নিজস্ব প্রতিবেদক :
ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটূক্তি ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে ঢাকায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। গত ২২ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ২৫ নম্বর কোর্টে মামলাটি করেন ইউসুপ কাউসার নামে এক বাদী। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। আদালত সূত্রে জানা যায়, একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত কয়েকটি লেখাকে কেন্দ্র করে এই অভিযোগ উত্থাপিত হয়। বাদীপক্ষের দাবি, লেখাগুলোতে ইসলাম ধর্মকে বিদ্রূপাত্মকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং তা ইচ্ছাকৃতভাবে ধর্মীয় অনুভূতিতে, বিশেষতঃ মুসলমানদের আঘাত করার শামিল। মামলার শুনানি শেষে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজু আহমেদ বিষয়টি তদন্তের জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পিবিআই শাখাকে নির্দেশ দেন। আগামী ২১ এপ্রিল তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
ফৌজদারি দণ্ডবিধি ১৮৬০ (সংশোধিত)-এর ২৯৫, ২৯৫(ক), ২৯৮ ও ৩৪ ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। সি.আর.-২২০/২০২৬ নম্বরে নথিভুক্ত এই মামলায় আটজন আসামি। তাদের মধ্যে রয়েছেন মো. তোফায়েল আহমেদ, নুরুল আমিন, বুরহান উদ্দিন, মোছা. নাসরিন সুলতানা, রুমানা পারভীন, তাহসিন আহমেদ ও গাজী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামসহ অন্যান্য। যদিও পিবিআই আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি, তবে সংস্থাটির একটি সূত্র জানিয়েছে, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতসংক্রান্ত অভিযোগকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে থাকে। একই সঙ্গে এ ধরনের অভিযোগে দ্রুত তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ার বিষয়টিও অগ্রাধিকার পায়।
এদিকে, অভিযোগে উল্লেখিত “এথিস্ট নোট”-এর পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সংশ্লিষ্ট কাউকে পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে। বাংলাদেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে ধর্মীয় অনুভূতির বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মের বিস্তারের ফলে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রশ্নগুলো নতুনভাবে আলোচনায় আসছে। অনেক ক্ষেত্রেই ধর্ম নিয়ে বিদ্রূপ বা আপত্তিকর মন্তব্য জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে এবং তা আইনগত পর্যায়েও গড়ায়। বিশ্লেষকরা মনে করেন, ডিজিটাল পরিসরে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বজায় রাখার পাশাপাশি ধর্মীয় সহনশীলতা ও সামাজিক সম্প্রীতির ভারসাম্য রক্ষা বর্তমান সময়ের একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।