স্টাফ রিপোর্টার :
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকদের ঐতিহ্যবাহী সংগঠন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা প্রেস ক্লাবের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে একদল অচেনা কথিত সাংবাদিকদের চক্রের বিরুদ্ধে। সংগঠনের নাম ব্যবহার করে ভুয়া দাওয়াত কার্ড ছাপিয়ে বিভিন্ন কলকারখানা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও হাউজিং মালিকদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করার অভিযোগে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে এ ঘটনায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকদের সংগঠন হিসেবে পরিচিত দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা প্রেসক্লাব। সংগঠনটির সভাপতি মোঃ শাহিন চৌধুরী এবং সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম ইমন। তবে বিগত রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে একটি অসাধু চক্র নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে নিজেদের সাংবাদিক দাবি করে নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।এ সুযোগকে পুঁজি করে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ প্রেসক্লাব এর নামে ভুয়া দাওয়াত কার্ড তৈরি করে রমজান উপলক্ষে কথিত ইফতার মাহফিলের আয়োজনের কথা উল্লেখ করে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, কলকারখানা ও হাউজিং মালিকদের কাছে অর্থ দাবি করছে। দাওয়াত কার্ডে উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী ২২ রমজান, ১২ মার্চ (বৃহস্পতিবার) দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে সভাপতি হিসেবে মোঃ রহমতুল্লাহ দেওয়ান এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বৃন্দাবন মল্লিক এর নাম ব্যবহার করা হয়েছে।তবে সরেজমিন অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। অভিযোগ রয়েছে, বৃন্দাবন মল্লিক নামের এক ব্যক্তি নিজেকে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) এর স্টাফ রিপোর্টার পরিচয় দিয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় ঘুরে ঘুরে সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজি করে বেড়াচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তিনি ও তার সহযোগীরা দাওয়াত কার্ড দেখিয়ে একপ্রকার চাপ সৃষ্টি করে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের চেষ্টা করছেন।স্থানীয়দের দাবি, এর আগেও বৃন্দাবন মল্লিকের বিরুদ্ধে নানা অপকর্মের অভিযোগ উঠেছিল। কেরানীগঞ্জবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে কয়েকটি জাতীয় সাপ্তাহিকসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তার বিতর্কিত কর্মকান্ড নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। তবুও রহস্যজনকভাবে তিনি একই কায়দায় আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।এ বিষয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী মিডিয়া সেলের সদস্য এবং জিয়া সাংস্কৃতিক সংগঠন (জিসাস) এর কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মোঃ শাহিন চৌধুরী তিনি বলেন,গত ৮ মার্চ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্ন সাংবাদিকের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারি। এরপর সত্যতা যাচাই করে দেখি, একটি চক্র প্রেসক্লাবের নাম ভাঙিয়ে অপতৎপরতা চালাচ্ছে। পরদিন আমি দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় উপস্থিত হয়ে বৃন্দাবন মলিকসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছি।তিনি আরও বলেন,সাংবাদিকতার মতো সম্মানজনক পেশার নাম ব্যবহার করে যারা চাঁদাবাজি ও প্রতারণা করছে, তারা শুধু আইনের চোখে অপরাধী নয় তারা পুরো সাংবাদিক সমাজকে কলঙ্কিত করছে। প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি, দ্রæত তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হোক।এদিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম ইমন, যিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের আহŸায়ক কমিটির সদস্য, বলেনকিছু অসাধু ব্যক্তি সাংবাদিক নামের আড়ালে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। তাদের কারণে প্রকৃত সাংবাদিকদের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে। আমরা প্রশাসনের কাছে জোড় দাবি জানাচ্ছি এই ভুয়া সাংবাদিক চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং যারা প্রেসক্লাবের সুনাম নষ্ট করেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এ ঘটনায় কেরানীগঞ্জের সচেতন মহলও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তারা বলছেন, সাংবাদিকতার নাম ব্যবহার করে প্রতারণা ও চাঁদাবাজির মতো কর্মকান্ড শুধু অপরাধই নয়, এটি সমাজের জন্যও মারাত্মক হুমকি। দ্রæত সময়ের মধ্যে এসব ভুয়া পরিচয়ধারী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা না হলে ভবিষ্যতে এমন অপকর্ম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
- দৈনিক আমাদের কণ্ঠ: দেশজুড়ে, প্রকাশিত সংবাদ, শীর্ষ সংবাদ, সংবাদ শিরোনাম