টঙ্গীবাড়ীতে রাক্ষুসে পদ্মার ৩ কিলোমিটার জুড়ে ভাঙ্গন

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
বৃষ্টি ও ওজান হতে নেমে আসা ঢলের পানিতে মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ীতে পদ্মাপারে ৩ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। এতে ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় পদ্মার পার জুড়ে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে টঙ্গীবাড়ী উপজেলার দিঘিরপাড়, হাইয়ার পার, সরিষাবন,বড়াইল, ভাঙ্গনিয়া, বাগের পার, দশত্তর, বাগবাড়ি, চৌসাড় এলাকায় পদ্মা নদী ভাঙ্গছে।

ভাঙ্গন কবলিত মানুষ রাস্তার পাশে অন্যর জমি ভাড়া নিয়ে ঘর উত্তোলন করে তাতে বসবাস করছে। ভাঙ্গনে শুধু হাইয়ারপাড় গ্রামের সুজ্জত আলী বেপারী, সায়েদ হালদার, নুরুল হক হালদার, আ. খালেক সেখ, ইদ্রিস হালদার, করিম হালদার, রহিম হালদারসহ ২০টি পরিবারের বাড়ি ইতিমধ্যে পদ্মা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। হাইয়ারপার জামে মসজিদটির একটা অংশের নিচের মাটি সড়ে গিয়ে মসজিদটি বাকাঁ হয়ে পদ্মা নদীর থেকে হেলে পরেছে । যে কোন মুহুর্তে মসজিদটি পদ্মায় বিলীন হওয়ার শংঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে হাইয়ারপাড় গ্রামের খালেক সেখের বাড়ি গিয়ে দেখা যায়, তার বসত বাড়ির একটি ঘর ইতিমধ্যে পদ্মায় বিলীন হয়ে গেছে পাশের অপর ঘরটিতে তারা বসবাস করছেন। ওই পরিবারটির অভিযোগ পদ্মা নদী হতে ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে মাটি কাটা এবং পদ্মা নদী হতে বোল ড্রেজার দিয়ে মাটি উত্তোলনের কারনে ভাঙ্গনের তিব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থাণীয় হাইয়ার পার গ্রামের বাসিন্দা করিম হালদার জানান, ছোট বেলায় দেখেছি আমাদের বাড়ি হতে পদ্মা নদী ৫ কিলোমিটার দূরে ছিলো।

কিন্তু কয়েক বছরের ভাঙ্গনে আমাদের বাড়িটি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এই নদীটির টঙ্গীবাড়ী উপজেলার পাচগা্ওঁ হাসাইল অংশে বাধঁ নির্মাণ হলেও অপর অংশের আমাদের এলাকায় বাঁধ নিমার্ণ না হওয়ায় নদীতে আমাদের বাড়িঘর বিলীন হচ্ছে। এ ব্যাপারে কামারখাড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন হালদার জানান, ভাঙ্গনে কামাড়খাড়া ইউনিয়নের বিলেরপাড়, বড়াইল, বাগবাড়ি, ভাঙ্গনিয়া গ্রামের অনেক পরিবারের ঘর বাড়ি হারিয়ে নিংস্ব হয়ে গেছে।

এই অঞ্চলের শত শত একর আবাদী জমি নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে । দিঘিরপার বাজারের অপরপারের চরাঞ্চলের আবাদী কৃষি জমি পদ্মায় বিলীন হচ্ছে। বিগত দুই যুগের পদ্মার ভাঙ্গনে টঙ্গীবাড়ী উপজেলার দিঘিরপাড় ও হাসাইল ইউনিয়নের ৯০ ভাগ অংশ এবং পাচঁগাওঁ ও কামারখাড়া ইউনিয়নের প্রায় অর্ধেকাংশ পদ্মা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।

বিগত ১০ বছর আগে পাচগাওঁ ও হাসাইল অঞ্চলে স্থায়ীভাবে বাধ নির্মাণ করা হলে ওই অংশের ভাঙ্গন বন্ধ হলেও কামারখাড়া দিঘিরপার অঞ্চলে স্থায়ীভাবে কোন বাধ নির্মাণ না হওয়ায় ওই অঞ্চলে নদী ভাঙ্গন অব্যাহত আছে। ভাঙ্গন রোধে এ বছর দিঘিরপাড় ও কামারখাড়া ইউনিয়নের ভাঙ্গনকবলিত গ্রামগুলিতে বেশ কিছু বালু ভর্তি জিএ ব্যাগ ফেলানো হলেও গত কয়েকদিন যাবৎ স্রোতের তিব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় বেশ কিছু অংশে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে।

এ ব্যাপারে টঙ্গীবাড়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জগলুল হালদার ভূতু জানান, ভাঙ্গন রোধে বর্ষার শুরুতে বেশ কিছু বালু ভর্তি জিএ ব্যাগ ফেলানো হয়েছে। স্থায়ীভাবে এ অঞ্চলে বাঁধ নির্মানের জন্য একটি প্রস্তাব ইতিমধ্যে পাঠানো হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :