কাঁঠালিয়ার ঐতিহ্যের দশোহরা উৎসব পালিত

কিল মিয়াজী,কাঁঠালিয়া,ঝালকাঠি
ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার আমুুয়া বন্দরের হলতা নদী মোহনায় দুইদিন ব্যাপী দশোহরা উৎসব পালিত হচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) থেকে দুইদিনের এ উৎসব শুরু হয়েছে। বিষখালী নদীর তিনটি শাখা নদীর হলতা মোহনায় প্রতিবছরের মত এবারও দশোহরা উৎসবে উপকূলীয় এলাকার কয়েক হাজার উৎসব মুখর মানুষ সমবেত হন।

বিজয় দশমীর শেষ বিকেলে নদী মোহনায় দুর দুরান্ত থেকে যান্ত্রিক ট্রলারে দূর্গা প্রতিমা এ নদী মোহনায় নিয়ে এসে সন্ধ্যায় মোহনায় বিসর্জণ। এছাড়া আজ বুধবার (৯ অক্টোবর) আমুয়া বন্দরে বার দেশোহরা অনুষ্ঠিত হবে। শুক্রবার বিকেলে উৎসবের প্রথম দিনে আমুয়ার হলতা নদীর মোহনায় সরেজমিনে গিয়ে দেখাগেছে, দশোহরা উৎসবকে ঘিরে দুর দূরান্ত থেকে উৎসব মুখর মানুষের উপস্থিতিতে উৎসবস্থল যেন জন সমুদ্রে পরিনত হয়েছে।

শতশত যান্ত্রিক ট্রলার আর নৌকায় চড়ে নাচ গানের মধ্য দিয়ে কয়েক হাজার মানুষ ঐতিহ্যবাহী দশোহরা উৎসব পালন করে। এ সময় উপকূলীয় এলাকার বিভিন্ন দূর্গা পূজা ম-প হতে সেখানে যান্ত্রিক ট্রলারে করে দূর্গা প্রতিমা দশোহরা উৎসবে নিয়ে আসা হয়। প্রতিমা বহনকারী ট্রলার নদীর মোহনার চারপাশ জুড়ে ঘুরে ঘুরে ঢাক ঢোল পিটিয়ে আনন্দ উল্লাস করে এ উৎসব পালন করেন।

উৎসবে সকল ধর্মের মানুষ স্বতস্ফূর্তভাবে অংশ গ্রহণ করেন। আমূয়া ইউনিয়ন দূর্গা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি রাখাল চন্দ্র কর্মকার জানান, আমুয়ার দশোহরা উৎসব সরকারী-বেসরকারী কোন সহায়তা না থাকায় আড়াই শত বছরের এ ঐতিহ্যবাহী উৎসবটি আগের চেয়ে অনেক ম্লান হতে চলেছে। এ ব্যাপারে সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক কমিটি উপজেলা সম্পাদক সাংবাদিক ফারুক হোসেন খাঁন জানান, আড়াইশ বছরের পুরানো আমুয়ার দশোহরা উৎসব। ১৭০০ শতকে শেষ দিকে এ এলাকার জমিদার রায় বিহারী লাল মিত্র বাহাদুর আমুয়া বন্দরে দশোহরা উৎসবের প্রচলন করেন।

সেই থেকে আজ অবধি এ উৎসব চলে আসছে। অনুষ্ঠানে জারি সারি কবিগান নৌকাবাইচসহ না অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া দশোহরা উৎসবে আমুয়া বন্দর ঘিরে মেলা বসে। নানা সংকটে এ উৎসব এখন কোনমতে টিকে আছে। তাছাড়া উপকুলীয় এলাকার অভ্যন্তরীণ খাল গুলোর নাব্যতা হ্রাস ও খালে বাধ দেওয়ায় নৌ চলাচল কমে গেছে। ফলে উৎসবে নৌপথে আগের মত প্রতিমা না আসতে পারার কারনে এ উৎসবটি অনেক ম্লান হতে বসেছে। পৃষ্ঠপোষকতা না পেলে হয়তো একদিন হারিয়ে যাবে আমাদের এ সংস্কৃতি।

এ ব্যাপারেআমুয়া ইউপি চেয়ারম্যান এস.এম আমিরুল ইসলাম ফোরকান সিকদার বলেন,আমুয়ার দশোহরা ও বারদশোহরা উৎসব শিশুকাল হতেই দেখে আসছি। উপকুলীয় এলাকার হিন্দু মুসলমানদের মিলন মেলা হিসেবে এ উৎসবকে আজও দেখা হয়। বর্তমান সরকার ঐতিহ্যেও এ উৎসব টিকিয়ে রাখতে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তবে আমাদের সকলের উচিৎ সক্রিয়ভাবে এ দশোহরা উৎসব টিকিয়ে রাখা। কেননা এ উৎসব আমাদের আবহমান বাংলার সংস্কৃতির অংশ।

আপনার মতামত লিখুন :