মোঃ মিজানুর রহমানঃ
পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া থানাধীন মহিপুর ইউনিয়নের ভুমি অফিসে টাকা ছাড়া মিলছে না সেবা। ভারপ্রাপ্ত সহকারী ভূমি কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা নিজেই কাজের ধরন ও জমির পরিমাণ অনুযায়ী ঘুষের হার নির্ধারণ করে থাকেন।
আমাদের কন্ঠের প্রতিবেদকের অনুসন্ধানে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মহিপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা কয়েকজন দালাল নিয়ে অফিসে বসে মিটিং করছেন।
সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে দ্রুত দালাল চক্র অফিস ত্যাগ করেন এবং ভারপ্রাপ্ত ভূমি সহকারী কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, উনারা প্রাহক তবে দালাল চক্রের কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা গেল তারা কেউ নিজের কাজ নিয়ে আসেনি অন্যের কাজ করতে এসেছেন ভূমি অফিসে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ নামজারিতে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা নেয়া হয় এই ভূমি অফিসে। এই বিষয়ে ভূমি সহকারী কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফাকে প্রশ্ন করলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে না পেরে চুপ হয়ে যান এবং তার জরুরী কাজ আছে বলে দ্রুত অফিস থেকে বেরিয়ে যান।খোঁজ নিয়ে আরও জানা গেছে, ভূমি-সংক্রান্ত সব কাজে সেবা গ্রহীতাদের গুনতে হয় অতিরিক্ত টাকা, নয় তো পড়তে হয় সীমাহীন ভোগান্তিতে। অনিয়ম, ঘুষ, দুর্নীতি, হয়রানি নানা অভিযোগ উঠেছে এ ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে ভূমি অফিসের চৌহদ্দিতে ঢুকলেই ভারপ্রাপ্ত ভূমি সহকারী কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফার নিজের করা আইন মানতে হয় ভূমিসেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে। এতে অসহনীয় ভোগান্তিতে পড়তে হয় সেবাগ্রহীতাদের।
আরও জানা গেছে, খাজনার দাখিলার জন্য (ভূমি উন্নয়ন করের রসিদ) সরকার নির্ধারিত ফির চেয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায় করলেও রসিদ দেয়া হয় সরকারি হিসাবে। এসবের মাধ্যমে প্রতি মাসে লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন এই ভূমি সহকারী কর্মকর্তা।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, নাম খারিজের বেলায় সরকারি নির্ধারিত ফি ১ হাজার ১৫০ টাকা হলেও অতিরিক্ত হিসেবে ১৫ হাজার টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা নেন এমনকি ব্যক্তি ভেদে কাগজের ঝামেলা বুঝে ইচ্ছামতো অংক নিয়ে নেন। এছাড়াও দাবিকৃত ঘুষের অর্থ দিতে অস্বীকার করলে নানা টালবাহানা করে জমির মালিকদের হয়রানি করেন তিনি।
অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে ভারপ্রাপ্ত এই ভূমি সহকারী কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা ঘুষ বাণিজ্য করে বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে অর্থ লেনদেনসহ নামে-বেনামে অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন তিনি। যেটা দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে তার আসল রহস্য এবং সম্পদের হিসাব।
এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসিন সাদেক বলেন, ওই অফিসে ঘুষ গ্রহণের বিষয়টি আমিও কিছুটা শুনেছি আপনার কাছে বিষয়টি শুনে আরো অবগত হলাম তবে খুব শীঘ্রই তদন্ত করে আগামী এক মাসের মধ্যে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। মহিপুর ভূমি অফিসের ঘুষ বানিজ্য নিয়ে আরো বিস্তারিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন আসছে দ্বিতীয় পর্বে, বিস্তারিত জানতে চোখ রাখুন আমাদের কন্ঠে।