নিজস্ব প্রতিবেদক
অর্থ আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্য নিয়ে বহু বিবাহিতা এক নারীর বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী স্বামী আদালতে মামলা করেছেন।
কেরানীগঞ্জে যৌতুক নিরোধ আইনের ধারা ৩ অনুযায়ী সাথী আক্তার নামের এক নারীর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন তার স্বামী আজিজুল। মঙ্গলবার কেরানীগঞ্জ আমলী আদালতে মামলাটি নথিভুক্ত হয়। মামলার বাদী কেরানীগঞ্জের বাসিন্দা আহসান উলাহ রতনের ছেলে আজিজুল।
এদিকে যেদিন আদালতে মামলা রুজু হয় সেই দিনই সাথী আক্তার আজিজুলকে তালাক দিয়ে দেয়।
মামলা অনুযায়ী, আজিজুল একজন শান্তিপ্রিয়, আইন মান্যকারী ও শ্রমজীবী মুসলিম পরিবারের সদস্য। সামাজিক রীতি মেনে তিন লাখ টাকা কাবিনে মোহরানা ধার্য করে সাথী আক্তারের সঙ্গে তার বিবাহ হয়। বিয়ের সময় প্রায় পাঁচ লাখ টাকার গয়নাসহ অন্যান্য মালামালও দেওয়া হয়।
আজিজুলের অভিযোগ, বিয়ের পর দাম্পত্য জীবনে সাথী আক্তার নানা অজুহাতে যৌতুকের দাবি করেন এবং তার পিতা–মাতা ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে মিলে তাকে মানসিকভাবে নির্যাতন করতে থাকেন।
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৪ সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে কাউকে না জানিয়ে সাথী আক্তার প্রায় দুই লাখ টাকার মালামাল এবং আনুমানিক সাত লাখ টাকার স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে চলে যান।
পরবর্তীতে ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৪ সন্ধ্যায় সাথী আবার ফিরে এসে যৌতুকহীনভাবে সংসার করার আশ্বাস দেন কিন্তু পরে জানান, সাথীর নামে ফ্ল্যাট কিনে না দিলে তিনি আর সংসার করবেন না।
এ অবস্থায় আজিজুল আদালতের শরণাপন্ন হন এবং যৌতুক নিরোধ আইন ৩ ধারা অনুযায়ী সাথী আক্তারের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানান। মামলায় আরও উলেখ করা হয়েছে যে, সাথী আক্তার ফ্ল্যাট কিনে না দিলে অন্য পুরুষকে বিয়ে করার হুমকিও দেন।
কেরানীগঞ্জ আমলী আদালত বিষয়টি শুনানির জন্য গ্রহণ করেছে। বাদী আজিজুলের দাবি, তিনি যৌতুকের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে স্বাভাবিক পারিবারিক জীবনযাপন করতে চান, কিন্তু আসামী সাথী আক্তার তার কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছেন।
অভিযোগ রয়েছে আজিজুলকে বিয়ে করার আগেও সাথী তিনটা বিয়ে করেছে। বিয়ের বিষয় গোপন রেখে চতুর্থ বারের মত আজিজুল ছেলেকে বিয়ে করে। মূলত উদ্দেশ্য হলো বিয়ে করে তাদের কাছ থেকে কাবিনের টাকা এবং অর্থ সম্পদ হাতানোই তার উদ্দেশ্য।
এ বিষয়ে মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই জানান, সাক্ষীর অভাবে মামলার রিপোর্ট দিতে বিলম্ব হচ্ছে। সব বিষয়ে তদন্ত করে শিঘ্রই তদন্ত রিপোর্ট দেয়া হবে।
স্থানীয় আইনজীবীরা বলছেন, যৌতুক নিরোধ আইন ১৯৮০-এর ধারা ৩ অনুযায়ী যৌতুক দাবি করা ও যৌতুক নিয়ে চলে যাওয়া দুটোই শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আদালত মামলার তদন্ত শেষে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।