জেলা প্রতিনিধি (বরিশাল) :
বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরামোদ্দি ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা রাহাত শিকদারকে ঘিরে স¤প্রতি আলোচনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সূত্রগুলো দাবি করেছে, তিনি অতীতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন এবং বিভিন্ন দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় ভাবে অংশ নিতেন। সংশ্লিষ্ট কয়েকটি নির্বাচনে তিনি নৌকা প্রতীকের পক্ষে প্রচার-প্রচারণায় ভূমিকা রেখেছেন বলেও অভিযোগ ওঠেছে। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকারের পতনের পর রাহাত শিকদার হঠাৎ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলে যুক্ত হন বলে দাবি স্থানীয় কয়েকজন নেতা-কর্মীর। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি বরিশাল জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক নিজামুর রহমান নিজামের সরাসরি আশ্রয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে শুরু করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই নিজামুর রহমান নিজামের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত হয়ে জেলা পর্যায়ের রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। রাহাত শিকদারের সঙ্গে এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি মোবাইল ফোনে কল গ্রহণ করেননি। বরিশাল জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব কামরুল হাসান বলেন, গত ৮ আগস্ট জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের মতবিনিময় সভায় তাকে উপস্থিত দেখা যায়। পরে নেতা-কর্মীদের কাছ থেকে জানতে পারি তিনি আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বিষয়টি জানতে চাইলে নিজাম ভাই জানান, তিনি তার এলাকার ছোট ভাই এবং তার সঙ্গে রাজনীতি করতে চান, তবে আগে কোনো দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না। তিনি আরও জানান, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী আওয়ামী লীগের কোনো ব্যক্তি স্বেচ্ছাসেবক দলে যোগ দিতে পারবে না এবং তাদের সাথে কোনো প্রকার যোগাযোগ রাখার সুযোগ নেই।
জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের দপ্তর সম্পাদক বাপ্পি আহমেদ জানান, নিজামুর রহমান নিজামের বরিশাল নগরীর ফকিরবাড়ি রোডে একটি অফিস আছে। সেখানে রাহাত ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে অবস্থান করেন। জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের অধিকাংশ নেতা বিষয়টি জানেন। এ বিষয়ে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক নিজামুর রহমান নিজাম বলেন, রাহাতের বিষয়ে কয়েকজন জানতে চেয়েছে। তিনি বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাদের সঙ্গে রাজনীতি করেন এবং তাদের সঙ্গে দলীয় মতবিনিময় সভায় এসেছিলেন। আমি জানি না তিনি আগের কোনো দলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কিনা। বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আল-আমিন বলেন, বিষয়টি সত্যিই বিস্ময়কর। রাহাত আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। ৫ আগস্টের পর হঠাৎ তাকে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের মিছিলে দেখতে পাই। সেই ব্যক্তি এখন জেলা পর্যায়ে রাজনীতি করছে এ বিষয়ে আমি আর কোনো মন্তব্য করতে চাই না। এদিকে, আওয়ামী লীগের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত এক ব্যক্তিকে দলে অন্তর্ভুক্ত ও সক্রিয় করার ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের একাধিক নেতা-কর্মী। এই বিষয়ে দলের উচ্চ পর্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণের আহব্বান জানিয়েছেন তারা।