সুমন ভট্টাচার্য :
ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ডৌহাখলা ইউনিয়নের গাজীপুরে সাব্দুল সরকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বুক চিড়ে গড়ে উঠেছে অনুমোদনহীন অবৈধ ‘ইকো ব্রিকস’ নামের একটি ইটভাটা। দিনের পর দিন কালো ধোঁয়া, কয়লার গুড়া, ধুলোবালি আর ইট বহনকারী গাড়ির বিকট শব্দে নরকসম পরিবেশে পাঠ নিতে বাধ্য হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। অথচ বিষয়টি জেনেও নিরব দর্শকের ভূমিকায় প্রশাসন। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শ্রেণিকক্ষের জানালা খুললেই ঢুকে পড়ছে ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়া ও ধুলাবালি। ক্লাস চলাকালে একের পর এক ভারী ট্রাক চলাচলের বিকট শব্দে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ভেঙে পড়ছে। পাঠদান তো দূরের কথা, শ্রেণিকক্ষে বসে থাকাই দায় হয়ে উঠেছে।
প্রভাবশালীর পেশিশক্তিতে মাঠ দখল :
অভিযোগ রয়েছে, ইটভাটার মালিক চর নিলক্ষীয়া ইউনিয়নের সাবেক প্রভাবশালী চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ফারুকুল ইসলাম রতন পেশিশক্তির জোরে বিদ্যালয়ের মাঠের একটি অংশ অবৈধভাবে দখল করে ইটভাটার কাজে ব্যবহার করছেন। এতে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার শেষ আশ্রয়টুকুও কেড়ে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের তীব্র প্রশ্ন,এরা কি সত্যিই জনপ্রতিনিধি ছিলেন, নাকি জনপ্রতিনিধির মুখোশধারী পরিবেশ ধ্বংসকারী? আর সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো কি কিছুই জানে না, নাকি ঘুষের ঘোরে সবকিছু দেখেও অন্ধ?
শিশুদের আর্তনাদ :
স্কুলের শিক্ষার্থীরা জানায়,ইটভাটার কালো ধোঁয়া আর ধুলোয় ক্লাসে বসতে পারি না। শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, সর্দি-কাশি হয়। স্কুল ড্রেস একদিনের বেশি পরিষ্কার থাকে না। খুব কষ্ট হয় আমাদের।
প্রধান শিক্ষকের শঙ্কা:
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল গফুর বলেন,আমরাই যেখানে শ্রেণিকক্ষে টিকে থাকতে পারি না, সেখানে ছোট ছোট বাচ্চারা কীভাবে সহ্য করবে? আপনারা একটু বসে থাকলেই বুঝবেন—এই বিদ্যালয় যেন ইটভাটার কারণে নরকে পরিণত হয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন,বিদ্যালয়ের মাঠ কেটে দখল করা হয়েছে। জায়গা ভরাট করে দেবে বললেও আজ পর্যন্ত করেনি। আজ আপনাদের সামনে কথা বললাম কাল থেকে আমি এই বিদ্যালয়ে চাকরি করতে পারব কি না, আল্লাহই জানেন।
প্রশাসনের দায় এড়ানোর ভাষা:
পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বারবার ফোন করেও মুঠোফোন রিসিভ করেননি। তবে গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান,পরিবেশ অধিদপ্তর আসার কথা আছে। ইটভাটায় মোবাইল কোর্ট করতে হলে পরিবেশের প্রসিকিউশন লাগে। তারা এলে আমরা বিষয়টি দেখব। প্রশ্ন থেকেই যায়,একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভেতরে কীভাবে বছরের পর বছর ধরে অনুমোদনহীন ইটভাটা চলে? শিশুদের স্বাস্থ্য ও শিক্ষার অধিকার কেড়ে নেওয়ার এই অপরাধের দায় কে নেবে? প্রশাসনের নীরবতা কি প্রভাবশালীদের অপরাধের লাইসেন্স? এলাকাবাসীর দাবি অবিলম্বে অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদ, বিদ্যালয়ের দখলকৃত জমি ফিরিয়ে দেওয়া এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। না হলে এই নীরবতা ইতিহাসে শিশুদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যর্থতা হিসেবেই চিহ্নিত হবে।
- দৈনিক আমাদের কণ্ঠ: দেশজুড়ে, প্রকাশিত সংবাদ, শীর্ষ সংবাদ, সংবাদ শিরোনাম, সারাদেশ