রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২৫ শতাংশ কাজ শেষ

খুলনা ব্যুরো
২০২১ সালে আলোচিত রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে জাতীয় গ্রিডে। সে লক্ষে দ্রুত এগিয়ে চলছে প্রকল্পটির নির্মাণ কাজ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এরইমধ্যে মূল বিদ্যুৎ প্লান্টের নির্মাণ কাজ ২৫ শতাংশ শেষ হয়েছে।

সারি অত্যাধুনিক ভারী যন্ত্রপাতি, শ্রমিক ও প্রকৌশলীদের কর্মতৎপরতায় রাত-দিন চলা বিশাল কর্মযজ্ঞে এগিয়ে চলছে মোংলা-খুলনা মহাসড়কের পাশে রামপালে প্রায় ১৮৩৪ একর জমির উপর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের কাজ। বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি (প্রাইভেট) লিমিটেড ১৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে সরকারের মেগা ওই প্রকল্প বাস্তবায়িত করছে।

বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানের উপ-প্রকল্প পরিচালক মো. রেজাউল করিম জানান, ৬৬০ মেগাওয়াট করে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দুটি ইউনিট রয়েছে। এক সাথে এগিয়ে চলছে কেন্দ্রগুলোর নির্মাণ কাজ। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে হস্তান্তর করা হবে প্রথম ইউনিট আর ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে হস্তান্তর করা হবে দ্বিতীয় ইউনিটটি। এদিকে, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাঁচামাল বহনের জন্য মোংলা বন্দরের পশুর চ্যানেলের নাব্য বৃদ্ধি করা হয়েছে।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী (সিভিল ও হাইড্রোলিক) শেখ শওকত হোসেন জানান, মোংলা বন্দরের জেটি থেকে রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জেটি পর্যন্ত দীর্ঘ ১৪ কিলোমিটার চ্যানেলের ১২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নাব্য বৃদ্ধি করে নৌযান চলাচলের উপযোগী করা হয়েছে। আর সড়ক পথে পণ্য বহনের সুবিধা রাখতে বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে মোংলা-খুলনা মহাসড়ক পর্যন্ত ছয় কিলোমিটার ফোর লেন সড়ক নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণ করেছে এলজিইডি। সংস্থাটির রামপাল উপজেলা প্রকৌশলী গোলজার হোসেন জানান, এতে ব্যয় হয়েছে ১১৯ কোটি টাকা।

খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আবদুল খালেন বলেন, সরকারের সঙ্গে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত সময় অর্থাৎ ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে সক্ষম হবে। এতে করে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা নিশ্চিত হবে। নিরবছিন্ন বিদ্যুৎ পাবে দেশের সকল মিল কারখানায়।

শিল্প উদ্যোক্তা নুরুল হক লিপন বলেন, বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি উৎপাদন শুরু করলে দক্ষিণাঞ্চলের প্রতিটি জেলায় নতুন নতুন কলকারখানা গড়ে উঠবে। এই অঞ্চল অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধশালী হবে দূর হবে বেকারত্ব।
মোংলা বন্দর ব্যবহারকারী মোস্তফা জিসান ভূট্র বলেন, তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পণ্য শতভাগ মোংলা বন্দর দিয়ে খালাস করা হলে ব্যাপক রাজস্ব আয় কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে এ বন্দরের।

তবে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষায় পরিবেশবিদদের নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি বিশেষ টিম গঠনের দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্ধা শাজাহান সিদ্দিকী।

আপনার মতামত লিখুন :