নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশে ই-সিগারেট, নিকোটিন পাউচ ও হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্টের মতো উদীয়মান তামাকজাত দ্রব্য (ঊসবৎমরহম ঞড়নধপপড় চৎড়ফঁপঃং) নিয়ন্ত্রণে কার্যকর আইন না থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশের শীর্ষস্থানীয় তামাক বিরোধী সংগঠনগুলো। বক্তারা বলেছেন, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধনীতে এই পণ্যগুলোকে নিষিদ্ধ করার বিধান বাতিল করায় শিশু-কিশোরদের নিকোটিনে আসক্ত হওয়ার পথ সুগম হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য এক ভয়াবহ ও প্রাণঘাতী হুমকি। বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তামাক বিরোধী ৬টি সংগঠনের নেতারা এই দাবি জানান। সংগঠনগুলো হলো— বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট (বাটা), বিটিসিএ, বিএনটিটিপি, পিএইচএল, তাবিনাজ ও সিএসডি।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, সরকার তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন পাশ করায় সাধুবাদ জানালেও, বিলটি পাশের সময় ধারা ২(গ) থেকে ই-সিগারেট ও নিকোটিন পাউচের সংজ্ঞা বাদ দেওয়া এবং এগুলো নিষিদ্ধ সংক্রান্ত বিধান বিলুপ্ত করা অত্যন্ত দুঃখজনক। তারা অভিযোগ করেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা উপেক্ষা করে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে বর্তমানে দেশে এই ক্ষতিকর নেশাদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে কোনো আইনি বাধা রইল না, যা বিক্রেতাদের শিশু-কিশোরদের কাছে পণ্য বিক্রিতে উৎসাহী করবে। সংবাদ সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্যে সিএসডি-র আহ্বায়ক একেএম মাকসুদ বলেন, আমদানি আদেশে নিষিদ্ধ থাকা সত্বেও আইনি শিথিলতার কারণে তরুণ সমাজ আজ হুমকির মুখে।বিশেষজ্ঞ আলোচক ও তামাক নিয়ন্ত্রণ গবেষক মো. বজলুর রহমান এবং শিশু বিশেষজ্ঞ শাহ ইসরাত আজমেরী উল্লেখ করেন যে, তামাক কোম্পানিগুলো বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক দোকান স্থাপন করে এবং অবৈধ বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে তরুণদের আকৃষ্ট করছে। বিগত এক বছর নিষিদ্ধ থাকায় এই প্রবণতা কমলেও বর্তমান সিদ্ধান্তে তা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে। সংবাদ সম্মেলনে ম‚ল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ফারহানা জামান লিজা এবং সঞ্চালনা করেন সামিউল হাসান সজীব। এছাড়া বক্তব্য রাখেন ইকবাল মাসুদ, শাগুফতা সুলতানা, সীমা দাস সীমু ও অ্যাডভোকেট উম্মে হাবিবা কুমকুম। বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি দ্রæত এই আইনি ত্রুটি সংশোধন করা না হয়, তবে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এক ভয়াবহ স্বাস্থ্য সংকটের মুখে পড়বে।
- দৈনিক আমাদের কণ্ঠ: জাতীয় সংবাদ, প্রকাশিত সংবাদ, শীর্ষ সংবাদ, সংবাদ শিরোনাম, সারাদেশ