মিঠাপুকুরে ময়েনপুর ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
বিস্তারিত জানতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ক্লিক করুন
Advertisement

রোকনুজ্জামান রুবেল (মিঠাপুকুর):
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার ৯নং ময়েনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো.মোকছেদুল আলম মুকুলের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলেছেন ওই পরিষদের নির্বাচিত ইউপি সদস্যরা। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর সদস্যদের স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, চেয়ারম্যান মো. মোকছেদুল আলম দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই পরিষদের কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা করছেন না। বিগত ৩০ মাস ধরে নারী সদস্য ও সাধারণ সদস্যদের মাসিক সম্মানী ভাতা প্রদান করা হয়নি। সদস্যরা ভাতার দাবি জানালে তাদের সঙ্গে কুরুচিপূর্ণ আচরণ ও অসদাচরণ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, এলজিএসপি বা অন্যান্য খাতের ১% বরাদ্দের প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা কোনো সদস্যকে অবগত না করে এবং কোনো প্রকার রেজুলেশন ছাড়াই চেয়ারম্যান এককভাবে আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়া পরিষদের টেন্ডার ও প্রকল্প কাজগুলো কোনো সাধারণ সভা ছাড়াই গোপনে দাখিল করা হয়। বিশেষ করে ৬, ৭ ও ৮ নং ওয়ার্ডে কোনো উন্নয়ন কাজ না করে জনমনে চরম বৈষম্য ও ক্ষোভ সৃষ্টি করেছেন তিনি। ট্রেড লাইসেন্স, জন্ম নিবন্ধন, মৃত্যু সনদ ও ওয়ারিশ কায়েম সনদসহ বিভিন্ন খাত থেকে সংগৃহীত কর ব্যাংকে জমা না দিয়ে চেয়ারম্যান নিজের খেয়ালখুশিমতো খরচ করছেন। এমনকি শুকুরেরহাট উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দকৃত ১২ লক্ষ টাকা কোনো সভা বা সিদ্ধান্ত ছাড়াই তিনি এককভাবে তুলে নিয়েছেন বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহিলা ইউপি সদস্য জানান,চেয়ারম্যান সাহেব আমাদের কোনো মূল্যায়ন করেন না। আমরা নারীরা পরিষদে নিজেদের কথা বলতে পারি না। দীর্ঘ ৩০ মাস ধরে আমাদের সম্মানী ভাতা আটকে রাখা হয়েছে, যা আমাদের জন্য অত্যন্ত মানহানিকর। ভাতার কথা বলতে গেলে তিনি অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ ও অশালীন আচরণ করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, চেয়ারম্যান এই ইউনিয়ন পরিষদকে নিজের বাপ দাদার সম্পত্তি মনে করে নানা রকম দূর্নীতি করে আসছে। তার ইচ্ছা মত লোক দিয়ে পরিষদটি পরিচালনা করছেন। সকল সরকারী বরাদ্দ নিজের পকেটে ভরেন। আর জনগণকে বলেন বরাদ্দ আসে নাই। এমনি আগের ইউপি সচিব এর যোগসাজশে এখনো পরিষদের কার্যক্রম বহাল রেখেছেন। বর্তমানে যিনি সচিব আছেন তাকে সকল কার্যক্রম থেকে বঞ্চিত করেছে। চেয়ারম্যান কীভাবে কী করে সচিব ও জানেন না।এই চেয়ারম্যান ইউনিয়ন পরিষদটি দূর্নীতির আখড়ায় পরিনিত করেছেন। আমরা এই চেয়ারম্যানের উপযুক্ত শাস্তি চাই।
এ বিষয়ে ইউপি সদস্য জাহেরুল ইসলাম, মামুন মিয়া, মিজানুর রহমান ও নাজমুল হক বলেন,আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি। কিন্তু চেয়ারম্যান আমাদের কোনো পাত্তাই দেন না। পরিষদের লাখ লাখ টাকা তিনি নিয়মবহির্ভূতভাবে খরচ করছেন। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ৯নং ময়েনপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. মোকছেদুল আলম মুকুল সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনীত এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। পরিষদের সকল কাজ নিয়ম মেনেই করা হচ্ছে। রাজনৈতিকভাবে আমাকে হেয় করতেই এই ধরনের অভিযোগ করা হয়েছে। এ বিষয়ে মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. পারভেজ বলেন, ময়েনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সদস্যদের একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে সত‍্যতা পেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। #

 

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
বিস্তারিত জানতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ক্লিক করুন
Advertisement

দৈনিক আমাদের কণ্ঠ

বিজ্ঞাপন