গোলাম মোছাব্বির :
কোন দেশের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থায় সংবাদপত্র হল রাষ্ট্রের ‘চতুর্থ স্তম্ভ’। প্রথম তিনটি স্তম্ভ রাষ্ট্র পরিচালনার মূল কাঠামো হলেও, সংবাদপত্র তাদের ওপর স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও গণতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে বেশ শক্তিশালী ভূমিকা পালন করে। এজন্যই সংবাদপত্র বা গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
এক সময় এই দেশের সাংবাদিকতা ছিল সত্যের অনুসন্ধান, সাধারণ জনগণের কণ্ঠস্বর এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক। সাধারণ মানুষ সাংবাদিকদের দেখতো সমাজের দর্পণ হিসেবে। তখন নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার মাধ্যমে দুর্নীতি, বৈষম্য, অবিচার ও রাষ্ট্রীয় অনিয়মের সংবাদ জনগণের সামনে তুলে ধরা যেত। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই নিরপেক্ষ সাংবাদিকতায় এক গভীর উদ্বেগ লক্ষ্য করা গেছে। সময় যত যাচ্ছে নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা তার জুলুস হারাচ্ছে। আগের তুলনায় সাংবাদিকতার মানও কমে গিয়ে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। নামে-বেনামে অতিরিক্ত সংবাদপত্রের আত্মপ্রকাশও চোখে পড়ছে। ফলে সাংবাদিকদের সংখ্যা যেমন বাড়ছে তেমনি অপ-সাংবাদিকতাও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে সাংবাদিকতার দিকে তাকালে দেখা যায় সাংবাদিকরা ক্রমশ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের দিকেই অধিকাংশ সাংবাদিকরা ঝুঁকে পড়ে, যা কয়েক বছরে দেখা গেছে। এর ফলে সাংবাদিকতার পেশাগত নীতিশাস্ত্র, স্বাধীনতা, এবং বিশ্বাসযোগ্যতা ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
বিগত তিন দশক ধরে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে বাংলাদেশের গণমাধ্যম বিশেষ করে সংবাদপত্র ও টেলিভিশন দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাব থেকে পুরোপুরি মুক্ত ছিল না। বরং দিনে দিনে এই প্রভাব কয়েকস্তরে দৃশ্যমানভাবে বেড়েছে। একদিকে সাংবাদিকরা রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়েছেন, অন্যদিকে কিছু রাজনৈতিক দলও সাংবাদিকদের কৌশলগত ভাবে ব্যবহার করছে। অনুসন্ধান করলে দেখা যাবে অনেক গণমাধ্যম এমন মালিকানার অধীনে রয়েছে, যারা সরাসরি কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শ বা দলকে সমর্থন করে। ফলে সম্পাদকীয় স্বাধীনতা কাঠামোগতভাবে সীমিত হয়ে পড়ে। সংবাদকর্মীরা যতই নিরপেক্ষ থাকতে চান না কেন, প্রতিষ্ঠানের নীতি-নির্ধারকরা তাদেরকে একসময় নিজের মতাদর্শের দলীয় স্বার্থেই ব্যবহার করতে থাকে। এছাড়া কিছু সাংবাদিক লোভে পড়ে নিজের নৈতিক অবক্ষয়ে পড়ে। আর সেই মোহে পড়ে সেসব সাংবাদিকরা রাজনৈতিক দল বা নেতার কাছ থেকে সরকারি সুবিধা, প্লট, বিদেশভ্রমণ, তদবিরের সুযোগ, বিজ্ঞাপন ও আর্থিক সাহায্যের ধান্ধায় থাকে। আর এই অনৈতিক লোভের কারণে একজন সাংবাদিকের নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বাধীনতা খর্ব হয় এবং সত্য সংবাদ প্রকাশের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়। আবার অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় সরকারি বিজ্ঞাপন বরাদ্দ, মিডিয়া লাইসেন্স, সম্প্রচারের অনুমতি ইত্যাদি ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব থাকায় সাংবাদিকরা অনেক সময় বাধ্য হয়ে রাজনৈতিক আনুগত্য দেখাতে বাধ্য হয়। এর ফলে প্রতিটি ক্ষমতাসীন দলের সময়ে একটি চক্র তৈরি হয় যেখানে সাংবাদিকরা রাজনৈতিক দলের প্রতি আনুগত্য দেখান, আর দলগুলো তাদের রাজনৈতিক প্রচার-প্রসারের ক্ষেত্রে সেসব সাংবাদিকদের ব্যবহার করেন।
সাংবাদিকতার প্রথম শর্ত হল সত্য ও ন্যায়ের পথে থাকতে হবে। কিন্তু একজন সাংবাদিক যখন একটি রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রতি প্রকাশ্যে বা গোপনে আনুগত্য হয়ে পড়ে, তখন তার কাছে সত্য ও নিরপেক্ষতা এক থাকে না। বরং তার কাছে ঐ দলীয় স্বার্থে মানানসই তথ্যই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে। এর ফলে সত্যকে আড়াল করা বা বিকৃত করা অথবা কোনো কোনো সত্যকে গুরুত্বহীন করে তোলার প্রবণতা বাড়ে তারই সাংবাদিকতায়। এর মধ্যে কিছু সাংবাদিক আবার একইসঙ্গে রাজনীতির সক্রিয় প্রচারক, দলের উপদেষ্টা কিংবা দলীয় প্রচারে যুক্ত হন। এর ফলে তাদের পেশাগত নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ণ হয়। সাংবাদিকতার নীতি অনুযায়ী, একজন সাংবাদিক কোনোভাবেই রাজনৈতিক দল বা প্রার্থীর প্রচারক হতে পারে না। কিন্তু আসল বাস্তবতা হলো, অনেকেই একইসঙ্গে দুই ভূমিকা পালন করছেন যা বর্তমান সমাজে দৃশ্যমান। এছাড়া দেশে নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা কমে যাওয়ার আরেকটি কারণ হল অধিকাংশ সাংবাদিকের বেতন কম। অনেক সময় চাকরির নিশ্চয়তাও থাকে না। ফলে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত হওয়া তাঁদের কাছে অর্থনৈতিক সুরক্ষা বলে মনে হয় এবং সামাজিক প্রভাব বিস্তারে তারা অনেকাংশে ভরসা পান। তাই যখন সাংবাদিকরা কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি পক্ষপাত দেখান, তখন তার গণমাধ্যমের নির্ভরযোগ্যতাও প্রশ্নবিদ্ধ হয়। ফলে দলীয় আনুগত্যের কারণে সাংবাদিকরা অনেক সময় যাচাই বাছাই ছাড়া রাজনৈতিক বার্তা, গুজব বা প্রোপাগান্ডা প্রচার করেন। তখন মানুষ প্রকৃত বাস্তবতা বা সত্য জানতে পারে না। এতে করে জনগণ বিভ্রান্ত হন এবং দেশে অপসাংবাদিকতার প্রসার ঘটে।
দেশের বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলে অনুসন্ধান করলে দেখা যায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মী বা পদধারীও নিজেদের সাংবাদিকতার পেশায় আনতে ব্যতিব্যস্ত। এর কারণ অনুসন্ধানে জানা যায় স্থানীয় প্রশাসন অনেক ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক উচ্চমহলের নেতা ছাড়া ছোটখাটো নেতাদের কোন তদবির শুনেন না। এছাড়া বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ বা নিজেদের দোষ ঢাকতে অনেক সময় প্রশাসনের প্রয়োজনীয়তা পড়ে তখন যেন প্রশাসনের সহযোগিতা পান সেজন্যই সাংবাদিকতার প্রতিনিধি হতে চান ঐসব পাতিনেতারা। তাছাড়া নিজেকে সাংবাদিক বলে জাহির করে থানা-প্রশাসনকে নিজের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যায়। ফলে অনেকেই রাজনীতির পাশাপাশি বিভিন্ন পত্রিকার প্রতিনিধির কার্ড নিতে অনেক অর্থও লগ্নি করেন। এছাড়া লোকাল পর্যায়ে কিছু অসাধু পত্রিকার মালিক আছেন যারা পত্রিকা নিয়মিত প্রকাশ করতে পারেন না অর্থের অভাবে ও সঠিক স্পনসরের ঘাটতি থাকায়। সেসব পত্রিকার মালিকরাই তখন বিভিন্ন ধান্ধাবাজ ও চাঁদাবাজ রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বেছে নেন পত্রিকা প্রকাশনার ইনভেস্টর হিসেবে। ফলে একটি পত্রিকা নিমেষেই হয়ে উঠে দলীয়করণ। তখন সেই পত্রিকা নিরপেক্ষতা হারায় এবং সত্য সংবাদ প্রকাশে পুরোপুরি বিচ্যুতি হয়। এছাড়া রাজনৈতিক নির্বাচনের সময় ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিক পরিচয়ে অনুপ্রবেশ করতে অনেক রাজনৈতিক ব্যক্তি সাংবাদিকতার কার্ডধারী হয়ে থাকেন। এছাড়া নিজের অপরাধ ঢাকতে কিংবা নিজের বড় কোন দুর্নীতি ঢাকতে সাংবাদিকতার লাইনে আসেন অনেক রাজনৈতিক ব্যক্তি। ফলে সাংবাদিকতায় তাদের এই অনুপ্রবেশ প্রকৃত ও পেশাদার সাংবাদিকদের মন ক্ষুন্ন করে এবং প্রকৃত সাংবাদিকতা কুলসিত হয়। দেখা যায় এসব সাংবাদিক মুখোশধারী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের জন্য যেসব সৎ নীতিবান পেশাদার সাংবাদিকগণ নিরপেক্ষ থাকার চেষ্টা করেন, তারা প্রায়ই হয়রানি, রাজনৈতিক চাপ, করপোরেট প্রভাব, এমনকি সামাজিক বয়কটের সম্মুখীন হন। ফলে প্রকৃত স্বাধীন সাংবাদিকতার পথ অনেকটায় সংকুচিত হয়। আর এসব সাংবাদিকতার দলীয়করণ শুধু পেশাগত নৈতিকতার সংকট নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা, গণতন্ত্র এবং নাগরিক স্বাধীনতার ওপরও গভীরভাবে প্রভাব ফেলে।
বর্তমান সাংবাদিকতায় আরও একটি সংকট দেখা দিয়েছে। আর সেটি হল আজকের ডিজিটাল যুগে সাংবাদিকরা শুধু পেশাগত সংবাদমাধ্যমেই নয়, বরং ব্যক্তিগত ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক বা টুইটারে নিজের মত করে রাজনৈতিক সংবাদের প্রচার চালাচ্ছে। ফলে বুঝা যায় না কোন সংবাদটি নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ থেকে করা এবং কোন সংবাদটি রাজনৈতিক মদদে করা। বরং অনেকে সাংবাদিকতার ট্যাগ লাগিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের রাজনৈতিক ব্যক্তিগত মতামত সংবাদ হিসেবে প্রকাশ করছে। ফলে প্রকৃত অনলাইন সাংবাদিকতার মান হারাচ্ছে। শুধু তাই নয় অনেক অশিক্ষিত ও অযোগ্য ব্যক্তি অর্থের বিনিময়ে সাংবাদিক প্রতিনিধি হয়ে বিভিন্ন নামে-বেনামের পত্রিকার প্রতিনিধি হিসেবে নিজেকে জাহির করে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন গুজব বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সংবাদ প্রচার করছে। এই ক্ষেত্রে এই ধরনের অযাচিত সংবাদে পাঠকরা বিভ্রান্ত হয়ে যায়। পাঠকরা তখন বুঝতে পারে না এটি কি কথিত সেই সাংবাদিকের পেশাগত বক্তব্য নাকি কোন রাজনৈতিক প্রচারের অংশ।
রাজনৈতিক কারণে বর্তমানে পেশাদার সাংবাদিকদের মাঝেও বিভাজন ও সংঘাত দেখা যায়। বর্তমানে দেশে সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠন রাজনৈতিক ধারায় বিভক্ত। ফলে বিভিন্ন সময় একই ঘটনার ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। সাংবাদিক সংগঠনগুলো ও ইউনিয়নগুলোর অচলাবস্থা, পারস্পরিক অবিশ্বাস, সংগঠনের রাজনৈতিক দখল সব মিলিয়ে পেশাটি আরও দুর্বল হয়ে পড়ছে। দেশের সাংবাদিকতা এখন এক সন্ধিক্ষণে।
রাজনৈতিক দলগুলো সাংবাদিকদের তাদের স্বার্থে ব্যবহার করতে চাইবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সাংবাদিকতা কোনো দলের নয় এটি জনগণের, সত্যের, এবং মানবাধিকারের পক্ষে দাঁড়ানোর পেশা। যখন একজন সাংবাদিক রাজনৈতিক দলের কর্মী হয়ে যান, তখন তিনি আর সাংবাদিক থাকেন না, তিনি হয়ে ওঠেন একজন রাজনৈতিক প্রচারক। আর রাজনৈতিক প্রচারক ও সাংবাদিক একই ব্যক্তি হলে গণতন্ত্রের ক্ষতি হয়, সত্য চাপা পড়ে, সমাজ বিভক্ত হয়। অতএব, সাংবাদিকদের উচিত নিজেদের পেশাগত মর্যাদাকে আবার নতুন করে উপলব্ধি করা। সাংবাদিকতা এমন এক যুদ্ধ যা সত্যের যুদ্ধ, ন্যায়ের যুদ্ধ। এই যুদ্ধে বিজয়ী হতে হলে দাঁড়াতে হবে নিরপেক্ষ অবস্থানে, সত্যের পাশে, জনগণের পাশে। দেশে সাংবাদিকতা আবারও মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে যদি সাংবাদিকরা নিজেদের দলীয় পরিচয়ের দেয়াল ভেঙে সত্য ও নীতির পথে ফিরে আসে। বিশ্বের প্রতিটি দেশেই সংবাদপত্রকে বিশেষ মর্যাদা দান করেছে। সংবাদপত্রের এই মর্যাদার মূল কারণ হলো সত্য তথ্য প্রদান, ক্ষমতার অপব্যবহার তুলে ধরা এবং জনমত গঠনে স্বাধীন ভূমিকা রাখা। কারণ রাষ্ট্রের বাকি তিনটি স্তম্ভ যাতে জনগণের স্বার্থে কাজ করে এবং কর্তৃত্বের অপব্যবহার না করে, তা নিশ্চিত করতে গণমাধ্যম একটি নিরপেক্ষ পরিদর্শকের ভূমিকা পালন করে।
একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধির দেশ গঠনে নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সত্য তথ্য তুলে ধরতে ও তার অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার বিকল্প নেই। মূলত নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা তথ্যকে বিকৃত না করে, কোনো দল বা ব্যক্তি বিশেষের স্বার্থে প্রভাবিত না হয়ে জনগণের কাছে সত্য তুলে ধরে। একটি দেশ তখনই গণতান্ত্রিকভাবে বিকশিত হয় যখন সেই দেশের নাগরিকরা যথাযথ তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে মতামত দিতে পারে। আর এতে করে নিরপেক্ষ সাংবাদিকতায় যেসব তথ্য-উপাত্ত উঠে আসে তা ভোটার ও নাগরিকদের সচেতন করে এবং রাজনৈতিক শাসনব্যবস্থায় ভারসাম্য রক্ষা করে।
নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে। যখন সরকার, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কিংবা রাজনৈতিক শক্তির কোনো অপব্যবহার হয় তখন তা প্রথম প্রকাশ করে গণমাধ্যমই। মূলত সাংবাদিকতার সাহসী ও নিরপেক্ষ ভূমিকায় কোন সমাজ বা ব্যক্তি বা দলের দুর্নীতি, অনিয়ম, আর্থিক কেলেঙ্কারি, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং ক্ষমতার অস্বচ্ছতার সংবাদগুলো প্রকাশ করতে সক্ষম হয়। আদিকাল থেকে একটি দেশের গণতন্ত্র তখনই ঠিকঠাকমতো চলে যখন সবার মত প্রকাশের অধিকার নিরাপদ ও স্বীকৃত হয়। আর সেই নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা সেই পরিবেশ তৈরি করে, যেখানে মানুষ নিজের মনের ভাব বা কথাগুলো নির্ভয়ে বলতে পারে। মূলত সঠিক তথ্য সাধারণ জনগণকে বিভ্রান্তি, গুজব, উসকানি ও মেরুকরণ হতে সুরক্ষা রাখে। তাই নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা সামাজিক সম্প্রীতিতে ব্যাপক অবদান রাখে।
পরিশেষে বলা যায়, সংবাদপত্র রাষ্ট্রের শুধু “চতুর্থ স্তম্ভ” নয়, বরং এটি একটি দেশের গণতন্ত্রের রক্ষাকবচ। নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা ছাড়া জনগণ সত্য জানতে পারে না, রাষ্ট্র জবাবদিহিহীন হয়ে পড়ে এবং সমাজ অস্থির হয়ে ওঠে। তাই একটি দেশকে টেকসই, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিকভাবে এগিয়ে নিতে হলে স্বাধীন, সাহসী ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার বিকল্প নেই।
গোলাম মোছাব্বির-লেখক ও কলামিস্ট