নিজস্ব প্রতিবেদক :
ইসলাম ধর্ম অবমাননা ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে ঝালকাঠিতে দায়ের হওয়া আলোচিত মামলার তদন্তে অগ্রগতি হয়েছে বলে আদালতকে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থা গত ৫ই মার্চ এ অনুষ্ঠিত শুনানীতে।
তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, মামলার কয়েকজন আসামীকে ইতোমধ্যে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। তবে তদন্ত সম্পন্ন করতে আরও সময় প্রয়োজন হওয়ায় আদালতের কাছে অতিরিক্ত সময় চাওয়া হয়েছে।
মামলাটি চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি ঝালকাঠি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দায়ের করা হয়। বাদী নজীর আহম্মদ তার অভিযোগে উল্লেখ করেন, একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত কয়েকটি লেখায় ইসলাম ধর্মকে বিদ্রূপাত্মক ও আপত্তিকরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা ধর্মীয় অনুভূতিতে এবং ধর্মীয় উপাসনালয়ে ইচ্ছাকৃত আঘাতের শামিল।
প্রাথমিক শুনানি শেষে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নওরীন কবির মামলাটি আমলে নেন এবং তদন্তের জন্য ঝালকাঠি পুলিশ থানার গোয়েন্দা শাখার ওসিকে নির্দেশ দেন। আদালত সূত্র জানায়, মামলাটি ফৌজদারি দণ্ডবিধি ১৮৬০ (সংশোধিত)-এর ২৯৫, ২৯৫(ক), ২৯৮ ও ৩৪ ধারায় দায়ের করা হয়েছে। মামলা নম্বর সি.আর.-০৩/২০২৬।
মামলায় মোট উনিশজনকে আসামী করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন মোঃ মোশাররফ হোসাইন, গাজী আফতাবুন নেসা রিতি, সমীর হালদার, নুরুল আমিন, মোঃ তানভির হোসেন, সাব্বির আহমেদ, মোঃ জাকির হোসাইন, মোঃ মিজানুর রাহমান, বুরহান উদ্দীন, রাজীব সাহা, রুমানা পারভীন, মোসাম্মাত নাসরিন সুলতানা, মুনায়েম আহমেদ, গাজী মোহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম, আব্দুল্লাহ আল হোসাইনসহ আরও কয়েকজন।
অন্যদিকে, অভিযোগে উল্লেখিত “এথিস্ট ইন বাংলাদেশ” ওয়েবসাইট বর্তমানে অচল অবস্থায় পাওয়া গেছে। তবে এটি প্রশাসনিক বা আইনগত কারণে বন্ধ হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতায় ধর্মীয় অনুভূতির প্রশ্ন অত্যন্ত স্পর্শকাতর। বিশেষ করে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ধর্মবিষয়ক বক্তব্য ঘিরে সামাজিক প্রতিক্রিয়া দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং তা প্রায়ই আইনগত প্রক্রিয়ায় রূপ নেয়।
মামলার পরবর্তী শুনানী ২৪শে মে।