রবিউল ইসলাম :
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের নিরাপত্তা সুপারভাইজার (সিভিল এভিয়েশন) কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে স্বর্ণ চোরাচালান, মানবপাচার ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত শত কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) । দীর্ঘদিন ধরে বিমানবন্দরের অনিয়মে তার নাম যুক্ত থাকলেও সাম্প্রতিক দুদক অভিযানের পর আবারো আলোচনায় আসে ‘গোল্ডেন কামাল’। ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার বগুড়া ইউনিয়নের হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান কামাল লজিং থেকে লেখাপড়া করে মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে অস্বাভাবিক সম্পদের মালিক হয়ে ওঠায় বিস্মিত স্থানীয়রা।
অভিযোগ সূত্রে এবং এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায় আশকোনার সিরাজ মিয়া সড়কে ১০ শতক জমির ওপর ৫১৮ নম্বর হোল্ডিংয়ের যে বহুতল বাড়িটি তিনি নির্মাণ করেছেন, তার বর্তমান বাজারমূল্য কমপক্ষে ২০ কোটি টাকা। মিরপুরের সাগুপ্তা হাউজিংয়েও রয়েছে একটি প্লট, যা তার স্ত্রী নিজেই স্বীকার করেছেন। গ্রামে ৮৫৭ দাগ থেকে ৮৬৮ দাগ পর্যন্ত বিপুল পরিমাণ জমি ক্রয় করেছেন কামাল, যার বড় অংশই প্রতারণা বা জবরদখলের মাধ্যমে দখল করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব জমির ওপর প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘থ্রি স্টার ইট ভাটা’, যেখানে তার বিনিয়োগ প্রায় ৫ কোটি টাকা।
এর বাইরে আশকোনা প্রধান সড়কে ‘গোল্ডেন ইন্টারন্যাশনাল’ নামে একটি ভিআইপি হোটেলের মালিক কামাল হোসেন। বিমানবন্দরের একটি নির্দিষ্ট বেসরকারি এয়ারলাইন্সের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা রয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। ওই কোম্পানির ফ্লাইটে নিয়মিত স্বর্ণ চোরাচালান ধরা পড়লেও কোম্পানির কোনো কর্মকর্তা বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না নেওয়া, বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। দুদক সূত্র জানায়, কামালের নামে-বেনামে বিভিন্ন ব্যাংকে সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য তাদের কাছে এসেছে এবং এ বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে ইতোমধ্যে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে কামাল হোসেন দাবি করেন, “দুদক আমাকে অব্যাহতি দিয়েছে।” তবে অভিযোগ পাওয়ার পর তাকে কেন অব্যাহতি দেওয়া হলো, এবং পরে আবার তদন্ত কেন শুরু হলো, এই প্রশ্নে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করা হলে সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ যে নথি সরবরাহ করে, তাতে দুদকের তদন্ত বন্ধ ও অব্যাহতির প্রক্রিয়ায় একাধিক অসঙ্গতি পাওয়া যায়। নথির বিশ্লেষণে ধারণা পাওয়া যায়, অস্বাভাবিক প্রভাব বা আর্থিক বিনিময় ছাড়া এমনভাবে তদন্ত স্থগিত ও অব্যাহতি পাওয়া সম্ভব নয়। কামাল হোসেনের স্বল্প সময়ের মধ্যে বিপুল সম্পদ বৃদ্ধি এবং বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট অনিয়মে তার নাম বারবার উঠে আসায় দুদকের চলমান অনুসন্ধান দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে।
স্থানীয়ভাবে অভিযোগ রয়েছে কামাল হোসেন, সিভিল এভিয়েশনের কিছু দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এবং দুদকের কিছু অসাধু ব্যক্তি অর্থের বিনিময়ে দীর্ঘদিন ধরে বিষয়গুলো ‘ম্যানেজ’ করে রেখেছিলেন। তবে এই অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে প্রতিষ্ঠানগত তদন্ত এবং নথিপত্র বিশ্লেষণ এখনই জরুরি বলে অভিজ্ঞ মহলের মত।
এবিষয়ে আরও গভীর অনুসন্ধানের জন্য সম্পদের উৎস,স্বর্ণ চোরাচালানের নেটওয়ার্ক, সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের ভূমিকা, গ্রামের জমি দখলের পদ্ধতি, সিভিল এভিয়েশনের অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি এবং ব্যাংক লেনদেনের পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। পরবর্তী প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশ করা হবে ।
- দৈনিক আমাদের কণ্ঠ: অপরাধ সংবাদ, দুর্নীতি সংবাদ, প্রকাশিত সংবাদ, প্রশাসনিক সংবাদ, শীর্ষ সংবাদ, সংবাদ শিরোনাম