আওয়ামী আমলা (ডিএন সি)’র ডিজি হাসান মারুফ হাদি হত্যার খুনি ফয়সাল করিমকে দিয়েছেন অনৈতিক সুবিধা

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
বিস্তারিত জানতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ক্লিক করুন
Advertisement

নিজস্ব প্রতিবেদক:

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হাসান মারুফ। যার অনিয়ম দুর্নীতি অন্তহীন। ছিলেন আওয়ামী আমলে জেলা প্রশাসক। তৎকালীন আওয়ামী এমপি মন্ত্রীদের সাথে হাত মিলিয়ে পল্লী বিদ্যুৎ বোর্ডের সদস্য নিয়োগ পান। পল্লী বিদ্যুৎ বোর্ডের দায়িত্ব পালনকালে জনস্বার্থ ও রাষ্ট্রের স্বার্থে মহামান্য হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া রায় বাস্তবায়ন না করে গড়ে তোলেন আওয়ামী ঘরনার সিন্ডিকেট। অপ্রতিরোধ্য হয়ে ক্ষমতার দাপট খাটিয়ে প্রশাসনিক সেট ও কাঠামো ভেঙ্গে স্বৈরাচারী ব্যবস্থা চালু করেন। খুশি হন তৎকালীন ফ্যাসিস্ট খুনি হাসিনা। পল্লী বিদ্যুৎ বোর্ডে গঠিত আওয়ামী সিন্ডিকেটের সুপারিশে কোন মানদন্ড যাচাই-বাছাই না করে পদোন্নতি দেওয়া হয় অতিরিক্ত সচিব হিসাবে। যা কোনোভাবে তিনি পাওয়ার যোগ্য ছিলেন না। অতিরিক্ত সচিব হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে যেখানে বসে বসে সারাদিন আওয়ামী সরকারের ঢোল তবলা বাদ্যযন্ত্র নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। একাধিক জাতীয় দৈনিক ও সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা যায়, জনপ্রশাসনের সাবেক সচিব মোখলেছুর রহমানকে মাসোহারা দিয়ে আওয়ামী প্রশাসনের সিনিয়রদের পাত্তাই দিতেন না এই আওয়ামী ঘরোনার প্রভাবশালী আমলা হাসান মারুফ। স্বরাষ্ট্র সচিব নাসিমুল গনীর ছেলের বন্ধু পরিচয় দিয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে বদলি বাণিজ্য, লুটপাট, দুর্নীতি, অনৈতিক সুবিধা নিয়ে লাইসেন্স অনুমোদনের মতো গুরুত্বপূর্ণ অপরাধে জড়িয়েছেন। ৪ মার্চ ২০২৫ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে যোগদানের পর একাধারে আওয়ামী লীগ পন্থী অফিসারদের সুবিধাজনক পোস্টিং প্রাইজ পোস্টিং দেওয়া শুরু করেন মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে। বিএনপি এবং অন্যান্য ঘরনার অফিসারদের জোরপূর্বক পাঠানো হয় ঢাকার বাইরে। দীর্ঘদিন ফ্যাসিস্টের দোসর হিসেবে আমলা গিরি করে ৫ আগস্টের পর ভোল পাল্টে নিজেকে সজ্জন ব্যক্তি বানিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের শক্তিশালী সিন্ডিকেট এর মাধ্যমে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ডিজির লোভনীয় পদ কৌশলে বাগিয়ে নেন । হাসান মারুফ ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদীর হত্যাকারী ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদকে আওয়ামী লীগ ঘরনার হওয়ায় ডেকে এনে বিভিন্ন অনৈতিক সুবিধা পাইয়ে দেন এবং এই খুনিকে দিয়ে মাদক বিরোধী জনসচেতনতামূলক ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করে অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে বিতর্কের মুখে পড়েন। বিষয়টি বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশিত হলে চাপের মুখে অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট থেকে কন্টেইনটি সরিয়ে নিতে বাধ্য হন। তৎকালীন সময় ওসমান হাদীর খুনের সাথে হাসান মারুফ ও ফয়সাল করিম ওরফে দাউদ এর সম্পৃক্ততার বিষয়ে তদন্তের দাবি করা হয়, কিন্তু অজানা কারণে সে জোর দাবি লোক চক্ষুর অন্তরালে চলে যায়। শুধু তাই নয় হাসান মারুফ দায়িত্ব পালনের পরপরই বাংলাদেশের প্রতিটি অলিগলি, পাড়া, মহল্লা, শহর ,নগর, বন্দর, মাদকে সয় লাভ হয়ে যায় যা বাংলাদেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা এবং আগামী প্রজন্ম মাদকে আসক্ত হওয়ার ব্যাপক ঝুঁকি রয়েছে। তার দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে (এন টি এম সি)টেলি কমিনিউকেশন মোবাইল ট্রাকিং এর মাধ্যমে অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা মাদক ব্যবসা ও বিভিন্ন অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়লেও অদৃশ্য কারণে তিনি সহ তার গঠিত সিন্ডিকেট মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছেন। যা তদন্ত করে হাসান মারুফ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রকে এখনই ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক অপরাধ বিশেষজ্ঞ উম্মে ওয়ারা সুমাইয়া ইকবাল বলেন, বর্তমান শাসনব্যবস্থা যে পর্যায়ে চলছে এতে এই ধরনের অপকর্ম কারীদের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ অধিদপ্তরে তাদের রাখা উচিত নয় বলে অভিমত ব্যক্ত করেন। অপরাধ বিশেষজ্ঞরা মনে করেন বর্তমান রাষ্ট্রযন্ত্র বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে দ্রæতই যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিবের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি তবে উপ-প্রেস সচিব আশরুফা বলেন, সরকার গঠিত হয়েছে খুব অল্প সময়। বিষয়টি নিয়ে আমরা অবগত নই আপনাদের মাধ্যমে অবগত হয়েছি সংবাদের বিস্তারিত দেখে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলে মহাপরিচালক হাসান মারুফ আমাদের কণ্ঠকে সময় দিতে অপরাগতা স্বীকার করেন।

 

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
বিস্তারিত জানতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ক্লিক করুন
Advertisement

দৈনিক আমাদের কণ্ঠ

বিজ্ঞাপন