কক্সবাজারে আইন প্রয়োগে কঠোর অবস্থান অপপ্রচারের জবাবে ট্যুরিস্ট পুলিশের স্পষ্ট বার্তা

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
বিস্তারিত জানতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ক্লিক করুন
Advertisement

 

# অভিযান থামবে না আইজিপির দৃষ্টি আকর্ষণ অতিরিক্ত

ডিআইজি আপেল মাহমুদের কড়া হুঁশিয়ারি #

শাহিন চৌধুরী

দেশের সর্ববৃহৎ পর্যটন কেন্দ্র কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে অবৈধ দখল, চাঁদাবাজি ও সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের বিরুদ্ধে পরিচালিত ধারাবাহিক অভিযানে দৃশ্যমান সাফল্যের প্রেক্ষাপটে ট্যুরিস্ট পুলিশের বিরুদ্ধে প্রকাশিত একটি সংবাদকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার হিসেবে আখ্যা দিয়েছে বাংলাদেশ টুরিস্ট পুলিশ।সাম্প্রতিক ওই প্রতিবেদনে কক্সবাজার রিজিয়নের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদের বিরুদ্ধে পর্যটন অবকাঠামো ভাড়া দিয়ে মাসে লাখ লাখ টাকা বাণিজ্যের অভিযোগ তোলা হয়। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন এটি প্রমাণবিহীন, একপাক্ষিক এবং চলমান আইনানুগ অভিযানে বাধা সৃষ্টির একটি সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টা।অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ বলেন, গুরুতর আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তোলা হলেও প্রতিবেদনে কোনো দাপ্তরিক নথি, নিরপেক্ষ সূত্র বা যাচাইযোগ্য তথ্য উপস্থাপন করা হয়নি। এমনকি অভিযুক্ত কর্মকর্তার বক্তব্য যথাযথভাবে নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।তবে আইন সবার জন্য সমান। অভিযোগ থাকলে তদন্ত হোক। কিন্তু অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য দিয়ে প্রশাসনের ভাবমূর্তি নষ্টের চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা দায়িত্ব পালন করছি কাউকে সন্তুষ্ট করার জন্য নয়, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য।টুরিস্ট পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি বিজ এলাকাসহ সৈকতের বিভিন্ন স্পটে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকানপাট, অস্থায়ী স্থাপনা ও অর্থ আদায়ের কেন্দ্র উচ্ছেদ করা হয়।পুলিশের দাবি, একটি সংঘবদ্ধ চক্র পর্যটকদের কাছ থেকে জোরপূর্বক অর্থ আদায়, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও দখলদারিত্বের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকার অবৈধ বাণিজ্য চালাত। অভিযানে ওই চক্রের আর্থিক স্বার্থে সরাসরি আঘাত লাগায় তারা প্রশাসনের বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুরু করেছে এমন আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।

অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে পরিচালিত অভিযানের চিত্র তুলে ধরে বলেনঃ৩৫ জন ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার,৯৬ জন ভাসমান অপরাধী আটক,১১ জন ইভটিজার গ্রেপ্তার,৪ জন মাদক ব্যবসায়ী আটক,৪১টি মোবাইল উদ্ধার,২৭২ জন হারানো শিশু উদ্ধার (ছেলে ১৪১, মেয়ে ১৩১),২১টি মৃতদেহ উদ্ধার,১৫ জন জীবিত উদ্ধার,১৬ জন শিশু ভিকটিম উদ্ধার হয়েছে।তিনি বলেন,কক্সবাজার শুধু একটি শহর নয় এটি বাংলাদেশের মর্যাদার প্রতীক। এখানে অপরাধ, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব চলতে দেওয়া হবে না। আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছি।উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র জানায়, বিষয়টি ইতোমধ্যে পুলিশ সদরদপ্তরের নজরে আনা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নে যদি কেউ পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা চালিয়ে থাকে, তবে তা খতিয়ে দেখা হবে।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একদিকে যখন ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজারকে দখলমুক্ত ও নিরাপদ রাখতে অভিযান চালাচ্ছে, অন্যদিকে অপপ্রচার চালিয়ে সেই উদ্যোগকে দুর্বল করার চেষ্টা হলে তা জাতীয় স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।স্থানীয়দেরদাবী তদন্ত হোক, কিন্তু অপপ্রচার নয় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধীক ব্যবসায়ী বলেন,অভিযোগ থাকলে অবশ্যই তদন্ত হবে। কিন্তু প্রমাণ ছাড়া সংবাদ প্রকাশ করলে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হয়। কক্সবাজারের ভাবমূর্তি রক্ষা সবার দায়িত্ব।টুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়নের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে,সৈকত দখলমুক্ত রাখা, চাঁদাবাজি নির্মূল এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভিযান অব্যাহত থাকবে। কোনো ধরনের চাপ, অপপ্রচার বা বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা আইনানুগ কার্যক্রমকে থামাতে পারবে না।

অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ শেষবারের মতো দৃঢ় কণ্ঠে বলেন,আমরা রাষ্ট্রের পক্ষে কাজ করি। যতদিন দায়িত্বে আছি, কক্সবাজারকে নিরাপদ ও শৃঙ্খলাবদ্ধ রাখতে প্রয়োজনে কঠোরতম ব্যবস্থা নেবো। দেশের জন্য কাজ করছি, দেশের জন্যই করে যাবো।

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
বিস্তারিত জানতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ক্লিক করুন
Advertisement

দৈনিক আমাদের কণ্ঠ

বিজ্ঞাপন