জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন রোগীরা পরিত্যাক্ত ভবনেই চলছে চিকিৎসা সেবা

শফিক আহমেদ

পুরান ঢ্কাার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোডর্) হাসপাতালের পরিত্যাক্ত ভবনেই চলছে রোগীদের চিকিৎসা সেবা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতি দিন শতশত রোগী মিটফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন। হাসপাতালের এডওয়ার্ড বিল্ডিং মেডিসিন ভবন নামে পরিচিত এ বিল্ডিংটি মারাত্বক রকমের ঝুকি পূর্ণ হয়ে পড়েছে। ১৮৫৮ সালের ১লা মে এ হাসপালটি চিকিৎসা সেবা শুরু করে।

ভবনটির ছাদ ও দেয়ালের প্লাষ্টার খসে পড়ছে বহু দিন থেকে। পিডাব্লডি এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে একাধিক বার চিঠি দিয়ে জানালেও কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তারা বলছে, যে কোন সময় ভেঙ্গে পড়তে পারে মেডিসিন ভবন। গত বছর মন্ত্রানালয়, ডিজি হেল্থ থেকে শুরু করে সবাইকে লিখিত ভাবে মেডিসিন ভবন পরিত্যাক্ত ঘোষনা করার বিষয় জানিয়েছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ রোগী রাখার জায়গা না থাকায় পরিত্যাক্ত ভবনটিতেই রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন ।

স¦াস্থ্য মন্ত্রানালয় বারবারই চিঠি দেয়ার কারনে হাসপাতাল কতৃপক্ষ ভাঙ্গা জায়গা মেরামত করাচ্ছে। তার উপর মেডিসিন ভবনটি প্রতœতত্ত বিভাগের তালিকা ভুক্ত হওয়ায় সমস্যা বেড়েছে আরো বেশী। এ ছাড়াও ১নং ব্যাংক ভবন বা সাবেক জরুরী বিভাগ, ৫নং লাল বিল্ডিং মারাত্বক রকমের ঝুকিতে রয়েছে। ১নং, ৫নং ভবন অনেক আগেই পরিত্যাক্ত ঘোষনা করেছে পিডাব্লউডি। এসব ভবনগুলোতে সাইন বোর্ডও লাগানো হয়েছিল।

সাইনবোডের্র কোন নিষেধাজ্ঞা মানেনি এখানে থাকা কর্মচারীরা। মেডিসিন ভবনে রোগীরা চিকিৎসা সেবা নিলেও অন্যান্য ভবন গুলোতে হাসপাতাল কর্মচারীরা পরিবার নিয়ে বসবাস করেন। ফলে, রোগী ও কর্মচারীদের পরিবার মিলিয়ে ৩ হাজার মানুষ মারাত্বক ঝুকিতে রয়েছে।
পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ও বাংলাদেশের সব চেয়ে প্রাচীনতম মিটফোর্ড হাসপাতালটির অবস্থা খুবই করুন হয়ে পড়েছে। কয়েকটি ভবন হয়ে পড়েছে রোগীদের জন্য ঝুকিপূর্ণ ।

১৮৫৮ সালের ১লা মে এ হাসপাতালটি স্থাপন করেন বৃষ্টিশ নাগরিক রবাট মিটফোর্ড। দেড়শঁ বছরের এ হাসপাতালটির বিভিন্ন ভবনের ইট ও চুন সুড়কির ঢালাই খসে পড়ছে প্রতি দিনই। এতো পুরানো হয়েছে যে, ভবনগুলো ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। িিপডাব্লুডিøর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী বিজয় কুমার মন্ডল বলেন,এ ভবনটি এতোই পুরাতন যে, এটি ব্যাবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে বহুআগে। ভূমিকম্প হলে এ ভবনটি ভেঙ্গে পড়ার আশংকা অনেক বেশী। ভবনের ছাদের অবস্থা খুবই করুন।

বড় সমস্যা হচ্ছে ছাদকে ঘিরেই। পুরো ভবন জুড়ে ছাদের বিভিন্ন অংশর চুন সুড়কির ঢালাই রোগীদের উপর ভেঙ্গে পড়ছে। বর্তমানে প্রতিদিন শুধু মেডিসিন ভবনেই রোগী ভর্তি ৩শ এই ৩শ রোগীর সাথে ২ জন করে এটেন্ডেন্ট থাকেন,ডাক্তার ,শিক্ষানবিসসহ ১ হাজার মানুষ এ ভবনে বসবাস করেন। মিটফোর্ড হাসপাতালের এসব মানুষের নিরাপত্তা চেয়ে কোন পরিচালকই কিছুদিন আগেও এক রোগীর উপর ছাদের কিছু অংশ খসে পরে মাথা ফেটে যায়। পরে তার মাথা শেলাই করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। বিষয় গুলো হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অনেকবার জানিয়েছি, ছাদের অনেক জায়গার প্লাষ্টার খসে পরেছে।

তবে ছাদ ভেঙ্গে অনেক জায়াগায় নতুন ছাদ করে ভাল ফল পাওয়া গেছে। ভবনটি প্রতœতত্ব বিভাগের তালিকা ভূক্ত হওয়ায় এটি ভাঙ্গা যাচ্ছেনা। তবে পুরো বিষয়গুলো নিয়ে প্রকৌশলীদের সাথে বসে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছিলেন যা আজ ও আলোর মুখ দেখেনি। এ ব্যাপারে হাসপাতালের সহ পরিচালক আব্দুর রশিদ বলেন, বর্তমানে এডওয়ার্ড ভবন বা মেডিসিন বিল্ডিংয়ে শতশত রোগী চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন। এ সব রোগীদের সড়ানোর কোন জায়গা নেই।

নতুন কার্ডিয়াক ভবনের নির্মান কাজ চলছে। সেটি সম্পূর্ন হলে অস্থায়ী ভাবে সেখানে রোগী স্থানান্তর করা যেতে পারে। তারপর ভবনটি ছেড়ে দেওয়া যায়, আপাতত নয়। এ ছাড়াও ৫নং ভবন ও সফ্স এন্ড সার্ভেন্স কোয়াটার ভেঙ্গে সেখানে হাসপাতালের জন্য ১৬ তলা ভবন করার অনুমোদন হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে আর কোন সমস্যা থাকবেনা।

আপনার মতামত লিখুন :