শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি :
গাজীপুরের শ্রীপুরে এটিএম বুথ থেকে বেতনের টাকা তুলে বাসায় ফেরার পথে পোশাক শ্রমিক জুবায়দুল ইসলাম আলম (২৯)কে অপহরনের অভিযোগ উঠেছে। জুবায়দুল ইসলাম আলম সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার চোয়াগিরিস গ্রামের আব্দুছ ছালামের ছেলে। সে শ্রীপুর পৌরসভার বেড়াইদেরচালা এলাকায় স্ত্রীকে নিয়ে ভাড়া বাসায় থেকে গড়গড়িয়া মাষ্টারবাড়ী (লিচু বাগান) এলাকার ষ্ট্যান্ডার্ড গ্রæপ লিঃ (এসজিএল) পোশাক কারখানার সুইং সুপারভাইজার হিসেবে চাকরি করেন। এ ঘটনায় অপহৃতের মামা আব্দুল আলীম শ্রীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। বুধবার দুপুরে তিনি এ তথ্য জানান।
এর আগে সোমবার (১১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায় শ্রীপুর পৌরসভার বেড়াইদেরচালা (আসপডা মোড়) থেকে অজ্ঞাত ৩/৪ জন ব্যাক্তি জুবায়দুল ইসলাম আলমকে প্রাইভেটকারে উঠিয়ে মাওনা চৌরাস্তার দিকে নিয়ে যায়। সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজাখুজি করে না পেয়ে এদিন রাত পৌণে ১২ টায় শ্রীপুর থানায় নিখোঁজ সংক্রান্ত অভিযোগ দায়ের করেন অপহৃতের মামা।
অপহৃতের মামা আব্দুল আলীম বলেন, সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায় বেড়াইদেরচালা (আসপডা মোড়) বাজারে ডাচ্ বাংলা ব্যাকের এটিএম বুথ থেকে বেতনের টাকা উঠিয়ে বাসায় ফিরছিল। পথে আসপডা মোড়ে পৌঁছা মাত্রই অজ্ঞাত ৩/৪ জন ব্যাক্তি প্রাইভেটকারে এসে আলমের পথরোধ করে। পরে অজ্ঞাত ব্যাক্তিরা তাকে ভয় দেখিয়ে তাদের প্রাইভেটকারে উঠিয়ে মাওনা চৌরাস্তর দিকে নিয়ে যায়। পরে সে তার মোবাইল থেকে স্ত্রীর কাছে ফোন করে বলে আমাকে ওরা মেরে ফেলবে আমাকে বাঁচাও। অপহরনকারীরা আলমের মোবাইল থেকে তার সহকর্মী রবিউল হাসানের মোবাইলে ফোন দিয়ে মুক্তিপন হিসেবে তিন লাখ টাকা দাবী করে। এসময় এটিএম বুথ থেকে উঠানো তার সাথে থাকা বেতনের ৩০ হাজার টাকা অপহরনকারীদের দিয়ে দেয় আলম। আলম জানায় তাকে প্রাণে বাঁচাতে হলে তাদেরকে মুক্তিপনের তিন লাখ টাকা দিতে হবে। গাড়ীর ভিতর তাকে আটকে মারধর করছে বলে ফোন কেটে দেয় আলম।
তিনি আরো জানান, মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) দিবাগত রাত ১০ টায় জুবায়দুল ইসলাম আলমের সাথে তার সর্বশেষ কথা হয়। তার মোবাইল থেকে ফোন দিয়ে বলে আমাকে আর বাঁচাতে পারবেন না। টাকা আপনারা দিলেন না। মামা, আমাকে আর চাঁচাইতে পারলেন না। পরে আমি বলি টাকা সংগ্রহের চেষ্টা করতেছি বললে লাইন কেটে দেয়। পরে রাতে অনেকবার চেষ্টা করেছি যোগাযোগ করার জন্য। তার মোবাইলে ফোন দিলে বন্ধ পাওয়া যায় এবং মাঝে মাঝে খোলা থাকলেও রিসিভ করে না। রাত একটার দিকে আলম তার ছোট বোন সোমা আক্তারের (গাইবান্ধা শ^শুর বাড়ীতে থাকে) মোবাইলে ফোন করে বলে বোন তোমরা টাকা গুছাও, ওরা আমাকে মাইরা ফেলাব।
অপহৃত পোশাক শ্রমিক জুবায়দুল ইসলাম আলমের সহকর্মী রবিউল হাসান বলেন, সে (আলম) তার মোবাইল থেকে তাকে ফোন করে শুধু বলেছে আমাকে তোমরা বাঁচাও, ওরা আমাকে মেরে ফেলবে। এরপর থেকে তার সাথে আমার কোনো যোগাযোগ নাই।
শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুজন কুমার পন্ডিত বলেন, প্রাথমিক তদন্তে আমরা ধারনা করতে পেরেছে জুবায়দুল ইসলাম আলমের সাথে তার পারিবারের কারো বিরোধ থাকতে পারে। ওই বিরোধের কারণে টাকা হাতিয়ে নেয়ার জন্য সে নিজেই অপহরনের নাটক সাজাতে পারে। তারপরও আমরা অভিযোগটি গুরুত্ব দিয়ে তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে ভিকটিমের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে দ্রæত সময়ের মধ্যে তাকে উদ্ধারসহ প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করতে পারব।