দেশে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবার্তায় তামাক কোম্পানির ব্যাপক অনিয়ম দ্রুত স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিং বাস্তবায়নের দাবী’

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
বিস্তারিত জানতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ক্লিক করুন
Advertisement

নিজস্ব প্রতিবেদক :

দেশে তামাকজাত দ্রব্যের মোড়কে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী বাস্তবায়নে ব্যাপক অনিয়ম ও আইন লঙ্ঘনের চিত্র উঠে এসেছে টোব্যাকো কন্ট্রোল এন্ড রিসার্চ সেল (টিসিআরসি) পরিচালিত এক গবেষণায়। গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, তামাক কোম্পানিগুলো দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান আইন ও বিধিমালা উপেক্ষা করে সচিত্র সতর্কবার্তা প্রদর্শনে নানা কৌশলে অনিয়ম করে আসছে।
গতকাল বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাজধানীর বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের সম্মেলন কক্ষে টিসিআরসি, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ডিআইইউ) এবং বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত “বাংলাদেশে তামাকজাত দ্রব্যের মোড়কে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কতার বাস্তবায়নের অবস্থা: গবেষণার ফলাফল প্রকাশ ও প্রেস ব্রিফিং” শীর্ষক অনুষ্ঠানে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সাবেক ন্যাশনাল প্রফেশনাল অফিসার ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. সৈয়দ মাহফুজুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএসটিআইয়ের মেট্রোলজি বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর আবদুল্লাহ আল মামুন, ভাইটাল স্ট্রাটেজিসের সিনিয়র টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম তাহিন এবং বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটের ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়কারী হেলাল আহমেদ।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন টিসিআরসির প্রকল্প কর্মকর্তা মো. জুলহাস আহমেদ। তিনি বলেন, ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ (সংশোধনী ২০১৩)’ এর ধারা ১০ অনুযায়ী দেশের ৮টি বিভাগীয় শহরের বাজারে প্রচলিত তামাকজাত দ্রব্যের মোড়ক বিশ্লেষণ করা হয়। এতে দেখা যায়, অধিকাংশ পণ্যে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণীর আকার, অবস্থান, রঙ ও মুদ্রণের মান আইন অনুযায়ী নয়। অনেক পণ্যে সতর্কবার্তা নির্ধারিত অংশজুড়ে নেই, কোথাও তা এমন স্থানে দেওয়া হয়েছে যা সহজে চোখে পড়ে না। কিছু ক্ষেত্রে ছবি অস্পষ্ট ও ঝাপসা, আবার একই সতর্কচিত্র বারবার ব্যবহারের ঘটনাও পাওয়া গেছে, যা বিধিমালার পরিপন্থী।
গবেষণায় আরও উঠে আসে, তামাকদ্রব্যের দুর্বল মোড়কজাতকরণ, উৎপাদনের তারিখের অনুপস্থিতি এবং তামাক কোম্পানির জবাবদিহিতার অভাব আইন বাস্তবায়নের বড় অন্তরায়। এসব অনিয়ম কমাতে তামাকজাত দ্রব্যের স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিং দ্রুত চালুর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. সৈয়দ মাহফুজুল হক বলেন, সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী তামাক ব্যবহার নিরুৎসাহিত করার একটি কার্যকর উপায়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে অনিয়ম চলতে থাকলে তা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। তিনি নতুন অধ্যাদেশ দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেন।
অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম তাহিন বলেন, স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিং চালু হলে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী সঠিকভাবে প্রদর্শন করা সম্ভব হবে এবং কর আদায় ব্যবস্থাও সহজ হবে। তিনি জানান, বাজারে প্রচলিত একটি প্যাকেটকে স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে তামাক কোম্পানিগুলোর বাস্তবায়নে সমস্যা না হয়।
বিএসটিআইয়ের ডেপুটি ডিরেক্টর আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, প্যাকেটজাত সকল পণ্যের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক হলেও অধিকাংশ তামাক কোম্পানি নিবন্ধনের আওতায় নেই। কোম্পানিগুলো নিবন্ধিত হলে আইন প্রয়োগ সহজ হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটের ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়কারী হেলাল আহমেদ বলেন, ২০১৬ সালে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী চালুর পর থেকেই তামাক কোম্পানিগুলো ধারাবাহিকভাবে আইন লঙ্ঘন করে আসছে। আইনে সতর্কবার্তা মোড়কের উপরের অংশে প্রদর্শনের কথা থাকলেও বাস্তবে তা নিচের দিকে দেওয়া হচ্ছে।
সভাপতির বক্তব্যে টিসিআরসির প্রজেক্ট ডিরেক্টর ও ডিআইইউর সহযোগী অধ্যাপক মো. বজলুর রহমান বলেন, আইন থাকলেও কার্যকর বাস্তবায়ন ছাড়া জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা সম্ভব নয়। স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিং প্রবর্তনের মাধ্যমে কঠোর মনিটরিং ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করলেই তামাক নিয়ন্ত্রণে অগ্রগতি সম্ভব।
মুক্ত আলোচনায় বিভিন্ন তামাক নিয়ন্ত্রণ সংগঠনের প্রতিনিধি, চিকিৎসক, আইনজীবী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকরা অংশ নেন। তারা সম্প্রতি পাশকৃত অধ্যাদেশ দ্রুত আইনে রূপ দেওয়া, নিয়মিত বাজার মনিটরিং এবং আইন লঙ্ঘনকারী তামাক কোম্পানির বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
বিস্তারিত জানতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ক্লিক করুন
Advertisement

দৈনিক আমাদের কণ্ঠ