জানিয়েছেন, হাসপাতালের চতুর্থ তলার নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে।

ওই ভবনে মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডের রোগীদের স্থানান্তর করা হবে। যশোর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার হাসপাতালে ২০ টি ও একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন পক্ষথেকে চারটি সিলিং ফ্যান দিয়েছেন। দ্রুত মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডের নষ্ট ফ্যান তিনটি পরিবর্তন করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন :