জেলা প্রতিনিধি(বরিশাল):
বাস্থ্যখাত সংস্কার দাবিতে বরিশালের শের-ইবাংলা মেডিকেল কলেজের সামনে চলমান আন্দোলনে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতেকরে গরম ঘিয়ে জল ঢালার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে শেবাচিমে।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে শের-ইবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রধান ফটকে কর্মচারী ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। কর্মচারীদের ধাওয়া ও মারধরে অন্তত একজন আন্দোলনকারী আহত হন। ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় চলমান অনশন কর্মসূচি, যা স্বাস্থ্যখাত সংস্কারের দাবিতে ছয় দিন ধরে চলছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কয়েকজন কর্মচারী হঠাৎ করেই অনশনরত শিক্ষার্থীদের দিকে এগিয়ে গিয়ে ধাওয়া করেন এবং শারীরিকভাবে আঘাত করেন। ঘটনাস্থলেই একজন আন্দোলনকারী মাটিতে পড়ে যান। এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে আন্দোলনকারীদের মধ্যে এবং তারা দ্রæত স্থান ত্যাগ করেন।
আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেছেন, কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই কর্মচারীরা তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। অপরদিকে কর্মচারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে অনশন ও মহাসড়ক অবরোধের কারণে রোগী ও হাসপাতালের কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল। গত শুক্রবার থেকে শিক্ষার্থীরা ও স্থানীয় জনতা মিলে স্বাস্থ্যখাত সংস্কারের তিন দফা দাবিতে অনশন শুরু করেন।
দাবিগুলো হলো : ১. সরকারি হাসপাতালে পর্যাপ্ত জনবল ও অবকাঠামো উন্নয়ন
২. ওষুধসরঞ্জাম সরবরাহ নিশ্চিতকরণ ও ৩. স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতি নির্মূল ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা। এছাড়া আন্দোলনের অংশ হিসেবে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধের কারণে কয়েকদিন ধরে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং যাত্রী–চালকদের ভোগান্তি বাড়ে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন রনি জানান, আমরা শান্তি পূর্ণভাবে অনশন করছিলাম। হঠাৎ কর্মচারীরা এসে আমাদের ওপর হামলা চালায়। প্রশাসন দোষীদের চিহ্নিত করে শাস্তি দিক। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন হাসপাতাল কর্মচারী বলেন, অনশন ও অবরোধে রোগীরা চরম দুর্ভোগে পড়ছিল। আমাদের সহকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করতেই এই ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পরপরই পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। হাসপাতাল প্রশাসন জানিয়েছে, আন্দোলনকারীদের দাবিগুলো মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে এবং সমাধানের জন্য আলোচনা চলছে। বিকেল পর্যন্ত শেবাচিম চত্বরে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছিল। রোগী ও স্বজনদের অনেকে বলেন, হাসপাতালে প্রবেশের সময় তাদের ভীত-সন্ত্রস্ত মনে হচ্ছিল। শের-ইবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে বড় চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান, যেখানে প্রতিদিন গড়ে ১২০০-১৫০০ রোগী ভর্তি থাকে। স্বাস্থ্যখাত সংস্কার দাবিতে বরিশালে চলমান আন্দোলন গত ১৫ দিনে সর্বাধিক সংঘর্ষপূর্ণ রূপ নিল আজকের ঘটনায়।