দীর্ঘ ১৭ বছর পর ভোটের আনন্দঃ ফিরে দেখা গণতন্ত্রের উৎসব- মোঃ রাহাত ইসলাম

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
বিস্তারিত জানতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ক্লিক করুন
Advertisement

মোঃ রাহাত ইসলাম (সৃজনশীল সাংবাদিক) | মতামতঃ

দীর্ঘ ১৭ বছর পর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ পাওয়া নিছক একটি ভোটাধিকার প্রয়োগ নয়- এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পুনর্জাগরণের এক ঐতিহাসিক অধ্যায়। ১৯৯৩ সালে জন্ম নেওয়া প্রজন্মের জন্য এবারের নির্বাচন কেবল একটি রাজনৈতিক ঘটনা নয়; এটি হারিয়ে যাওয়া গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পাওয়ার উদযাপন।

গত প্রায় দেড় দশকের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের নির্বাচনব্যবস্থা প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। একতরফা নির্বাচন, ভোটাধিকার সংকোচন এবং ভীতির পরিবেশ সাধারণ নাগরিকের রাজনৈতিক অংশগ্রহণকে সীমাবদ্ধ করে রেখেছিল। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম, যারা ভোটার হওয়ার পর থেকেই একপাক্ষিক নির্বাচনের সাক্ষী হয়েছে, তারা কখনোই প্রকৃত অর্থে নিজেদের পছন্দের জনপ্রতিনিধিকে বেছে নেওয়ার সুযোগ পায়নি। ফলে গণতন্ত্রের বদলে একধরনের কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা দেশের রাজনীতিকে গ্রাস করেছিল।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান সেই অচলায়তন ভেঙে দেয়। জনগণের সম্মিলিত প্রতিবাদ ও ত্যাগের বিনিময়ে দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে আসে। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন সত্যিকার অর্থেই প্রতিযোগিতামূলক ও অংশগ্রহণমূলক হয়ে উঠেছে। দীর্ঘ ১৭ বছর পর নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারার যে আনন্দ- তা অনেক নাগরিকের কাছেই অভূতপূর্ব।

এই অনুভূতির সঙ্গে জড়িয়ে আছে ব্যক্তিগত স্মৃতিও। প্রয়াত দেশের প্রবীণ সাংবাদিক এইচ.এম. জালাল আহম্মেদ (বাবা) প্রায়ই বলতেন, “আগে বাংলাদেশে নির্বাচন মানেই ছিল জাতীয় উৎসব।” মানুষ উৎসাহ নিয়ে ভোটকেন্দ্রে যেত, বিতর্ক করত, গণতন্ত্রের চর্চা করত। সেই সময়ের স্বাদ কিছুটা দেখা গেলেও প্রকৃত উপভোগ তখন সম্ভব হয়নি। কারণ, বুঝে ওঠার আগেই গণতন্ত্রবিরোধী শক্তি সেই উৎসবকে গ্রাস করেছিল।

আজ আবার সেই পরিবেশ ফিরে আসায় অনেকের মতো আমিও আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ। তবে এই আনন্দের মধ্যেও আছে দায়িত্ববোধ। কারণ, ইতিহাস আমাদের শিক্ষা দেয়- গণতন্ত্র কখনোই স্থায়ীভাবে নিরাপদ নয়; তা রক্ষা করতে হয় সতর্ক নাগরিক চেতনা দিয়ে। যদি আমরা উদাসীন হই, তবে আবারও গণতন্ত্রবিরোধী শক্তি মাথাচাড়া দিতে পারে।

এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচন তাই শুধু ক্ষমতার পালাবদলের বিষয় নয়; এটি গণতন্ত্র রক্ষার পরীক্ষা। প্রত্যেক নাগরিকের উচিত নিজ নিজ অবস্থান থেকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষা করা- ভোটাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতাআইনের শাসনকে সমুন্নত রাখা।

পরিশেষে, এবারের নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সকল প্রার্থী, ভোটার ও সংশ্লিষ্টদের জন্য শুভকামনা। আশা করা যায়, এই নির্বাচন বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি মুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক ও অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলবে।

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
বিস্তারিত জানতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ক্লিক করুন
Advertisement

দৈনিক আমাদের কণ্ঠ

বিজ্ঞাপন