মোঃ আসাদুজ্জামান :
বরগুনা জেলাজুড়ে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে অবৈধ করাতকল (স’মিল) স্থাপনের প্রবণতা দিন দিন উদ্বেগজনক আকার ধারণ করছে। বন বিভাগের অনুমোদন ও পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই মহাসড়ক, আঞ্চলিক সড়ক, বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও জনবসতির আশপাশে গড়ে উঠছে একের পর এক করাতকল। এতে বনজসম্পদ উজাড়ের পাশাপাশি মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সদর, পাথরঘাটা, আমতলী, বেতাগী, বামনা ও তালতলী উপজেলায় প্রকাশ্যেই পরিচালিত হচ্ছে বহু লাইসেন্সবিহীন করাতকল। অধিকাংশ মিল বসানো হয়েছে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায়। কাঠ ফাড়াইয়ের সময় সৃষ্ট প্রচন্ড শব্দ ও বাতাসে ভাসমান কাঠের গুঁড়ায় পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। এতে শিশু, বয়স্ক ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত ব্যক্তিদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। বরগুনা সদর উপজেলার উত্তর বাঁশবুনিয়া গ্রামের জনবসতিপূর্ণ এলাকায় স¤প্রতি একটি প্রভাবশালী মহল কোনো ধরনের লাইসেন্স বা অনুমোদন ছাড়াই করাতকল স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এলাকাটিতে ৫০ গজের মধ্যেই একাধিক বসতবাড়ি রয়েছে। অথচ বিদ্যমান আইন ও বিধিমালার তোয়াক্কা না করেই নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এ বিষয়ে œ সংশ্লিষ্ট বিভিন দপ্তরে অভিযোগ ও ধর্ণা দিলেও এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তারা দাবি করছেন। জেলায় ব্যবহৃত কাঠের একটি বড় অংশ আসছে সংরক্ষিত বন, সামাজিক বনায়ন এলাকা ও ব্যক্তিমালিকানাধীন গাছ কেটে। যথাযথ বৈধতা যাচাই ছাড়াই কাঠ সংগ্রহ ও চেরাই করায় দ্রæত কমে যাচ্ছে সবুজ আচ্ছাদন। করাতকল থেকে উৎপন্ন বর্জ্য খাল, ডোবা ও খোলা স্থানে ফেলে দেওয়ায় মাটি ও পানির দূষণ বাড়ছে, যা কৃষিজমির উর্বরতার ওপরও বিরূপ প্রভাব ফেলছে।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বরগুনা জেলায় প্রায় সাড়ে তিনশ’ করাতকলের মধ্যে মাত্র ১৯৫টি বৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে। বাকিগুলো লাইসেন্সবিহীন ও অবৈধ। নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্তে¡ও নদীতীরবর্তী সংরক্ষিত বনাঞ্চলের কাছাকাছি এবং শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত দূরত্ব লঙ্ঘন করেও করাতকল স্থাপনের চিত্র দেখা গেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর পক্ষ থেকে বিধিমালা অনুযায়ী যাচাই-বাছাই ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগের কথা জানানো হলেও বাস্তব মাঠপর্যায়ে কার্যকর নজরদারির ঘাটতির অভিযোগ রয়েছে। পরিবেশবাদী ও সচেতন মহলের মতে, দ্রæত কঠোর আইন প্রয়োগ, নিয়মিত তদারকি এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা না নেওয়া হলে বরগুনার পরিবেশ ও বনজসম্পদ ভবিষ্যতে আরও বড় সংকটের মুখে পড়বে।
- দৈনিক আমাদের কণ্ঠ: দেশজুড়ে, প্রকাশিত সংবাদ, শীর্ষ সংবাদ, সংবাদ শিরোনাম, সারাদেশ