ঢাকা পবিস-৪ এর ডিজিএম রফিকুল ইসলামের দুর্নীতিতে অতিষ্ঠ সেবা প্রত্যাশীরা

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
বিস্তারিত জানতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ক্লিক করুন
Advertisement

শাহিন চৌধুরী (কেরানীগন্জ ): 

ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৪ এর ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মোঃ রফিকুল ইসলামের দুর্নীতির খবর আমাদের কণ্ঠে প্রকাশের পর পরই তার বিরুদ্ধে বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে নতুন নতুন আরো অনেক অভিযোগ ।  ঘাটারচর ওয়াশপুর গার্ডেন সিটি হাউজিং থেকে একাধিক ব্যক্তি রফিকুলের বিরুদ্ধে ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ৪ এর জেনারেল ম্যানেজার মোঃ খালেদুর রহমান বরাবর অভিযোগ দাখিল করেছেন। গ্রাহকদের দাবি বিদ্যুৎ সংযোগ চাইতেগেলেই ঘুষ দিতে হয় রফিকুল ইসলামকে। নইলে আবেদনের ফাইল বাতিল করা হয়। এ কারনে অতিষ্ঠ হয়ে তারা নগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মামুনের দারস্থ হন অনেকেই।

অভিযোগে তাদের অনিয়ম ও দূর্নীতি প্রসঙ্গে বলেন, আমাদের ডিপোজিট লাইন নিজস্ব ক্রয়কৃত ট্রান্সফরমার। আমরা নিজেরাই আবেদন করি। আবেদন করিলে ডি.জি.এম ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার ওয়ারিং ইন্সপেক্টর আতাউর রহমান আমাদের আবেদন বাতিল করিয়ে দেন। বিষয়টি তাহাদের দুই জনকেই আবগত করি বর্তমানে ডিজিএম ও ইন্সপেক্টর তাহারাই মাঠ পর্যায়ে গিয়ে কয়েকজন গ্রাহকের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নেন। আমরা চাই তাদের ঘুষ লেন দেনের বিচার হোক। আমাদের মিটার সংযোগের জন্য কয়েকজন আবেদনকারীর নাম ও নাম্বার সংযুক্ত করা হইল: মোঃ শহিদুল ইসলাম ট্র্যাকিং নাম্বার- ৮০০৬১৬৯২৬০৯৪০৭৩৮ স্বপ্না রশীদ- ৮০০৬১৬১৭২৫৭৭১৮১৫ মোঃ কামরুজ্জামান -৮০০১৬১০০৪৫৮২১৫১ নাসিমা বেগম- ৮০০৬১২৭৯৫২৩৪৯১২ অনুপ কুমার পাল -৮০০৬১৬৮০৮৪৮১১৩৩৭।
এছাড়াও গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে সাক্ষাৎ করে একাধিক ইলেকট্রিশিয়ানরা দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, আমাদেরকে ডিজিএম রফিকুল ইসলামের কক্ষে ডেকে নিয়ে একাধিকবার হুমকি দিয়ে বলেন আটি বাজার অফিসে একজন ইলেকট্রিশিয়ানকেও কাজ ও ব্যবসা করতে দিবো না। তাই আমরা সকল ইলেকট্রিশিয়ানরা ভয়ে ও আতংকে আছি। আমাদের একটাই ভয় ডিজিএম কখন যেন ক্ষতি করে ফেলেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইলেকট্রিশিয়ান বলেন কেরানীগঞ্জের দেওয়ান বাড়ী পশ্চিম বামন শুর এলাকার ইবনে সিনার বর দালানের ৬ টির কাজ ডিজিএম রফিকুল ইসলাম গ্রাহকের সাথে লিয়াজো করে কাজ নিয়েছেন যাহা আইনের বহির্ভূত। তিনি আবেদন রেডি করে আমাকে দিয়ে গত জুন মাসের ১০ তারিখে জিনজিরা অফিসে জমা করতে বলেন। আবেদনের জামানত ছিলো প্রায় ১৩ লক্ষ টাকা। কাজটির জেনারেল ম্যানেজার খালেদুর রহমান আবেদনটি পাশ করে দিলে ডিজিএম রফিকুল ইসলাম চিঠি ইসু করেন। ইলেকট্রিশিয়ান আরো বলেন,কাজটি সম্পুর্ন হলে ডিজিএম রফিকুল ইসলামের প্রায় কয়েক লাক্ষ টাকা লাভ হবে। জানা যায়,ডিজিএম প্রতি মাসেই এভাবে ১০ থেকে ২০ টির মত কাজ করে থাকেন। ওয়ারিং ইন্সপেক্টর এসকল টাকার ভাগিদার হয়ে থাকেন। ওয়ারিং ইন্সপেক্টর আতাউর রহমানকে সাধারণ মিটার প্রতি ৩০০ থেকে ১০০০ টাকা না দিলে কথাই বলেন না।
এদিকে সাংবাদিকের কাছে একাধিক ইলেকট্রিশিয়ানরা বলেন দৈনিক আমাদের কন্ঠ পত্রিকায় দুর্নীতির খবর প্রাশের পর থেকে দালাল চক্রটি আমাদের একাধিক বার হুমকি দেয়াসহ আমাদের ক্ষতি করার জন্য মরিয়া হয়ে আছেন। তাই আমরা ইলেকট্রিশিয়ান গন আইনের দারস্থ হয়েছি। তারা আরো বলেন আমরা পুলিশের কাছে সহযোগিতা চাই এবং আইগত কাজ চলমান রয়েছে।
গত সোমবার সাংবাদিকের উপস্থিতিতে ইলেক্ট্রিশিয়ান শিমুল বলেন, আমরা লিখিত অভিযোগ রেডি করেছি। কিছুদিন আগে ডিজিএম মোঃ রফিকুল ইসলাম আমার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা ধার নিয়েছিলেন। বেশ কয়েকদিন পর আমি ধারের টাকা চাইতে গেলে আমাকে তিনি বলেন ফাইল পাশ করালে টাকা পরিশোধ হয়ে যাবে।কয়েকদিন পর আমি ৬ টি ফাইল নিয়ে স্বাক্ষর আনতে গেলে তিনি স্বাক্ষর করে আমাকে বলেন, তোমার কাছ থেকে ধারের ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ হয়ে গেছে। বিষয়টি আমি গণমাধ্যমে জানালে তড়িঘড়ি করে পরের দিন রফিকুল ইসলাম আমার টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হন। দৈনিক আমাদের কণ্ঠ পত্রিকায় দুর্নীতির খবর ছাপা হলে একটি তদন্ত টিম আমাকে লিখিত দিতে বললে আমি লিখিত জবাব দেই যে,ওয়ারিং ইন্সপেক্টর আতাউর রহমানের কাছে বিদ্যুৎ সংযোগের কোন ফাইল নিয়ে গেলেই আমাকে বলে কাস্টমারের সাথে কত টাকা কন্ট্রাক্ট করেছো আমার জন্য কত টাকা এনেছো। টাকা না দিলেই ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মোঃ রফিকুল ইসলামের কাছে পাঠিয়ে দেন ফাইল বাতিলের জন্য।
ডিজিএমের এসব কর্মকান্ড সম্পর্কে জানতে চাইলে ইলেক্ট্রিশিয়ান মাসুদ বলেন, সুজন হাউজিংএ বসবাস রত আমার পরিচিত একজন গ্রাহক তার নতুন বাসার বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য আমার কাছে আসে।আমি ইলেক্ট্রিশিয়ান ফাইল রেডি করে ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মোঃ রফিকুল ইসলামের কাছে নিয়ে গেলে তিনি নানা আজুহাত দেখিয়ে ফাইলটি বাতিল করে দেন। কিন্তু গ্রাহকের নাম্বার তিনি রেখে দেন পরে গ্রাহককে ফোন করে ডেকে এনে টাকার বিনিময়ে কাজটি করে দেন। যাহার সকল কাগজ সহ প্রমান আমার কাছে আছে।
ইলেক্ট্রিশিয়ান ইস্রাফিল বলেন, আমাদের অফিসের সাবেক জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার সেহেব গনের যৌথ বহুতল দালানের জন্য একটি আবেদন তাদের বেস্ততার জন্য আমাকে দিয়ে গেলে আমি ফাইলটি ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মোঃ রফিকুল ইসলামের কাছে নিয়ে গেলে তিনি বলেন। সাবেক অফিসার কি টাকা নিতেন না? এখন আমাকে টাকা না দিলে ফাইল পাশ হবে না বলে ফাইলটি বাতিল করে দেন।
ইলেক্ট্রিশিয়ান সাজ্জাদ প্রধান বলেন, আমরা নতুন মিটারের জন্য ওয়ারিং সম্পূর্ণ করলে ১৫ থেকে ২০ দিনেও ওয়ারিং ইন্সপেক্টর আতাউর রহমান পরিদর্শন করতে যান না। কারন একটাই টাকা দিলে যাবেন অন্যথায় আবেদনে আনুমোদন না দিয়ে ফেলে রাখেন। এবং কথায় কথায় আকথ্য ভাষায় গালি গালাজ করেন মাকে নিয়ে গালি দিয়ে থাকেন।
দৈনিক আমাদের কণ্ঠ পত্রিকার একটি চৌকশ টিম ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সরেজমিলে গেলে আটি বাজার জোনাল অফিসের সামনে দাড়িয়ে থাকা মধু সিটি এমার গাঁও এলাকার ভুক্তভোগী মোঃ খোকন গণমাধ্যম কর্মীদেও বলেন, ওয়ারিং ইন্সপেক্টর আতাউর রহমান দুর্নীতিতে আমিও অতিষ্ঠ আমাকে একটি সংযোগে জন্য একাধিক বার আনাকে টাকার জন্য অফার করেছেন। আমার একটি টিন শেডের বাড়ির মিটারকে সামনের দোকানের জন্য সৎ ভাবে আল্লাহ্‌কে ভয় করে বাণিজ্যিক করতে চেয়েছিলাম। তিনি আমাকে নানা ভাবে বুঝিয়ে টাকা চেয়ে বসলেন আমি রাগান্নিত হলে তিনি আমাকে পাত্তা দেন নাই। বেশ কিছুদিন পরে আমি অফিসের বাহিরে সাংবাদিকদের বলতে গেলে তরিঘড়ি করে আমার মিটার টি বাণিজ্যিক করে দেন। উল্লেখিত বিষয়ে ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ৪ এর জেনারেল ম্যানেজার মোঃ খালেদুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এসব নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পরেই সক্ত করে তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছি। যাহা ১০ কার্য্য দিবসের মদ্ধে তদন্ত করে জমা দেয়ার জন্য আদেশ দেয়া হয়েছে।

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
বিস্তারিত জানতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ক্লিক করুন
Advertisement

দৈনিক আমাদের কণ্ঠ