জেলা প্রতিনিধি(বরিশাল):
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (শেবাচিম) সামনে থেকে এক চিহ্নিত রোগী দালাল নুরুন্নাহারকে আটক করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা। বুধবার বিকেলে চলমান আন্দোলনের মধ্যেই এক রোগীকে বাগানোর চেষ্টা করলে হাতেনাতে ধরা পড়ে সে। কয়েকদিন ধরে শেবাচিমে সিন্ডিকেট দমন, অনিয়ম-দুর্নীতি প্রতিরোধ ও উন্নত স্বাস্থ্যসেবার দাবিতে আন্দোলন চলছে।
আন্দোলনকারীদের মাঝে নিয়মিত অংশ নিয়ে স্লোগান দিত নুরুন্নাহারও। অথচ হাসপাতালের কোনো আনুষ্ঠানিক পদে না থেকেও দীর্ঘদিন ধরে ডায়াগনস্টিক বাণিজ্য ও ট্রলি সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণ তার হাতেই ছিল।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, অধিকাংশ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সাথে নুরুন্নাহারের সরাসরি চুক্তি রয়েছে। জরুরি বিভাগে ট্রলি ব্যবহার নিয়েও গড়ে তোলে চক্র। অভিযোগ রয়েছে, ট্রলি ইচ্ছাকৃতভাবে তালাবদ্ধ করে রাখা হতো, যাতে রোগীর স্বজনরা নিরুপায় হয়ে দালালদের শরণাপন্ন হয়। এতে রোগীরা হয়রানি ও অতিরিক্ত খরচের শিকার হতেন। অভিযোগ রয়েছে, নিজের স্বার্থ রক্ষায় কখনো ওয়ার্ড মাস্টারের নাম ব্যবহার করে আসল অপরাধীদের আড়াল করতেন নুরুন্নাহার। আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্ররাও স¤প্রতি তাকে স্লোগান দেওয়া থেকে বিরত থাকতে বলেন।
শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ.কে.এম. মশিউল মুনীর বলেন, “নুরুন্নাহার অত্যন্ত ধূর্ত ও প্রভাবশালী। তার বিরুদ্ধে রোগী ও স্বজনদের কাছ থেকে অসংখ্য অভিযোগ পেয়েছি। অনেক সময় সে রোগীর স্বজনদের শারীরিকভাবেও হয়রানি করেছে। স্থানীয়রা বলছেন, নুরুন্নাহারের গ্রেপ্তার দালাল সিন্ডিকেট ভাঙার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলেও, হাসপাতালকে সত্যিকার অর্থে দালালমুক্ত করতে হলে তার সহযোগী চক্রকেও আইনের আওতায় আনতে হবে।